ক্যাটেগরিঃ মুক্তমঞ্চ

 

‘‘ওই গাঁয়েতো বাবার বাড়ি, শ্বশুর বাড়ি ওই, তোমার বাড়ি কইগো নারী, তোমার বাড়ি কই’’ গান টি সকল পুরুষের মনে বেদনার সৃষ্টি না করলেও নারীবাদী পুরুষ ও সকল ধরনের নারীর কোমল হৃদয়ে বেদনার উদ্রেক সৃষ্টি করে। গানের কথা গুলো চির সত্য। যা এই দেশের হাজার হাজার নারী ভাগ্যে ঘটে থাকে।

সফেদা বেগম (৫৫)। গ্রামের অশিক্ষিত নারী। একটি মাত্র ছেলে ও পাঁচটি মেয়ে। সবার বিয়ে দিয়ে মাথার দায় শেষ করেছে এক যুগ আগে। স্বামী মারা গেছে মাত্র এক বছর পূর্বে। স্বামীর ৭ কাঠা বসত ভিটা ও ১২ কাঠার একটি বাগান ছিলো। একমাত্র ছেলে পাশের বাড়ির এক মৌলভী সাহেবর মাধ্যমে মা-বাবা উভয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে বসত ভিটা নিজ নামে উইল করে নেন। বিষয়টি জানাজানি হলে মেয়েদের জামাইগণ নানা নির্যাতন শুরু করে মেয়েদের ওপর। মেয়েরা মা-বাবা উভয়ের ওপর চাপ দেয় আমের বাগানটি তাদের নামে উইল করার জন্য। নইলে স্বামী কর্তৃক তালাকপ্রাপ্ত হয়ে ঘরে ফিরতে হবে।

ঘর ফিরলে আবার মহা বিপদ। তাই সফেদা ও স্বামী উভয়ে হাতের পাঁচ আমের বাগানটি মেয়েদের নামে উইল করে দেন ছেলের অজান্তে। কিছুদিন পর স্বামী মারা যায়। এবার সফেদাকে ছেলের বউ নানা মানসিক নির্যাতন করতে থাকে। পড়শিদের কাছে অভিযোগ করলেও সকলে হি!হি! করে হাসে।

এতে সে আগের পরামর্শ দাতা মৌলভীর নিকট এর বিচার দাবি করে। মৌলভী তাকে উল্টো গালি-গালাজ করে তাড়িয়ে দেয়। নিস্তার পাওয়ার আশায় কিছু দিন পর রাগ করে মেয়েদের বাড়ি চলে যায়। কিন্তু সেখানেও জামাইয়ের প্যানপ্যানানি মোটেই সহ্য হচ্ছিল না বলে আবার ছেলের কাছে আসে। ছেলে ও তার বউ তাড়িয়ে দেয়। এবার সফেদা বেগম অগত্যা । কী করবে ভেবে কূল পায় না। সম্পদ হাত ছাড়া না করলে হয়তঃ সফেদাকে এরূপ কষ্ট থাকতে হতো না।

অবশেষে কোন গতি না থাকায় গ্রামের বাদু বিবি নামের এক মহিলার সাথে দ্বারে-দ্বারে ভিক্ষা আরম্ভ করে। রাতে বাদু বিবির সাথে এক বিছানায় ঘুমায়। দিনে ভিক্ষা করে। একসময় সফেদা দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়। কিন্তু কে করবে তার চিকিৎসা। সঠিক চিকিৎসা না করায় সে একদিন মারা যায়।

শুধু সফেদা বেগম নয়, দেশে হাজার হাজার নারী সফেদার মত করুণ পরিণতির শিকার হন। নিজের সম্পদ ছেলে-মেয়েদের নামে উইল করার পর ছেলেরা ভাত-কাপড় না দিয়ে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়। অথচ মা অনেক কষ্ট করে ছেলে-মেয়েদের মানুষ করে। তারপরে একদিন তাকে বাড়ি ত্যাগ করতে হয়। থাকে না তার একুল ওকুল। হতে হয় পথের ভিখারী। ভিক্ষা করে অনেক নারীকে বেঁচে থাকতে হয়। তাই বলা হয়ে থাকে তোমার বাড়ি কই গো নারী……………………।