ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

কারো মৃত্যু উল্লাসের কারণ হিসেবে বিবেচনা করা অনুচিৎ।
মৃত্যু সর্বদাই দুঃখজনক। আর সে মৃত্যু যদি হয় অকালে তবে তা অনেক বেশি বেদনা দেয়।

পিতা মাতার সামনে যদি সন্তানের মৃত্যু ঘটে তবে তার চেয়ে বেশি কষ্টকর কিছু এ পৃথিবীতে আর আছে কিনা জানি না। রাজনৈতিক সন্ত্রাসে প্রতিদিনই অগ্নিদগ্ধ হয়ে হাসপাতালের বিছানায় ধুঁকছে মানুষ, ভারী হচ্ছে লাশের মিছিল। এই সব মৃত মানুষদের স্বজনরা কাঁদছেন, কাঁদছে পুরো বাংলাদেশ। কেবল সে কান্না পৌঁছাচ্ছে না সন্ত্রাসের কুশীলবদের কানে।

আজ আরাফাত রহমান কোকো মারা গেছেন। সব পরিচয়ের ঊর্ধ্বে খালেদা জিয়ার পরিচয় তিনি একজন মা। সন্তানের মৃত্যুশোক যে কত কঠিন আজ হয়তো তিনি অনুভব করছেন। কিন্তু আমরা জানি না আজকের সন্তান হারানোর তীব্র শোকের মধ্যদিয়ে হলেও তিনি আগুনে পুড়ে মরা মানুষগুলোর মাতা-পিতা-স্বজনদের সুতীব্র যাতনা অনুভব করবেন কিনা।

ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়। দুনিয়ার শাশ্বত সত্য হলো মৃত্যু। যতো ক্ষমতাবান ব্যক্তিই হোন না কেনো, তাকে একদিন মৃত্যুর মুখোমুখি হতেই হবে। আর এ নশ্বর জীবনে যদি মানুষের কল্যাণে কিছু নাই করা হয় তবে জন্ম যে বৃথা যাবে! মানুষের কল্যাণ তো দূরে থাক, আমাদের দেশের রাজনীতিবিদরা মেতেছেন মানুষ মারার খেলায়।

কোকোর মতো দেশের আর দশজন সাধারণ মানুষের অকাল মৃত্যুও আমাদের ব্যথিত করে। আমাদের দেশের নেতা-নেত্রীরা যতো দ্রুত ক্ষমতার লড়ায়ের নষ্ট রাজনীতি থেকে বের হতে পারবেন, তাদের নিজের জন্য তো বটেই একই সাথে দেশ ও জাতির জন্য ততোই মঙ্গল। এমন পরিবেশ যেন তারা সৃষ্টি না করেন যাতে তাদের মৃত্যু সংবাদে মানুষ উল্লসিত হয়।

সকলের শুভবুদ্ধির উদয় হোক, মুক্তি পাক বাংলাদেশের মানুষ, মুক্তি পাক মানবতা।