ক্যাটেগরিঃ প্রযুক্তি কথা

 

আমি সাধারণত রবির ৩ জিবি একটা নেটের প্যাকেজ ব্যবহার করতাম যার মূল্য ৫১৭.৫০ টাকা। এ মাসে প্যাকেজের মেয়াদ শেষ হলে সিমে হিসেব কষে ৫২০ টাকা রিচার্জ করলাম। বেশি রিচার্জ করলে নির্ধারিত ডাটা ব্যবহার শেষে যে মূল ব্যালেন্স থেকে অবশিষ্ট টাকাই গুম করে দেবে!

অভাগা যেদিকে যায়, সাগর শুকিয়ে যায়! প্যাকেজ কিনতে গিয়ে দেখি রবি ৩ জিবির সেই প্যাকেজটাই বাদ দিয়ে দিয়েছে! এদিকে সিমে টাকা রিচার্জ করা হয়ে গেছে। যেহেতু রবি নাম্বার কথা বলার জন্য ব্যবহার করি না, তাই নেটের যে কোনো প্যাকেজ কিনে টাকাটা তো ব্যবহার করতে হবে!

মোবাইলে সার্চ দিয়ে জেনে অগত্যা ৩৯৯ টাকা দিয়ে ২ জিবির একটা প্যাকেজ কিনলাম। তবে এখানেও শর্ত প্রযোজ্য। এই ২ জিবির মধ্যে ১ জিবি ব্যবহার করা যাবে দিন-রাত যে কোনো সময়, আর ১ জিবি ব্যবহার করা যাবে শুধু রাত ১ টা থেকে সকাল ৬ টা পর্যন্ত! উপায় না থাকায় এটাই ব্যবহার করা শুরু করলাম।

এখন, মোট কতটুকু ডাটা ব্যবহার করেছি তা না হয় জানতে পারি কিন্তু কোন সময়ের ডাটা কতটুকু ব্যবহার করেছি তা জানার কোনো পদ্ধতি হেল্প লাইনে ফোন করেও জানা গেল না! হেল্প লাইনের এক বুদ্ধির জাহাজ আমাকে পরামর্শ দিলেন ব্যবহারের সময় আমি যেন হিসেব করে রাখি! অদ্ভুত!!

পাপ যখন করেছি, পাপের বোঝা তো আমাকেই বহন করতে হবে! আগে জানলে না হয় খাতা কলম নিয়ে বসে মেগাবাইট, কিলোবাইটের হিসেব লিখে রাখতাম কিন্তু তা যেহেতু করিনি, এখন করবোটা কী!

রবির ইন্টারনেট ব্যবহারে বিড়ম্বনা!

প্যাকেজ কেনার পর এখনো একাউন্টে ১২১ টাকার মত ব্যালেন্স অবশিষ্ট আছে!!! কখন যে কোন প্যাকেজের ডাটা শেষ হয়ে আমার মূল ব্যালেন্সে দাঁত বসাবে বুঝতে পারছি না।

এভাবেই মোবাইল কোম্পানি গুলো ফাঁদে ফেলে মানুষকে প্রতারিত করার অজস্র গর্ত খুঁড়ে রেখেছে। ছোট্ট করে লেখা ‘শর্ত প্রযোজ্য’ নামক ফাঁদও তো আছেই! ধরা খাওয়া খুবই সোজা! ধরা খেলেই মানুষ বোঝে তবে তখন আর উপায় থাকে না!

দায় হীনতার এদেশে কেউ কোনো কাজের দায় নেয় না। তাই রবিরও কোন দায় নেই!
আমিই আমার দায় স্বীকার করছি। আমি যেহেতু রবির সার্ভিস ব্যবহার করতে গিয়েছি, তাই এ বিড়ম্বনার সকল দায় কেবল আমারই!