ক্যাটেগরিঃ স্বাস্থ্য

এইচআইভি এবং এইডস বিষয়ে সতর্ক হোন

১ ডিসেম্বর, ওয়ার্ল্ড এইডস ডে। ‘এইচআইভি’ নামক ভাইরাসের মাধ্যমে হওয়া মরণব্যাধি ‘এইডস’ নিরাময়ের কোনো প্রতিষেধক এখনো আবিষ্কৃত হয়নি। ‘এইচআইভি’ বিস্তারে যেহেতু যৌন সম্পর্ক একটি অন্যতম মাধ্যম হিসেবে কাজ করে, তাই আমাদের মতো রক্ষণশীল সমাজে ‘এইচআইভি’ এবং ‘এইডস’ বিষয়টা যেন একটা ট্যাবু হিসেবেই বিবেচিত হয়। ফলে এটি নিয়ে আলাপ আলোচনা করতেও অনেকে বিব্রত বোধ করেন, যা একেবারেই অনুচিত। আলাপ আলোচনার মাধ্যমে মানুষকে সচেতন করতে পারলেই এ মরণব্যাধি থেকে সবার জীবন সুরক্ষিত হতে পারে।

 

বাংলাদেশের একটি অন্যতম এনজিও অ্যাকশনএইড। ‘এইচআইভি’ এবং ‘এইডস’ নিয়ে অ্যাকশনএইডের একটি পাইলট প্রজেক্টে আমার বেশ কিছুদিন কাজ করার সুযোগ হয়েছে। একজন বিখ্যাত ভারতীয় প্রশিক্ষক বেশ কয়েকদিন ধরে এ বিষয়ে আমাদের বিস্তারিত প্রশিক্ষণ দেন। প্রশিক্ষণ শেষে আমরা বিভিন্ন স্কুল/কলেজে গিয়ে স্টুডেন্টদের সাথে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলাপ আলোচনা করে তাদের বিভিন্ন ভুল ধারণা দূর করতে সচেষ্ট হই। একই সাথে প্রাসঙ্গিক ভাবেই কৈশর/তারুণ্যের বিভিন্ন বিষয়ও আলোচনায় উঠে আসে। লজ্জা পেয়ে নয়, খোলামেলা ভাবে তাদের সাথে প্রাণবন্ত আলোচনা হয়। প্রথম দিকে কিছু কথা বলতে সামান্য দ্বিধা হলেও পরে জড়তাটা একেবারেই কেটে যায়!
যা হোক, ‘এইচআইভি’ এবং ‘এইডস’ নিয়ে সামান্য আলোচনা করা যাক। নিশ্চয় সকলে অবগত আছেন, ‘এইচআইভি’ একটি ভাইরাসের নাম এবং এই ভাইরাসের মাধ্যমেই ‘এইডস’ নামক মরণ ব্যাধি হয়। মনে রাখতে হবে, ‘এইচআইভি পজেটিভ’ হওয়া মানেই কিন্তু ‘এইডস আক্রান্ত’ হওয়া নয়। ‘এইচআইভি’ দীর্ঘ দিন মানুষের শরীরে সুপ্ত অবস্থা থাকতে পারে। ‘এইচআইভি’ আক্রান্ত ব্যক্তি ধীরে ধীরে ‘এইডস’ এর দিকে ধাবিত হন।
‘এইচআইভি’ কোনো ছোঁয়াচে ভাইরাস নয়। তিন ধরণের তরলের মাধ্যমে এটি ছড়ায়। যথা:
১. রক্ত
২. বীর্য
৩. মায়ের দুধ
সুতরাং ‘এইচআইভি’ আক্রান্ত ব্যক্তি হলেই যে তিনি যৌন সম্পর্কের মাধ্যমে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন, প্রচলিত এমন ধারণা সম্পূর্ণ ভুল।
আক্রান্ত ব্যক্তির সাথে স্বাভাবিক সামাজিক সম্পর্ক বজায় রাখায় কোনো সমস্যা নেই। বরং কোনো আক্রান্ত ব্যক্তির সাথে খারাপ ব্যবহার করলে বা তাকে সামাজিকভাবে হেয় করলে তিনি আক্রান্ত হবার কথা গোপন করতে পারেন। ফলে এই মরণ ব্যধির বিস্তারের পথ উন্মুক্ত হবে। তাই ‘এইচআইভি’ এবং ‘এইডস’ আক্রান্ত ব্যক্তির সাথে সকলেরই সুন্দর স্বাভাবিক সামাজিক সম্পর্ক বজায় রাখা উচিত।
প্রতিষেধক যেহেতু নাই, প্রতিরোধই ‘এইচআইভি’ এবং ‘এইডস’ থেকে বাঁচার একমাত্র উপায়। চলুন, বাঁচার উপায় নিয়ে আলোচনা করা যাক।
# রক্ত গ্রহণের পূর্বে অবশ্যই তা এইচআইভি মুক্ত কিনা তা পরীক্ষা করে নিতে হবে।
# ‘এইচআইভি’ এবং ‘এইডস’ আক্রান্ত মায়ের বাচ্চাকে বুকের দুধ খাওয়ানোর আগে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।
# অনিরাপদ যৌন সম্পর্ক থেকে বিরত থাকতে হবে। এক্ষেত্রে ABC মেনে চলা উচিত। ভাবছেন ABC আবার কী!! চলুন দেখি…
A= Abstinence
[যৌন সম্পর্ক থেকে বিরত থাকতে হবে]
B= Be Faithful
[প্রথমটা সম্ভব নয়? তাহলে সঙ্গীর প্রতি বিশ্বস্ত থাকতে হবে]
C= Condom
[দ্বিতীয়টাও সম্ভব হচ্ছে না? তাহলে যৌন সম্পর্কের ক্ষেত্রে অবশ্যই কনডম ব্যবহার করতে হবে।]
‘এইচআইভি’ এবং ‘এইডস’ নিয়ে নিজে জানুন এবং অপরকে জানান। এটা লজ্জার বা গোপনীয় কোনো বিষয় নয়। সকলের সচেতনতাই পারে মনুষ্যজাতিকে এই মরণব্যাধির হাত থেকে বাঁচাতে। সকলে সচেতন হোন, নিরাপদে থাকুন।