ক্যাটেগরিঃ অর্থনীতি-বাণিজ্য

আমি আসলে তেমন একটা লেখালেখি করি না, আসলে সময় ও করে উঠতে পারি না। তবুও লিখসি কারন আমি রক্ত মাংসের মানুষ, মানুষের সমস্যা আমাকেও কাদায়।

বাংলাদেশ এর ৩২ লাখ মানুষ আজ ফাটা বাঁশের চিপায় আটকা পড়ে আছে এই কথাটা হয়তো খারাপ শুনায় , কিন্তু কথাটা সত্য। মনে হয় অনেকেই বুজতে পারছেন বিষয়টা কি। হাঁ, আমি শেয়ার বাজার এর কথা বলছি। এদেশের প্রায় ৯০ ভাগ বিনিয়োগকারী আজ নিঃস্ব। শেয়ার বাজার নিয়ে সরকারের তেলেসমাতি কাজকারবার তবুও থেমে নাই। এক এক দিন এক একটা নীতি প্রণয়ন বাজারকে আরও অস্থির করে তুলছে। বাংলাদেশের শেয়ার বাজারে চলছে ক্রমাগত দরপতন। আজ সকালে নিউজ এ দেখলাম সরকার নীতি করেছে সরকারি চাকরিজীবীরা শেয়ার বাজার এ বিনিয়োগ করতে পারবে না, কিন্তু কেন? আমি জানতে ছাই কেন এই সিদ্দান্ত? এই আগুনে আজকে বাজার অফ। আর গতকাল তো ছিল কঠিন পতনের দিন।

প্রিয় পাঠকেরা, আমরা সাধারন মানুষ বোধ হয় ছাগলের ৩ নং বাচ্চা। একদা যখন শেয়ার বাজার এ বিনিয়োগ আসছিল না তখন আমাদের অর্থমন্ত্রী ও অন্যান্য কর্তারা সাধারন মানুষকে ডেকে এনে বাজার এ বিনিয়োগ করিয়েছিল। সাধারন মানুষ শেয়ার বাজার সম্পর্কে এত ভাল জানেনা। তারা লাভের আশায় বিনিয়োগ করল, চাকুরিজিবিরা তাদের বেতন থেকে জমান টাকা বিনিয়োগ করল, ছাত্র ছাত্রীরা তাদের মা বাবার জমানো টাকা নিয়ে আসলো শেয়ার বাজার এ। এটা বেকার এর দেশ, এখানে মানুষ কিছু লাভ হবে দেখলেই জমা শেষ অবলম্বনটা বিনিয়োগ করে কিছু উপার্জন করে বাচতে চায়। লাভ দেখে মানুষ করেছেও তাই।

ঠিক সেই মুহূর্তে আমাদের জুয়াড়িরা সরকারের ছত্রছায়াতে মানুষকে কঠিন ধোঁকা দিল। হাজার হাজার কোটি টাকা বাজার থেকে লুটে নিল। অইখানে আপনার আমার বাছার শেষ সম্বল ও ছিল। আমি ও একজন ভুক্তভুগি, আমার ও প্রথম জীবনের সব উপার্জন গেলো।

সাধারন মানুষ আশায় থাকে, একদিন বাজার ঠিক হবে। আসলে টা হচ্ছে না, হয়তো হবে ও না। সরকার থেকে থেকে বাণী শুনাবে, মানুষ তা শুনে আশায় বুক বাঁধবে। এই চলতে থাকবে এখানে।

বিনিয়োগকারীদের লোকসান এত বেশী যা স্বীকার করে তারা বিনিয়োগক্রিত টাকা তুলে নিচ্ছে না, আবার যে হারে দৈনিক লোকসান এর অংক বাড়ছে তার মধ্যে বাজার এ থাকতে ও পারছে না। এক কথায় সব বিনিয়োগকারী এখন আটকে আছে ফাটা বাশের চিপায়। নড়া দিলেও যন্ত্রনা, না দিলেও যন্ত্রনা।