ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা, ফিচার পোস্ট আর্কাইভ

সুপ্রিয় পাঠক সমাজ, আমার এই লেখাটি অতীব জরুরী। দয়া করে একটু ভেবে দেখুন প্লিজ্।

উন্নত বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে আমাদের দেশেও বর্তমানে অনেকগুলো মানবাধিকার সংগঠন তৈরী হয়েছে যেমন, বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন, বাংলাদেশ মানবাধিকার কাউন্সিল, বাংলাদেশ মানবাধিকার সমিতি, বাংলাদেশ মানবাধিকার সংস্থা, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, অধিকার, এমনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড সার্ভিসেস ট্রাস্ট বা ব্লাস্ট, আ্ইন ও সালিশ কেন্দ্র ইত্যাদি ছাড়াও রয়েছে আরো জানা অজানা অনেক দেশী বিদেশী এনজিও যারা তাদের ভাষায় মানবাধিকার রক্ষার আন্দোলন করে আসছে বহুবছর ধরে। বর্তমানে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে (যার চেয়ারম্যান ডঃ মিজানুর রহমান সাহেব) মাঠ পর্যায়ে অনেক বেশী একটিভ হতে দেখা যাচ্ছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এই সব সংগঠনগুলোর প্রতিষ্ঠাতা হয়ে থাকে কোন স্বনামধন্য আইনজীবি অথবা কখনো কখনো নামকাওয়াস্তে আইনজীবীরাও আজকাল নিজেদেরকে মানবাধিকার কর্মী হিসাবে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য এই ধরনের নাম সর্বস্ব সংগঠন গড়ে তুলেন, যারা প্রকৃত পক্ষে নিজেরাও জানেন না আসলে মানবাধিকার কী? কেনইবা তা রক্ষা করা উচিত। সাধারনভাবে আমরা বুঝি, মানবাধিকার হচ্ছে প্রত্যেকটা মানুষের মৌলিক অধিকার যা সে জন্মগতভাবে লাভ করে থাকে এবং তার ভুখন্ডের ভিতরে ও বাইরে সমানভাবে ভোগ করতে পারবে। যদিও বিভিন্ন দেশের কৃষ্টি-কালচার, সভ্যতা-বভ্যতা অনুযায়ী বা রাষ্ট্রীয় সংজ্ঞায় এই অধিকার অনেক সময় কিছুটা পরিবর্তিত ও পরিমার্জিত হয়ে থাকে কিন্ত তাতেও মানবাধিকারের মূল বিষয় বা চেতনা অটুট থাকে।

এবার আসা যাক্ মূল প্রসংগে, আমাদের দেশে আইন শৃঙ্খলার যে অবস্থা তাতে এদেশের মানুষের বহু বছরের গড়ে উঠা দস্যুবৃত্তির মনোভাব রাতারাতি পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা কম্। জন্মগতভাবেই অথবা কখনো কখনো রাস্ট্রীয় বৈষম্যের কারনে অনেক মানুষের মধ্যে দস্যুবৃত্তি অথবা অন্যের অধিকার হরন করে নেওয়ার প্রবনতা গড়ে উঠে। কখনো কখনো রাজনৈতিক কারনেও অপরকে ঘায়েল করার প্রবনতাও এই দেশে অনেক্। একজনের মুখের গ্রাস অন্যায়ভাবে আরেকজন কেড়ে নিতে পারে সহজেই। প্রতিহিংসামূলক মনোভাব আর সমাজের অস্থিরতার কারনে অনেকেই মানবাধিকারের কথা ভুলে গিয়ে নিজের