ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

আজকের একটি জাতীয় দৈনিকে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ জাফর ইকবালের একটি লেখা পড়ে খুব বিস্মিত হলাম। তিনি বর্তমান গুম, হত্যা, ও অ্যমেনেস্টির রিপোর্টকে আড়াল করতেই মনে হয় এই লেখাটা প্রকাশ করেছেন। তিনি এভাবে একপেশে লেখাও লিখে থাকেন তা এর আগে জানতাম না।

আমার মতে লেখাটা বিতর্কিত কেননা এতে উল্লেখিত কয়েকটি কথা দলীয় চামচামি আর তথ্য বিভ্রান্তির সৃষ্টি করেছে। তার লেখাটি সর্বপ্রথম পড়ে দেখা যাক—
লিংক

এবার যে অসত্য ও চুরি তিনি করেছেন তা দেখা যাক:

১। তিনি তার লেখায় বিএনপিকে জামাত ছাড়তে বললেন। আওয়ামী লীগও জামায়াতের সাথে আতাত(অথবা সমঝোতা যাই বলেন না কেন) করেছিলো, সেই কথাটা একদম এড়িয়ে গেলেন এই প্রজন্মের স্রষ্টা জাফর ইকবাল।

২। তিনি তার লেখায় বলেছেন যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হলেই নাকি এ সরকারকে গোল্ডেন এ প্লাস দিয়ে দেবেন!!!!!!! শুধু একটা বিষয়ের উপর ভিত্তি করে গোল্ডেন এ+ দেয়া হলে সকল এ প্লাসকেই গোল্ডেন ধরা হত। কারন গোল্ডেন এ+ পেতে সবগুলো বিষয়েই ভালো করতে হয় । বাংলাদেশের তথাকথিত শিক্ষা নীতির স্রষ্টা জাফর ইকবাল এমন কথা বললেন কিভাবে তা নিয়ে আমাদের উদ্বেগের যথেষ্ট কারণ রয়েছে।

৩। চলমান সরকারের আমলে গুম, খুন এর মত ঘটনাগুলো যুদ্ধাপরাধিদের বিচারের চেয়ে কম গুরুত্তপুর্ন নয়। জাফর ইকবালের মত জ্ঞানী-গুণী ব্যক্তিরা যদি এভাবে সরকারকে শর্টকাট গোল্ডেন এ+ পাবার উপায় বলে দেন তাহলে তাদের স্বেচ্ছাচারিতা আরো বেড়ে যাবে বলে আমি মনে করি । আমরা চাই কেউ এক বিষয়ে নয়, সব বিষয়ে ভালো করে এ+ অর্জন করুক ।

৪। আমাদের দেশের ইতিহাস বড় বেদনাদায়ক। ইতিহাসকে কেউ পাল্টাতে পারে না। এড়িয়ে যাওয়া যায় কেবল। জাফর ইকবালও তার লেখায় ইতিহাসকে এড়িয়ে গেছেন। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনকে এড়িয়ে গেছেন। স্বৈরাচারের সাথে আঁতাতকে এড়িয়ে গেছেন। জামায়াতকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহারের পর্বগুলো এড়িয়ে গেছেন। এভাবে ইতিহাস লেখা যায় না। কিছু সাময়িক বাহবা পাওয়া যায় কেবল।

৫। তিনি তার লেখায় বলেছেন, ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ভাষণ শুনে রক্ত গরম করার কথা । কিন্তু মেজর জিয়াউর রহমানের কথা টা তো বললেন না। জিয়াউর রহমান কি যুদ্ধাপরাধী ছিলেন?????????? শুধু তাই নয় বিএনপি জামাতের সাথে জোট করার কথা বলেছেন, আওয়ামী লীগ কি জামাতের সাথে জোট করে ৯৬ -তে সরকার গঠন করেনি ? সেটা কেন সুচারুরূপে এড়িয়ে গেলেন বলবেন কি???

আপনাদের মত গুরুজনদের কাছে তরুণ প্রজন্ম কিছু আশা করে। কিন্তু তাদের জন্য পক্ষপাতদুষ্ট কিছু না লিখে নিরপেক্ষ কিছু উপহার দিন। যাতে তরুণরা সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
৯৪-৯৬ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ জামায়াতের সাথে জোট বেধে আন্দোলন করেছে। এক টেবিলে বসে আন্দোলনের রুপরেখা তৈরী করেছে! তখন কি মনে হয়নি জামায়াত যুদ্ধাপরাধী ? আওয়ামী লীগে শত শত যুদ্ধাপরাধী থাকার পরও , তাদের বিচার করা হয় না কেন ? জনাব জাফর ইকবাল খুব ভাল ভাবে আওয়ামী লীগকে আড়াল করলেন তার এই লেখায়। জানিনা তারও কি রাজনীতিতে আসার ইচ্ছা রয়েছে নাকি???

এমত চিন্তাশীল গুণীজনের কাছ থেকে এমন লেখা সত্যিই আমাকে মর্মাহত করেছে। দেখা যাক এসব প্রতিক্রিয়ায় তার আগামী লেখায় কিছু পাওয়া যায় নাকি??? হয়তো সেজন্য তিনি পর্বের মাধ্যমে বিতর্কিত লেখা হাজির করেছেন।