ক্যাটেগরিঃ প্রতিবন্ধী বিষয়ক

 

বাংলাদেশ তৃতীয় বিশ্বের একটি উন্নয়নশীল দেশ। জনসংখ্যা প্রায় ১৪ কোটি। ঘনবসতির দিক দিয়ে দ্বিতীয় স্থানে। প্রতি বর্গকিলোমিটারে বাস করে প্রায় ১০০০ জন। ৮০ ভাগ গ্রামে দারিদ্র্য সীমার নিচে বসবাস করে। এই জনসংখ্যার মধ্যে ১০ ভাগ তথা ১ কোটি ৫০ লাখ বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধী।

আরএস রেকর্ড অনুযায়ী দেশের ৪৩৬টি উপজেলায় এক লাখ ৭৭ হাজার ৯০৭ একর পাঁচ শতাংশ নিষ্কণ্টক কৃষি খাসজমি রয়েছে। এর মধ্যে চার হাজার ৬৭২ দশমিক ৪৪১২ একর ইতোমধ্যে বন্দোবস্তও দেয়া হয়েছে। যদি পুরো ৪৮২ উপজেলার হিসেবে ধরা হয় তবে সর্বমোট প্রায় দুই লাখ একর খাস জমি রয়েছে। দেশে অনেক ভূমিহীন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি রয়েছে। ১০ ভাগ প্রতিবন্ধী ব্যক্তির মধ্যে ১৪ ভাগ ভূমিহীন এবং প্রতিবছর ৩০ হাজার শিশু দৃষ্টিশক্তি হারাচ্ছে। এদের বেশির ভাগই রাস্তার পাশে সরকারী খাস জমিতে ঘর ও টিনের চালা দিয়ে ঘর বানিয়ে বসবাস করে। আবার শহরের প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা বস্তিতে ভাড়া বাড়িতে বসবাস করে। জীবিকা নির্বাহ করার জন্য এদের অনেকের পেশা ভিক্ষাবৃত্তি। প্রতিদিন ভিক্ষা করে যে টাকা উপার্জন করে তা দিয়ে সংসার চালায়। ভাসমান প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা যেখানে রাত সেখানেই কাত হয়ে পড়ে। থাকে না ঘুমানোর বিছানা। নিরাপদ পানীয় তারা পান করতে পায় না। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের মধ্যে অর্থাৎ মশা, মাছির স্তূপের মধ্যে বসবাস করে। ওসব ভূমিহীন প্রতিবন্ধীদের ছেলেমেয়েরা শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত।

ভূমিহীন প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ব্যাপারে বর্তমান সরকার সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখতে পারে। বর্তমান সরকার নির্বাচনী ইশতেহারে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের উন্নয়নে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তাই দেশের খাসজমি ভূমিহীন প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর মাঝে বণ্টন করে ওদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের উন্নয়নে কর্মরত সংগঠনের মাধ্যমে ভূমিহীন প্রতিবন্ধীদের সংখ্যা নির্ণয় করতে পারে। এ ছাড়াও বিভিন্ন পুনর্বাসন কেন্দ্র নির্মাণ করতে পারে। বিষয়টির প্রতি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

লেখক-
আজমাল হোসেন মামুন
উন্নয়নকর্মী এবং ফ্রিল্যান্স লেখক।
মোবাইল নং-০১১৯১০৮৯০৭৫.