ক্যাটেগরিঃ স্বাধিকার চেতনা

৭১ সালের সেই জ্বালাময়ী উত্তাল দিনগুলোর কথা মনে হলে আমাদের গা শিউরে উঠে এখনো। কি ভীষন আক্রোশ আর জিঘাংসা
নিয়ে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী ঝাপিয়ে পড়েছিল আমাদের স্বাধিকার সংগ্রামকে দমন করার জন্যে। কত নৃশংসভাবে হত্যা করেছে লাখ লাখ বাঙ্গালীকে আর নির্দয়ভাবে লুটে নিয়েছিল কত মা বোনের সম্ভ্রম। সেই সব বিরাঙ্গনাদের আত্না এখনো কেঁদে চলে। অবশেষে দীর্ঘ নয়মাস রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম, ত্রিশ লক্ষ প্রান এবং লক্ষ মা-বোনের ইজ্জত এর বিনিময়ে আমরা অর্জন করি লাল সবুজের পতাকা আর একটি স্বাধীন মানচিত্র এই বিশ্বের বুকে। সেই দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী সংগ্রামে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীকে যারা এদেশের ভুখন্ডে অবস্থান করেও সহায়তা করেছিল সেই সব মানুষরুপী জানোয়ারেরা এখন বিচারের কাঠ গড়ায়।

 

ইতিমধ্যে দুই দুইটি রায়ও হয়ে গেল যেখানে একটি রায়ে জনগনের আকাঙ্খার প্রতিফলন ঘটেছে বাচ্চু রাজাকারকে ফাঁসির আদেশ দিয়ে আর অপর রায়টি জনগনকে করেছে বেদনাহত ‘কাদের মোল্লা’র যাবজ্জীবন কারাদন্ড প্রদানের আদেশ প্রদান করে। ইতিমধ্যেই সেই রাজাকারদের দোসর/উত্তরসূরীরা বেশ কয়েকটি হরতালও ডেকেছে এই আন্তর্জাতিক যুদ্ধপরাধ ট্রাইবুনাল বাতিল করার জন্যে। আমরা জানতে চাই আজ যারা পাকিস্তানিদের পক্ষ অবলম্বন করার অপরাধে জনগনের বিস্ফোরনের শিকার হয়ে মৃত্যুদন্ডের অপেক্ষায় প্রহর গুনছে, তাদেরকে বাঁচাতে তাদের গডফাদার পাকিস্তান এখন বাংলাদেশের বিরুদ্ধে পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে যুদ্ধ ঘোষনা করছেনা কেন? এটা কি তাদের নৈতিক দ্বায়িত্ব নয়?

তারা এটা করবেনা, কারন তারা পাকিস্তানি । তারা বিশ্বাস ঘাতক, তাদের কোন বন্ধু নেই, থাকতে পারেনা। তারা সর্বত্রই বর্বর হানাদার বাহিনী, পরাজয় তাদের সর্বজায়গায়, তারা জানে বাংলাদেশ কি, তারা জানে বাঙ্গালী জাতি কি করতে পারে, তারা দেখেছে ৭১, তারা স্বাদ নিয়েছে পরাজয়ের, তারা কি জানত এই বাংলার মাটিতেই তাদের দোসরদের বিচার হবে দীর্ঘ ৪২ বৎসর পর? নাকি তাদের আত্না এখনো কাঁদে এই দোসর/রাজাকারদের জন্যে যারা এখন গনবিচারের সম্মূখীন? অথবা তারা কি আর কখনো সাহস করবে বীরের জাত বাঙ্গালীদেরকে নতুন করে আক্রমন করার? আমার বড় জানতে ইচ্ছে করে তারা আবারও নতুন করে বাংলাদেশ আক্রমনের চিন্তা অথবা সাহস করছে কিনা পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে। অবশেষে- জয়তু বাঙ্গালি জাতি, জয়তু সাহসি সরকার।