ক্যাটেগরিঃ ব্যক্তিত্ব, হুমায়ূন আহমেদ স্মরণে

 

সুপ্রিয় পাঠক, এদেশের নন্দিত কথাশিল্পী হুমায়ুন আহমেদ দুদিন আগে পরলোক গমন করেছেন, সুদূর আমেরিকার নিউ ইয়র্কের ম্যানহাটনের বেলভ্যু হাসপাতালে । মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৪ বছর। হুমায়ুন আহমেদ এর মৃত্যু এদেশের সাহিত্য অঙ্গনে এক অপুরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি করে গেছে। তার লেখা পড়েনি এমন লোক এদেশে খুব কমই পাওয়া যাবে বলে আমার বিশ্বাস। পেশায় ওনি রসায়ন শাস্ত্রের অধ্যাপক হলেও ওনি প্রতিষ্ঠা লাভ করেছেন সাহিত্যে । সমস্ত দেশবাসী তার এহেন অকাল প্রয়ানে যেন স্তব্ধ শোকাহত হয়ে আছে। কারন রম্যরস ধর্মী লেখা দিয়ে হুমায়ুন আহমেদ খুব সহজেই মানুষকে হাসাতে পারতেন আর প্রতিবছর বইমেলায় তার লেখা বই ছাপিয়ে প্রকাশকগনও কামাতে পারত লক্ষ লক্ষ টাকা।

লম্বা কোন জার্নিতে হুমায়ুন এর একটি বই হাতে থাকলে কখন কোনদিক্ দিয়ে যে সময় কেটে যেত তা টেরও পাওয়া যেতনা। আমি নিজেও তার লেখায় অনেক মুগ্ধ হতাম পড়ে। তার প্রতি আমার শ্রদ্ধাভক্তির কোন কমতি নেই। কিন্ত তার ব্যাপারে একটি প্রশ্নের উত্তর আজও পাইনি খুঁজে। ” আমার বয়স এখন চল্লিশ। আজ থেকে প্রায় চল্লিশ বছর আগের কথা, তার প্রকাশিত প্রথম উপন্যাস “নন্দিত নরকে” প্রকাশিত হয়, ১৯৭২ সালে। তখন ওনি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রসায়ন বিভাগের ছাত্র। ব্যাপক সাড়া পায় তার লেখা এই বইটি। আমি সেটা পাঠ করি ১৯৮৬ সালে। যখন আমি ক্লাশ নাইন এর ছাত্র। তার পর তো আর থেমে নেই তিনি। একে একে কয়েকশত বই ওনি লিখে ফেলেছেন এরই মধ্যে। আকাশচুম্বি জনপ্রিয়তাও পেয়েছেন তিনি। স্বার্থক জীবন তার। তার জন্যে মন কাঁদে আমার। আল্লাহ ওনাকে জান্নাতবাসী করুক। কিন্তু আমার বেদনাটা হচ্ছে অন্য জায়গায়।

যদি আমি আমাকে ঠিক্ গুলতেকিনের জায়গায় ভাবি তাহলে আমার একটি প্রশ্নের উত্তর আজো পাইনি খুঁজে। ঠিক্ কি কারনে বা কোন অপরাধে হুমায়ুন আহমেদ ২০০৩ সালে সুদীর্ঘ ৩০ বৎসরের সুন্দর, সাজানো সংসার ভেঙ্গে দিয়ে নিরপরাধ গুলতেকিনকে ত্যাগ করে বিয়ে করে বসেন তার মেয়ের বান্ধবী অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওনকে। শীলা, নোভা কিংবা নুহাশ রা কি তা জানতে পেরেছে আদো? কি অপরাধ ছিল গুলতেকিন এর? হুমায়ুন এর সাহিত্যজগতে উত্তরোত্তর সাফল্যই কি তাকে ক্রমশ অহংকারী আর হিতাহিত জ্ঞানশূন্য করে তোলে? এতটুকু ব্যভিচারী, এতটুকু লোলুপ না হইলে কি সমস্যা হয়ে যেত ওনার? আজ শীলা, নোভা বা নুহাশরা তো ঠিক্ই তাদের বাবাকে feel করে, বাবার জন্য কাঁদে, কিন্ত হুমায়ুন আহমেদ এর মন কি একবারও কাঁদল না তাদের জন্যে? আমরা তো আজও জানতে পারলাম না কেন হুমায়ুন আহমেদ সেদিন অতি ভদ্র, নম্র, শিক্ষিত, সুন্দরী, প্রিন্সিপাল ইব্রাহিম খাঁন এর নাতনি জনাবা গুলতেকিন কে ত্যাগ করেছিল। কি অপরাধ ছিল তাদের? পেশায় একজন অধ্যাপক হয়েও এই কাজ করতে ওনার এতটুকু বিবেকে বাধলনা? গুলতেকিন এর বাবাহীন বাচ্চা তিনটে দেখলে কি খুব খারাপ লাগে না আমাদের এখনো? তার চরিত্রে এই একটি কালিমালিপ্ত দিক্ না থাকলে তিনি কি সবার কাছে আইডল মানব হয়ে থাকতে পারতেন না প্রিয় পাঠক্? স্বর্গবাসী হয়েও তো উনি চাঁদের কলঙ্কটা সাথে নিয়ে গেলেন, তাইনা?