ক্যাটেগরিঃ প্রশাসনিক

 
55_public+toilet_Azimpur+bus+stand_08042015_0003

ঢাকা মহানগর এমন একটা জায়গা যেখানে গুগলে সার্চ করেও পাবলিক টয়লেট খুঁজে পাওয়া প্রায় অসম্ভব। কোটি মানুষের এ শহরে এক এক ভয়াবহ নাগরিক যাতনা। দেশের অন্যান্য শহরের চিত্রও প্রায় অভিন্ন।

রাস্তায় বের হওয়ার পর যদি কখনো তীব্র নিম্নচাপ অনুভূত হয় তবে গণ-শৌচাগারের অভাবে অবস্থা কত ভয়াবহ হতে পারে তা সহজেই অনুমেয়। ফলে বাধ্য হয়েই যত্রতত্র মুত্রত্যাগের ঘটনা ঘটে যা পরিবেশের জন্য মোটেই সুখকর নয় এবং নাগরিকদের জন্য বিব্রতকরও বটে। বলতে খারাপ লাগছে কিন্তু বাস্তবতা হলো এরূপ পরিস্থিতিতে নারীদের ভোগান্তির মাত্রা সবচেয়ে বেশি।

এই নাগরিক সমস্যার প্রকৃত ও স্থায়ী সমাধান না করে দায়িত্বপ্রাপ্ত মহামান্যগণ এক অদ্ভুত এবং হাস্যকর সমাধান খুঁজে বের করেছেন। চিহ্নিত মুত্রত্যাগের স্থানগুলোতে আরবি হরফে মূত্রবিসর্জন সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা লেখা হবে। এদেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠী যেহেতু ধর্মীয় ভাবে আরবি ভাষাকে শ্রদ্ধার চোখে দেখে তাই সে ভাষায় লেখা দেখলে তারা মূত্র বিসর্জনের জন্য ঐ সকল স্থান এড়িয়ে চলবে-এই হলো যুক্তি!

এত সহজেই সমস্যার সমাধান হলে তো বেশ হতো! কিন্তু প্রশ্ন হলো, আরবি লেখা দেখে মানুষ সাময়িক হয়তো ঐ সকল স্থান এড়িয়ে চলবে কিন্তু তাতে কি তার নিম্নচাপ প্রশমিত হবে? সোজা উত্তর হলো: না।

পর্যাপ্ত গণ-শৌচাগার যেহেতু নেই তাই বাস্তবতার প্রয়োজনে ঠিকই সে অন্য স্থান খুঁজে নেবে। আর মানুষ যখন একসময় ঐ সকল স্থানে আরবি লেখার প্রকৃত বিষয়বস্তুটি অনুধাবন করবে তখন ধীরে ধীরে অবচেতন ভাবেই আরবি ভাষার প্রতি শ্রদ্ধাবোধটুকু ভুলে ঠিকই একই স্থানে উক্ত কর্মে প্রবৃত্ত হবে।

ভোগ এবং ত্যাগ মানুষের স্বাভাবিক জৈবিক প্রক্রিয়া। কোনো ভাবেই এটি রুদ্ধ করা সম্ভব নয়। তাই পরিবেশটা হওয়া উচিৎ স্বাস্থ্যকর। নাগরিক এই ভোগান্তির একমাত্র স্থায়ী সমাধান হলো নগর জুড়ে পর্যাপ্ত ভ্রাম্যমাণ বা স্থায়ী পাবলিক টয়লেটের ব্যবস্থা করা। কিন্তু তা না করে বিভিন্ন হাস্যকর ও অবাস্তব পদক্ষেপ নিয়ে হয়তো সাময়িক কল্পিত নিয়ন্ত্রণ করা যাবে কিন্তু তা দীর্ঘস্থায়ী নয় মোটেই।

ভুলে গেলে চলবে না, ‘নিম্নচাপ যখন তীব্র, সুবচন অনুসরণ তখন দুরূহ!’