ক্যাটেগরিঃ নাগরিক আলাপ

মহাকালের এক মহা সংকটময় মুহুর্ত অতিক্রম করছি আমরা এখন। সৃষ্টির শুরুতে অর্থাৎ আদিমকালের মানুষের আচার-আচরন তথা সভ্যতা-ভব্যতা কেমন ছিল দেখার সৌভাগ্য আমাদের হয়নি কিন্তু যা শুনেছি এবং পড়েছি ইতিহাসের পাতায় তাতে এতটুকু বুঝতে পেরেছি সেই সব আদিম সভ্যতা থেকে বর্তমান যুগের আধুনিক সভ্যতা পর্যন্ত আসতে অতিক্রম করতে হয়েছে সুদীর্ঘকাল সময় এবং অনেক চড়াই-উৎরাই পথ। পরিমার্জিত হয়েছে মানুষের জীবনযাত্রা, সংজ্ঞায়িত হয়েছে মানুষের মৌলিক চাহিদা, সংজ্ঞায়িত হয়েছে ব্যক্তিত্ব, উন্নত হয়েছে জ্ঞান ভান্ডার, পরিশোধিত হয়েছে মানবিক মুল্যবোধ আরো কত কি। ইতিহাস পড়লে আমরা অনেক অনেক আদর্শব্যক্তিত্বের সন্ধান পাই যেমন মহানবী (সাঃ), বড়পীড় আব্দুল কাদের জিলানী (রাঃ), প্রমুখ ধর্মীয় প্রবাদপুরুষ, কবি নজরুল, কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ, স্যার আল্লামা ইকবাল, ওমর খৈয়াম, উইলিয়াম শেকসপীয়ার, ম্যাক্সিম গোর্কী, (আন্তর্জাতিক), জ্ঞান তাপসী রাবেয়া বসু, বেগম রোকেয়া, মাস্টারদা সূ্র্যসেন, প্রীতিলতা, কবি জসিমউদ্দিন, জহির রায়হান, মীর মোশারফ হোসেন (স্থানীয়) ওনারা আপন মহিমায় উল্লসিত করে গেছেন এই পৃথিবীর অঙ্গন।

তাদের জীবনী পাঠ করলে অনেক আদর্শের সন্ধান পাওয়া যায়। সেই ছোটবেলা থেকে দেখে এবং শুনে আসছি যে সর্বদা আদর্শপূরুষ হিসাবে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক ব্যাক্তিত্বের নাম এবং বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দেখে আসছি বিভিন্ন সময়ের আলোকিত মানুষ বিশেষকরে শিক্ষকগুরুদের নাম। সেই ক্ষেত্রে প্রাইমারি স্কুলশিক্ষকরাতো আর আলোচনায় আসতে পারেন না, বরং কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকগনই সর্বসময়ে সর্বজন শ্রদ্বেয় ব্যাক্তিত্ব, অথবা অন্যভাবে বললে আদর্শপূরুষ হিসাবে গণ্য হয়ে থাকে। এর অর্থ হচ্ছে, আমরা সব সময়ই চরিত্র গঠনে, জ্ঞান অর্জনে, জীবনযাত্রায় তথা সর্ব ব্যাপারেই তাদেরকে অনুসরন করব। এবং আমাদের উত্তরসূরীদেরকেও তাদের মত হওয়ার উপদেশ দিয়ে যাব। এই ক্ষেত্রে রাজনৈতিক ব্যাক্তিত্বকে অনুসরন করার সুযোগ থাকেনা কারন আমাদের দেশে রাজনৈতিক ব্যাক্তিত্বরা সাধারনতঃ আদর্শহীন হয়ে পড়ে।