প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে পারে সহজেই। অন্যের আহরিত সম্পদ লুন্ঠন, পথের বাধা অপসারন, অন্যকে পিছনে ফেলার অস্থিরতা, অন্যের মুখের গ্রাস কেড়ে নেওয়া এদেশে নিত্যনৈমত্তিক ব্যাপার। ভাতের অভাব, কাপড়ের অভাব, কর্মসংস্থানের অভাব, বাসস্থানের অভাব, তথা রাতারাতি বড়লোক হওয়ার অভাব সমাজে এক অস্থিরতা তৈরী করে যার ফলশ্রুতিতে অনেকে হিতাহিতজ্ঞান হারিয়ে ফেলে এবং কেড়ে নেয় অন্যের অধিকার যার ফলস্বরুপ আমরা দেখতে পাই সমাজে সন্ত্রাস, হত্যা, গুম, রাহাজানি, চুড়ি, ডাকাতি, বহুবিবাহ, অনৈতিক সম্পর্ক, ছিনতাই, ধর্ষনসহ বিভিন্নধরনের অপকান্ড। এটা আমাদের দেশে একটি নিত্যনৈমত্তিক ঘটনা। যার বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ভিকটিম হয়ে থাকে সাধারন শান্তিপ্রিয় মানুষেরা যাদের পক্ষে সেই ধরনের অপকান্ড প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। আর আমাদের জানামতে সেই সব মানুষেরাই সংখ্যায় বেশী যদিও তাদের প্রতিরোধক কোন ক্ষমতা নাই। বাংলাদেশের প্রতিটি থানায় খোঁজ নিলেই এই পরিসংখ্যান স্পষ্ট হয়ে উঠবে।

সুধী পাঠক্, বলতে পারেন এইসব সাধারন/নিরীহ মানুষেরা যখন কোন দস্যুর আক্রমনের শিকার হয় তখন তাদের পাশে কে গিয়ে দাঁড়ায়? সন্ত্রাসীর দারা আক্রান্ত হয়ে অথবা হত্যা, ছিনতাই, ডাকাতির শিকার হয়ে আইনগত প্রতিকার পেয়েছে এই দেশে কতজনা বলতে পারেন প্রিয় পাঠক্? কয়টা সন্ত্রাসী, ডাকাত, ছিনতাইকারি আইনের মাধ্যমে শাস্তি পেয়েছে এই পর্যন্ত? কয়টা সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত আদালতে স্বাক্ষী দিতে পেরেছে সাধারন মানুষ? কয়টা সন্ত্রাসীকে আদালতে নিতে পেরেছে সাধারন মানুষ? আমি তো দেখি কোন তারকা সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে কখনোই কেউ আইনের আশ্রয় নিতে পারেনা। কারন তাদের ভয়ে ভিত সন্ত্রস্ত থাকে এলাকার জনগন। এমনকি সচক্ষে দেখা কোন ঘটনার স্বাক্ষীও কেউ দেয়না প্রানের ভয়ে। কোন মানবাধিকার সংগঠন কখনো সন্ত্রাসীদের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে এমন খবর এখনো পাইনি আমি। আর তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থাও এমনকি লেখালেখি পর্যন্ত করতে শুনিনি আজও। সুতরাং উপরোক্ত ভয়সমুহ থেকে মানুষকে মুক্তি দিতে আবির্ভাব হয়েছে র‍্যাব তথা র‍্যাপিড একশন ব্যাটেলিয়ন যারা বাংলাদেশে এলিট ফোর্স হিসাবে পরিচিতি পেয়ে গেছে।

