ক্যাটেগরিঃ নাগরিক সমস্যা

 

ভেজালে সয়লাব গোটা দেশ কোন কিছুতেই নির্ভর করার কোন অবকাশ নেই । খাদ্য ভেজাল এখন এমন এক পর্যায়ে পৌছে গেছে যেখান থেকে বেরোনোর পথ কী আদৌ এরকম নৈরাজ্যের একটি সমাজে খুজে পাওয়া সম্ভব? বাজারে থরেথরে সাজান খাবারের পসরা কিন্তু সচেতন হলে খাদ্য ঘাটতি আর অচেতন হলে নির্ঘাত কঠিন রোগাক্রান্তের মধ্য দিয়ে বিভৎস মৃত্যু । আর সচেতন হলেই বা কতটা বাঁচা যায় কোনটা ছেড়ে কোনটা ধরবেন? ফলের বাজারের কথাই ধরুন কোন ফলই নিরাপদ না। বাজারে দেখলাম ইস্পাহানী মিস্টির বাক্স করে আম বিক্রি করছে জিজ্ঞাসা করলাম, কোথাকার আম ভাই? ওরা বলল ওদের নিজস্ব বাগানের আম , দাম হাঁকল ১৮০ টাকা যদিও বাজারে এর চেয়ে ভাল আম ১০০ টাক কেজি! মেনে নিলাম ওদের নিজের বাগানের আম তাই-বলে এত দাম হবে কেন?

নিজের বাগানের হলে ‘ত’ আরো কম হবার কথা …যাক সে কথায় না -হয় ’নাই, গেলাম কিন্তু প্রশ্ন জাগল ওরা যদি ভালো আমই দেবে তবে তো ফরমালিন আর অন্যান্য কেমিক্যালের মুল্য বাদ দিলে ওদের উৎপাদন ব্যয় আরো কম হবার কথা , কিন্তু উৎপাদন ব্যয় কম হলেও, এদেশে দাম বাড়ে কারণ সযোগ বুঝে আযান দেয়া ।গাও গেরামে পুরনো লোকেরা ধুরন্ধর সুবিধাবাদীদের উদ্দেশ্য করে এমন অনেক কথা বলেন তারই একটি হচ্ছে সুযোগ বুঝে আযান দেয়া!

যাই হোক ভেবে ছিলাম আমার একমাত্র পাঁচ বছরের শিশুটির জন্যে সামান্য আম নিব কিন্তু আমার মন সায় দিলনা বিশেষ নিরাপদ আম খেতে ! কারন মুনাফার জন্যে যারা খাবারে বিশেষ প্রিজারভেটিভ মেশায় তারা তা করে অতি লাভের আশায় আর এই তথাকথিত প্রিজারভেটিভ ছাড়া আমওয়ালারা যদি ডাবল মুনাফার জন্য বিশেষ প্যাকেটের ব্যবস্তা করে আমাদের কাছ থেকে হাতিয়ে নেয় দিগুন মুল্য ,আর সেই একই ভেজাল মাল বিক্রি করে তবে কিভাবে তা বুঝব অমরা ভোক্তারা? এভাবেই বিস্বাদ হীনতার এক চরম নৈরাজ্যে আমরা ক্রমেই তলিয়ে যাচ্ছি ।
তেলের বাজার গরম অনেকদিন কত সিলিং প্রাইজ আর কত বানিজ্য মন্ত্রকের গলাবাজী সব হম্বিতম্বির বাইরে তেলের দাম বহাল তবিয়তে বাড়তেই থাকল তা ভালো কথা , সেই বর্ধিত মূল্যে আমরা ভোক্তারা যারা যে দেশে যেই রীতি তা মানতে বাধ্য । আমরা কলুর বলদের মত খেটে খুটে যে অর্থ উপার্জন করি তাতে বেঁচে থেকে আর কোন প্রতিবাদের শক্তি অবশিষ্ট থাকেনা ।আর করলেই বা কার কি কে কার প্রতিবাদের তোয়াক্কা করে ? কড়া কথা বল্লে বরং গুম বা আরো কত পন্থায় হয়রানি ।

তাই তেলের বাজারে যদিও আগের সেই ঘানিতে ঘষা খাওয়া বলদ নেই-নেই ভালো তেল কিন্তু ক্রয়কারিরাই এখন কলুর বলদের মত এ’কোম্পানি ও কোম্পানির বোতল বয়ে বেড়াচ্ছেন, কিন্তু আসলের দেখা পাচ্ছেন কি?