আমি সবাইকে দোষারোপ করবনা, অবশ্যই ভাল ব্যক্তিত্বের রাজনীতিবিদও বাংলাদেশে কম নয় বা ছিলনা । এখন নাম লিখতে গেলে আবার পক্ষপাতিত্বের সমালোচনা এবং অমুকের দালাল-ফালাল এইসবও বলাবলি শুরু হয়ে যাবে চারদিকে ফলে আমার এই লেখার মূল চেতনাটাই হয়ত নষ্ট হয়ে যাবে তাই এড়িয়ে গেলাম। যাইহোক্, বলছিলাম ভাল ব্যাক্তিত্বের মানুষ তথা আদর্শপুরুষ এর কথা। আমাদের কাছে অনুসরনীয় হয়ে থাকেন সাধারনতঃ নিজ নিজ মহিমায় আলোকিত কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, আইনজীবি, কোন লেখক,গবেষক অথবা কোন সমাজসেবীর। তবে তারা অবশ্যই কালিমামুক্ত ব্যাক্তিত্বের অধিকারী হতে হবে। না হলে নয়। তারা হবেন আইডল। কিন্তু সম্প্রতি কতিপয় কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কিছু কিছু কর্ম তাদের গোটাশ্রেনীটাকেই কলুষিত করেছে এবং আমাদেরকে করেছে বেদনাহত। উদাহরন হিসাবে আমি প্রথমেই বলব জনপ্রিয় কথাসাহিত্যক হুমায়ুন আহমেদ এর নাম। উনি ওনার লেখায় রসিকতা লাগিয়ে মানুষকে অনেক আনন্দদান করে থাকেন, তাই ওনার জনপ্রিয়তা অনেক। পেশায়ও ওনি একজন অধ্যাপক যা সর্বমহলে অনুকরনীয় এবং শ্রদ্বেয় বিষয়। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক ব্যাপার যে ওনি এমন একটি ন্যাক্বারজনক কাজ করে গেছেন যে আমরা তাকে অনুকরনীয় ব্যাক্তত্ব হিসাবে কখনোই আর বিবেচনা করতে পারবনা। সুতরাং তার সমস্ত মেধা, সমস্ত প্রতিভা সব কলুষিত করে দিল তার মেয়ের বান্ধবী শাওনকে বিয়ে করে, এবং তার জন্য নিবেদিত প্রান গুলতেকিনের সাথে বেঈমানী করে। যা একটি অসম সম্পর্কও বটে।

ভিকারুন্নিসা স্কূল ও কলেজের এক শিক্ষক ‘পরিমল জয়ধর’ তার এক ছাত্রীর সাথে করেছে অসামাজিক সম্পর্ক। স্ট্যাম্পফোর্ড ইউনিভার্সিটির এক শিক্ষক করেছে ভিডিওচিত্র। স্কলাস্টিকা স্কুল ও কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীর ভিডিওচিত্রও মার্কেটে চলছে, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়তো মনে হয় রীতিমত একটি __চারনভূমি। কয়দিন পরপরই তো শুনি ওখানকার কীর্তিকলাপ। এক জনপ্রতিনিধি’র (এমপি) কাহিনী বলি, ওনি চার-চারবার নির্বাচিত এমপি, যার আদর্শও আমাদেরকে প্রভাবিত করার কথা। ওনি নারী আর মদ ছাড়া থাকতে পারতেন্ না। বিয়ে করেছেন চার-চারটি। ওনি এখন নেই, কিন্তু ওনার যোগ্য উত্তরসূরী রেখে গেছেন কতিপয়, তারা সেই একই স্টাইলে চালাচ্ছে জীবন। কোন এক মেয়র , এক উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর যেন বিরাট বিপদে পড়ে গেলেন, কারন তাদের মনোরঞ্জন করতে অনেক সমস্যা পাবলিক্ এর চোখকে ফাঁকি দিয়ে । তাদের চরিত্রকেও তো পারতাম আমরা আদর্শ হিসাবে গ্রহন করতে, তাইনা? আমরা যারা কোন একটি নির্দিষ্ট আদর্শকে অবলম্বন করে বাচতে চাই অথবা ভবিষ্যৎ বংশধরদেরকে উত্তমচরিত্রের জন্য নির্দেশনা দিয়ে যেতে চাই তারা আদর্শ হিসাবে কাকে, কোন পেশাকে দেখিয়ে যাব বলতে পারেন প্রিয় পাঠক সমাজ? সভ্যতার এতযুগ পরও আবার সময় এসেছে সভ্যতাকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করার। সময় এসেছে আদর্শের সংজ্ঞা নির্ধারনের, সময় এসেছে সত্য-মিথ্যার, বৈধ-অবৈধ, ভাল-মন্দের, পাপ-পুন্যের সংজ্ঞা নির্ধারন করার। আমাদের জন্য আদর্শের কি নির্দেশনা থাকবে, সরকার তথা রাষ্ট্র পরিচালনায় যারা আছেন তাদেরকে বিষয়টি নিয়ে ভাবতে হবে, তা নাহলে ধবংস হয়ে যাবে পুরো মানব সভ্যতা, আমাদের সমস্ত অর্জন তথা মানবিক মূল্যবোধ।