প্রথম প্রথম র‍্যাব এর মুল উদ্দেশ্য বা কর্মকান্ড রাজনৈতিক বলে মনে হলেও (কিছুটা সংশ্লিষ্ট ছিল) পরবর্তীতে র‍্যাব এই সব বিতর্ক কাটিয়ে উঠে সমালোচনার বহু উর্দ্ধে চলে গেছে এবং গত ২ বৎসরে আমি এমন একটি খবরও পাইনি যেখানে র‍্যাব কোন নিরীহ নির্দোষ লোককে হয়রানী অথবা ক্রসফায়ারে মেরে ফেলার অভিযোগ এসেছে। লিমন এর ব্যাপারটা ব্যাতিক্রম, লিমন এর জন্য আমারও মন কাঁদে এবং লিমনএর পঙ্গুত্ব বরন এর কারন আজও অজ্ঞাত। আমি বলব এ পর্যন্ত র‍্যাব এর হাতে নিহত সব গুলো লোকের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে অন্তত ৯৫% হত্যাই ছিল চিহ্নিত সন্ত্রাসী, ডাকাত, ছিনতাইকারী অথবা চাঁদাবাজ যাদের ভয়ে এলাকার কেউই কথা বলতে সাহস পেতনা। আমার কাছে আমাদের এলাকার এরকম অসংখ্য হিসাব আছে সুপ্রিয় পাঠক্, একদম শতভাগ সত্য ঘটনা যাদের ভয়ে এলাকার লোকজন কাঁপত তাদের বিরুদ্ধে কেউ অভিযোগ করবে তো দুরের কথা দেখলেই সালাম দিতে শুরু করত আর দিনে দুপুরে কত যে নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটাত সেই ফিরিস্তি দিতে গেলে হরর মুভির মত মনে হবে। তারা আজ নেই। মানুষ স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে স্বাধীনভাবে চলতে পারে এটা কি র‍্যাব এর আশির্বাদ নয় সুপ্রিয় পাঠক? আমরা যারা সন্ত্রাস ও অস্ত্রবাজিতে বিশ্বাসী নই তাদের সংখ্যা এদেশে নেহায়েত কম নয়, এবং আমরা তো কখনোই র‍্যাবকে আমাদের জন্য আতঙ্ক বা প্রতিপক্ষ মনে করিনা। বরং র‍্যাব এর কারনে এখনো নিশ্চিন্তমনে নিদ্বির্ধায় রাত ১০টা-১১টায় ও বাসায় ফিরতে পারি কর্মস্থল থেকে। আর ছিনতাই তো এখন একরকম থেমেই আছে বলা যায়। তাহলে সেই আশির্বাদ র‍্যাবকে ভেঙ্গে দেয়ার জন্য তথাকথিত মানবাধিকার সংস্থাগুলো কেন উঠে পড়ে লেগেছে, কার স্বার্থে এটা কি ভেবে দেখার প্রয়োজন আছে না সুপ্রিয় পাঠকবৃন্দ? ১ জন লোক যে আইনের জালে কখনোই আটকা পড়েনা সে যদি শত শত মানুষের জীবন ভীতসন্ত্রস্ত করে রাখে এবং তাকে পরাহত করার কোন শক্তি যদি না থাকে সমাজে তাহলে র‍্যাব কি অপরিহার্য প্রতিরোধক নয় তাদের জন্যে?

এদেশে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন’ যার চেয়ারম্যান হচ্ছে ডঃ মিজানুর রহমান চৌধুরী সাহেব, লম্বা গোঁফ ওয়ালা চেহারা, দেখলেই যাকে ভয় করে। সেই মিজানুর রহমান সাহেবকে যদি কোন সন্ত্রাসী/চাঁদাবাজ হঠাৎ রাস্তায় একাকী পেয়ে একটি পিস্তল ঠেকায় বুকে অথবা তার বাড়িতে বোমা ফাটায় কয়েকটা ওনিও তো আল্লার নাম নেওয়ার আগেই র‍্যাবকে স্বরণ করবেন আগে। ‘ইস্! এই সময় যদি একটা র‍্যাবের গাড়ি দেখা যেত’ এই ভেবে। কারন আগে তো নিজের প্রান বাঁচানো তারপর তো আসবে মানবাধিকারের প্রশ্ন। আর হিউম্যান রাইটস্ ওয়াচ এর ‘ব্র্যাড এডামস’ ? ওনি কতদিন থাকে বাংলাদেশে? ওনি যদি এদেশের