ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

জমেরী সুলতানা হ্যাপী (ছদ্মনাম) (২৫) পাবনা জেলার ঈশ্বরদী উপজেলায় একটি প্রত্যন্ত গ্রামের নারী। কলেজে বি,কম পড়ছে। পড়ার সময় হঠাৎ করে একটি অপরিচিত নম্বর থেকে কল আসে। সে রিসিভ করে বুঝতে পারে একজন অপরিচিত পুরুষের কণ্ঠ। প্রথমে প্রস্তাব দেয় আমি আপনার সাথে বন্ধুত্ব করতে চাই। মোবাইল নম্বর কোথায় পেয়েছে জানতে চাইলে সে জানায়, ১০ টাকার নোটে নম্বরটি লেখা ছিল। হ্যাপী লাইন কেটে দিলেও প্রায়শ: অশ্লীল কথা-বার্তা বলত। কখনও মেয়ের কণ্ঠ করে অন্য নম্বর থেকে কল করত। হ্যাপী সহ্য করতে না পেরে সীমটি বন্ধ করে দেন। অথচ ওই সীমের নম্বরটি অন্যান্য আপনজনদের নিকট ছিল। এতে তাকে আবার যোগাযোগ করে মোবাইল নম্বর দিতে হিমশিম খেতে হয়েছে।
মেঘলা (ছদ্মনাম) একজন ইডন কলেজের ছাত্রী। আকর্ষণীয় চেহারা। যেমন চেহারা সুন্দর তেমনি সুমিষ্ট কণ্ঠ। রাস্তাঘাটে তরুণরা টিজ করে। কিন্তু তাতে সে কান দেয় না। একদিন রঙ নং থেকে মোবাইলে এক তরুণ পরিচয় দেয় কলেজের ছাত্র হিসেবে। ভদ্রভাবে কথা বলে লাইন কেটে দেয়। বখাটে রাতে পূণরায় কল করে প্রেম প্রস্তাব। এতে সে গালিগালাজ করলে তরুণ কুপ্রস্তাব দেয়। এরপর কল করলেই মেঘলা গালি-গালাজ করতো। এতে ওই তরুণ মাঝে মধ্যে অশ্লীল এসএমএস দিত। যে এসএমএসে নারী-পুরুষের নগ্ন ছবি থাকতো। এক পর্যায়ে অধৈর্য্য হয়ে মোবাইলের সীম পরিবর্তন করে মেঘলা। নতুন সীম ব্যবহার করলেও মাঝে মধ্যে বখাটে যুবকেরা কথা বলে উত্যক্ত করত। পরে অপরিচিত নম্বর থেকে কল আসলে সে রিসিভ করা বন্ধ করে দিত।

দেশের আইন যা বলে:
১৮৬০ সালের দন্ডবিধি আইনের ৫০৯ ধারায় বলা হয়েছে, কেউ কোন নারীর শালীনতার জন্য কোন মন্তব্য বা কোন বস্তু প্রদর্শন করলে উত্যক্তকারী ব্যক্তি এক বছর কারাদন্ডে অর্থাৎ অর্থদন্ডে বা উভয় দন্ডে দন্ডিত হতে পারে। এ নিয়ে আরো দু’ একটি আইনও রয়েছে। তবে এসব ক্ষেত্রে যেসব প্রমাণের কথা বলা হয়েছে তা বেশ কঠিন ও জটিল। অভিযোগ করতে গিয়ে মেয়েরা নানা বিব্রতকর অবস্থায় পড়ে বলে অনেক কিশোরী ও তরুণীর অভিভাবক আদালতে মামলা করতে আগ্রহী হয় না। এই জন্য কঠোর আইন প্রণয়ন করতে হবে।

বিশেষজ্ঞ মতামত:
জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউট এর সহকারী অধ্যাপক ডা. জিল্লুর রহমান জানান, মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বখাটেপনা ইদানীং বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মূল কারণ হচ্ছে, মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বখাটেপনাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রণয়ন করা প্রয়োজন। তরুণীরা অনেক সময় অশ্লীল কথা-বার্তা ও কু-প্রস্তাবের কারণে মানসিক টেনশনে ভেগে। এতে পড়া-লেখার অনেক ক্ষতি হয়।

মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বখাটেরা মুখ দ্বারা নারীদের প্রতি বিভিন্নভাবে অত্যাচার ও নির্যাতন করলেও সুনির্দিষ্ট কোন আইন না থাকায় অপরাধীরা মুক্তি পেয়ে যায়। এমনকি এব্যাপারে মোবাইল কোম্পানী সমূহের নিকট অভিযোগ করলে তারা নানা ধরনের পরামর্শ দিয়ে থাকে। যা নারীদের পক্ষ্যে সম্ভব নয়। কারণ মোবাইল কোম্পানী তাদের গ্রাহকদের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা মুনাফা অর্জন করছে বলে তারা লাইন বিচ্ছিন্ন করার ব্যাপারে আগ্রহী নন বলে জানান কয়েকজন ভুক্তভোগী নারীর অভিভাবক ।