ক্যাটেগরিঃ প্রশাসনিক

ভারত আমাদের পাশ্ববর্তী বন্ধুপ্রতীম দেশ। চিকিৎসা, ভ্রমণ, পড়ালেখা, তীর্থস্থান দর্শন ইত্যাদি নানা কারণে বাংলাদেশের মানুষকে প্রায়ই ভারত যেতে হয়। কিন্তু বাংলাদেশেীদের জন্য ভারতীয় ভিসা পাওয়া এখন অনেকটাই অমাবস্যার চাঁদের মতোই দূর্লভ। আর এজন্য ভারতীয় হাইকমিশনের ভিসা আবেদন প্রক্রিয়াই দায়ী। প্রথমত: ভিসাপ্রার্থীকে অনলাইনে আবেদন করতে হয় এবং নির্ধারিত তারিখে আবেদনপত্র, পাসপোর্ট, ছবি ইত্যাদি নিয়ে স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার অফিসে জমা দিতে হয়। মজার বিষয় হলো, আবেদনকারীকে তাঁর মূল পাসপোর্ট, পাসপোর্টের ফটোকপি জমা দেয়ার পরেও আবাসিক ঠিকানা প্রমাণের জন্য যে কোন ইউটিলিটি (গ্যাস, বিদ্যুত, পানি, টেলিফোন) বিলের ফটোকপি জমা দিতে হয়। এমন অনেক গ্রামীন নাগরিক আছেন যাদের বাড়ীতে গ্যাস বা বিদ্যুৎ নেই আবার অনেকে আছেন ভাড়া থাকেন। তাদের পক্ষে বিলের কপি দেয়া সম্ভব নয়। একটি দেশের সরকার কর্তৃক ইস্যুকৃত পাসপোর্টেই নাগরিকের বর্তমান, স্থায়ী সব ঠিকানা ও তথ্য লিপিবদ্ধ থাকে এবং সেটাই তাঁর পরিচিতির সবচেয়ে বড় প্রমাণ। অথচ ভারতীয় হাইকমিশন পাসপোর্টকে গুরুত্ব না দিয়ে বিলের ফটোকপিকে অধিক গুরুত্ব দিচ্ছে। তাছাড়া ভিসা আবেদনের জন্য ৪০০ টাকা ফি গ্রহণ করা হলেও ভারতীয় হাইকমিশন প্রায়ই ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যান করে এবং কখনো আবেদন প্রত্যাখ্যানের কোন কারণ ভিসাপ্রার্থীকে জানায় না। ফলে আবেদনকারী কখনো তাঁর ত্রুটির কথা জানতে পারে না। অথচ ইউরোপ, আমেররিকার দেশসমূহে ভিসার প্রত্যাখ্যাত হলে তারা রিফিউজাল লেটারের মাধ্যমে তা আবেদনকারীকে জানিয়ে দেয়। এ বিষয়গুলো নিরসন করে অচিরেই বাংলাদেশেীদের জন্য ভারতীয় ভিসা পদ্ধতি আরো সহজ করার জন্য ভারত সরকার উদ্যোগী হবে বলে আশা করছি।