সন্ত্রাসীদের আসল রুপ একবার দেখতে পারে তাহলে র‍্যাব ভেঙ্গে না দিয়ে বরং র‍্যাবকে আরো শক্তিশালী করার কথা বলবেন বলে আমরা বিশ্বাস করি। যে দেশে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, রাহাজানি, হত্যা, ধর্ষন, গুম, চাঁদাবাজি আর গায়ের জোড়ে অন্যের সম্পত্তি দখল করে নেওয়াটা নিত্যনৈমত্তিক ব্যাপার, যে দেশে কোন নিরীহ কিশোরীকে ধর্ষন করে তার লাশ ২৬ টুকরা করে বাথরুমের কমোডে ফ্লাশ করে দিতেও একটি দানবের হাত কাঁপেনা, যেদেশে বাসে আগুন দিয়ে পুরিয়ে মারা হয় নিরীহ বাস চালককে, যে দেশে আইনজীবীকে দায়ের কোপে হত্যা করে তার খন্ডিত মস্তক নিয়ে দৌড়ে বেড়ায় কোন সন্ত্রাসী, যে দেশে ইলিয়াস আলীরা গুম হয়ে যায় সবার অজান্তে, যে দেশে কিশোরীর শ্লীলতাহানী হয় আদালত প্রাঙ্গনে, যে দেশে বিচারক হয় পুলিশের হাতে লাঞ্চিত, যে দেশে জনপ্রিয় মেয়র হয় নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার, যে দেশে মেয়েরা পথ চলতে হয় ইভ্ টিজিং এর শিকার, যে দেশে পদে পদে লাঞ্চিত হয় সাধারন মানুষ, যে দেশে বেডরুমের ভিতর নিহত হয় সাংবাদিক দম্পতি, যে দেশে দিনেদুপরে সংবাদপত্র কার্যালয়ে ঢুকে ভাংচুর চালিয়ে নিশ্চিন্তে নিরাপদে সদর্ভে প্রস্থান করে সন্ত্রাসীরা সেই দেশে র‍্যাব কে ভেঙ্গে দেওয়ার প্রস্তাব কি করে আমরা সমর্থন করব? মানবাধিকার নেতারা কি তাহলে সন্ত্রাসীদের পুনর্জাগরণ চাইছেন? আমার কথা অত্যন্ত স্পষ্ট, যখন কোন নিরীহ মানুষ সন্ত্রাসীর দারা আক্রান্ত হয় তখন কি তার মানবাধিকার লংঘিত হয়না? তখন সেই ভিকটিম এর মানবাধিকার রক্ষার জন্যে কোন্ মানবাধিকার সংগঠন প্রেস কনফারেন্স এর আয়োজন করে? কে গিয়ে দাঁড়ায় তাদের পাশে? তাহলে কি আমরা ধরে নিতে পারি না তথাকথিত ভুঁইফোড় মানবাধিকার সংগঠনগুলো সন্ত্রাসীদের পৃষ্ঠপোষকতা করে আসছে? যারা আম্ জনতার নিরাপত্তা নিয়ে ভাবে না মোটেও? সুধী পাঠক্, গত পরশু ডাকাত শহীদ র‍্যাব এর ক্রস ফায়ারে নিহত হয়েছেন বলে আমরা খবরে জানতে পেরেছি, আর হাজার হাজার মানুষ হাসপাতালে ভিড় করছে তাকে একনজর দেখার জন্যে। মৃত্যু হয়েছে নিশ্চিত জেনে শতশত মানুষ মিষ্ট বিতরন করছে। এই মৃত্যুটা মানুষের জন্যে এত আনন্দের কেন সুপ্রিয় পাঠক্ সমাজ? মৃত্যুতো কখনোই আনন্দের ব্যাপার হওয়া উচিত নয়। তাহলে কি এই একটি প্রানের কাছে অসহায় জিন্মি হয়েছিল হাজারটি প্রান? যাদের মুক্তি দিতে পেরেছে আমাদের র‍্যাব নামক বিশেষ বাহিনীটি, কতদিন, কত প্রতীক্ষার পর তাইনা প্রিয় পাঠকসমাজ? এদেরকে কি কখনো প্রচলিত আইনের মাধ্যমে বিচারের কাঠগড়ায় নিয়ে শাস্তি দেওয়া যেত? ভাবুনতো একটিবার।