ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

আজ সকালে প্রতিদিনের মতো পত্রিকা পড়তে পড়তে দৈনিক আমাদের সময় পত্রিকায় র‌্যাবের গুলিতে এক পা হারানো কলেজ ছাত্র লিমনের ওপর একটি সংবাদ পড়লাম। সব জাতীয় দৈনিক লিমনকে নিয়ে নিয়মিত প্রতিবেদন প্রকাশ করলেও আমাদের সময়ের প্রতিবেদনটি পড়ে কিছু লেখার আগ্রহ জন্মিলো আমার। তাই লিখতে বসলাম। সংবাদটির শিরোনাম, এভাবে আপনার ছেলে পা হারালে কি নিছক ‘ঘটনার শিকার’ বলে দায় এড়াতে পারতেন? র্য়াবের ডিজির কাছে লিমনের জিজ্ঞাসা | লিমন জানে হয়ত: সে এক পা ফিরে পাবে না। তাকে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের খাতায় নাম লিখাতে হবে। তারপরেও সে র্য়াবের এ কাজের প্রতিবাদ জানাচ্ছে। যেখানে বিচারের বাণী নীরবে কাঁদছে। আসমান, জমিন যেন লিমনের কান্নায় ভারি হয়ে ওঠছে। মানবতার বেদনা দিকবিদিক ছুটাছুটি করছে।

সংবাদে আরো বলা হয়েছে, মাত্র সাড়ে তিন লাখ টাকা পেলেই হাঁটতে পারবে লিমন। কৃত্রিম পা লাগানোর জন্য লিমনের বাঁ পায়ে আজ আবার অস্ত্রোপচার হবে। হাঁটুর উপরে সাড়ে তিন লাখ টাকা দামের কৃত্রিম পা লাগালে লিমন স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা, লেখাপড়া ও কাজ করতে পারবে। খেলতে পারবে ফুটবলও। বাংলাদেশেই এ ধরনের পা কিনতে পাওয়া যায়।
চিকিৎসক মো. আব্দুস সালাম জানান, গুলিবিদ্ধ হওয়ার ৬ থেকে ১২ ঘণ্টার মধ্যে লিমনকে পঙ্গু হাসপাতালে নিয়ে আসা গেলে হয়তো তার পা কাটতে হত না। বেঁচে যেত প্রতিবন্ধিত্বের হাত থেকে। ইতোমধ্যে রক্তনালি ছিঁড়ে তার পায়ের মাংসে পচন ধরেছিল। লিমনের মনে সারক্ষণই দুটো প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। সে কোনও সন্ত্রাসী নয় বলে স্বীকার করার পরও র্য়াব কেন তার বিরুদ্ধে থানায় দুটো মিথ্যা মামলা করল? লিমনের দ্বিতীয় প্রশ্নটি সরাসরি র্য়াবের মহাপরিচালকের কাছে রাখা- ‘এভাবে আপনার ছেলের পা হারালেও কি ‘ঘটনার শিকার’ বলে দায় এড়াতে পারতেন?

আমরা বাঙালি জাতি। আমাদের মধ্যে রয়েছে মমত্ববোধ। কিন্তু কিছু হায়েনা প্রকৃতির মানুষ রয়েছে যারা না বুঝে ক্ষমতার দাপটে নিরীহ মানুষের প্রতি নির্মম ব্যবহার করে। লিমনের ঘটনা থেকে শুধু র‌্যাবই নয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সকল সদস্যদের শিক্ষা গ্রহণ করা উচিত। লিমন যেভাবে জীবন সংগ্রাম করে এগিয়ে যাচ্ছিলো প্রতিবন্ধকতা কি শেষ পর্যমত্ম তার শিক্ষাজীবনের ইতি টানবে? তা কখনও আমরা আশা করবো না। কারণ, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতিটি অনুষ্ঠানেই উনার বক্তব্যে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রতি সহানুভূতিশীল আচরণ করার জন্য সকলের প্রতি উনি অনুরোধও করেছেন। একজন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে উনার বক্তব্যকে সবাই স্বাগত জানায়।

আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে আকুল আবেদন জানায়, লিমনের উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বিদেশে পাঠানো উচিত। কারণ, প্রতিবন্ধিতার বিষাদ যে কত যন্ত্রণাদায়ক যার প্রতিবন্ধকতা রয়েছে সে হাড়ে হাড়ে টের পান। আমরা চায় না যে, কোন সুস্থ্য স্বাভাবিক মানুষ প্রতিবন্ধিতার শিকার হোক। পাশাপাশি লিমনের পরিবারের মধ্য থেকে একজনকে সরকারি চাকুরি প্রদান করা উচিত। পরিশেষে, লিমন তুমি পা হারিয়েছ তাতে কি? হারিয়োনা মনোবল। র‌্যাবের গুলি তোমার এক পা কেড়ে নিতে পারবে কিন্তু কেড়ে নিতে পারবে না তোমার মনোবল। একদিন ঠিকই তোমার স্বপ্ন পূরণ হবেই। সে দিনের অপেক্ষায় রইলাম কোটি কোটি বাংলার জনতা। মহান আলস্নাহ রাববুল আলামীন তোমার মনোবলকে দৃঢ় করুক। আমরা দেশবাসী তোমার সাথে আছি। থাকবো।