পাচ্ছেন না! কারন অতি ভেজাল ।বাজারে গেলাম রুপচাদা তেল কিনতে সম্প্রতি ডা: বলে দিয়েছিলেন ভালো তেল খেতে অম্বলের সমস্যা কমছেই না তাই উনার এই পথ্য তেলের নাম ও বলে দিলেন, রুপচাঁদা আমি আগেও আনতাম কিন্তু মাঝে মধ্যে তীর বা ফ্রেশ ও নিয়ে আসতাম এখন ডাক্তার যখন বল্লেন তখন কশুর ছাড়বো কেন ? আমি বিজ্ঞেরমেতো দোকানিকে বললাম রুপচাঁদা তেলের কথা, দোকানি বলল লিটারে চার টাকা বাড়তি- আমি ভুরু কুচকে বললাম কেন এই-না তিনদিন আগে ১৩৪ টাকায় নিলাম আমার তর্কে দোকানি
যথার্থ বিরক্ত হলো আর পাশে দাঁড়ানো আমার মত এক ভোক্তা আমার প্রতি করুনার হাসি হাসলেন ।

আমার মেজাজ খিচড়ে গেল ভাবলাম লোকটা কেমন বোকা কোথায় ভোক্তার পক্ষে দাড়াবে তা’না —আমার অভিব্যক্তি তিনি হয়ত বুঝলেন আমাকে এবার সহানুভূতির সুরে বললেন, ভাই রুপচাঁদা নেবেন না। টিভিতে গত কাল দেখিয়েছে এরা ভেজাল তেল বাজার জাত করে ! আমি থোঃ হয়ে উনার দিকে তাকালাম উনার কাছ থেকে জানতে চাইলাম তবে কোন তেলটা কেনা যায় ? উনি বল্লেন সব গুলোর উপরই রিপোর্টটা করেছে শুধু ফ্রেশের কথা বলেনি ! আমি বুঝে নিলাম ইনি হয়ত ফ্রেশ তেলের কোন বাজারজাতকারী হবেন, শব্দভেদে আমাকে বা আমার মত ভোক্তাদের তার পন্য কেনানোর নতুন ফন্দি ! এবার লোকটার প্রতি আমার করুণা হল এবং তা অভিব্যক্তিতে ফুটিয়ে তুলতে আমি কার্পণ্য করলাম না ।

ভাবলাম হায়রে দেশ কোনখানে যে একটু বিশ্বাস রাখব তার কোন সুযোগনাই ।আমাদের কথার ফাঁকে দোকানি কোন তেল দিবে সিদ্ধান্ত নিতে পারছিল না, সে বলল, কোনটা দিমু তেল বেচন যে কত জ্বালা তা আপনেরা বুজবেন না ! এই দেখেন সয়াবিনের লগে সরিষার তেল বিক্রি বাধ্যতামূলক করছে কোম্পানি, এখন সরিষার তেল আছে তারপরও আরো দুই কার্টুন মাল গছাইয়া গেছে । আর কোনডারে ভালা কইবেন সব গুলাই এক, তেলের ভেজাল অনুষ্ঠান আমিও দেকছি শালারা সব ভেজাল……আমি পাততাড়ি গুটিয়ে তেল না নিয়ে বাড়ি ফিরে এসে সেদিন গিন্নির পেঁদানি খেয়ে আবার পাড়ার দোকানের নতুন অক্ষেত এক কোম্পানির তেল কিনে মনের খেদ মিটিয়েছি তবে আসলেই কি কোন খেদ মিটলো ? ভেজাল নিয়ে আগামি প্রস্থে আরো লেখার আশা রেখে এখানেই থামছি ।