ক্যাটেগরিঃ প্রতিবন্ধী বিষয়ক

 

আকর্ষণীয় চেহারা, হাস্য উজ্জ্বল মুখের অধিকারী সুরাইয়া আক্তার বাবলী (১৭) একজন ক্ষীণ দৃষ্টি প্রতিবন্ধী কিশোরী। মঙ্গাপীড়িত জেলা নীলফামারী থেকে ঢাকায় এসেছে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করার জন্য। বাবা রঙ মিস্ত্রীর কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে। তবুও বাবা-মায়ের আশা বড় সন্তান হিসেবে তাকে লেখা-পড়া শেখানোর। প্রথমে ঢাকায় বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী কল্যাণ সমিতি (বিপিকেএস) নামক একটি বেসরকারি সংস্থায় ‘তিন মাস মেয়াদী কম্পিউটার প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে। কম্পিউটার প্রশিক্ষক রাসেল হাসানের ঐকান্তিক চেষ্টায় বদরুননেসা সরকারি কলেজে এইচ এসসিতে ভর্তি হয়। ভর্তি হওয়ার পর সীট পেতে কষ্ট হয়েছে তার। পরবর্তীতে অনেক কষ্ট করে সীট পেতে হয়েছে তাকে। হোস্টেলে সীট না পেলে হয়ত তার ক্লাস করা সম্ভব হতো না।

মাদারীপুর থেকে লেখা-পড়া করে ডিগ্রি পাস করেছে আনোয়ারা খাতুন মিলি নামের এক দৃষ্টি প্রতিবন্ধী নারী। মাষ্টার্স ডিগ্রী অর্জন করে একটি চাকুরি পাওয়ার আশায় মূলত ঢাকায় ভর্তি হওয়া। হোস্টেলে সীট না পাওয়ায় বাধ্য হয়ে প্রাইভেটে ভর্তি হতে হয়েছে সরকারি বাঙলা কলেজে। এতে সে নিয়মিত ক্লাস করতে পারে নি। শুধু মাত্র পরীক্ষা দিবে।

শুধু এ সমস্যা ঢাকা শহরেই নয়। প্রতিটি বিভাগীয় শহরে। একদিকে রাস্তা-ঘাট শারীরিক ও দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের চলাচলের উপযোগী নয়। অন্যদিকে হোস্টেলে প্রতিবন্ধী নারীদের সীটের অভাব। এখনও অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের হোস্টেল সুপার প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে হোস্টেলে সীট বরাদ্দ দেয় না। ফলে অনেক প্রতিবন্ধী নারী শিক্ষা জীবন থেকে অকালে ঝড়ে পড়ে। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বঞ্চিত হয় দৃষ্টি প্রতিবন্ধী নারীরা।

বাইরে হোস্টেলে থেকে লেখা-পড়া করা অনেক ব্যয় বহুল প্রতিবন্ধী নারীদের জন্য। অন্যদিকে সামাজিক নিরাপত্তার ব্যাপারটিও অনেক প্রতিবন্ধী নারী ও তাদের পরিবারকে ভাবিয়ে তুলে।তবে বিশ্ববিদ্যালয় সমূহে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কোটা সংরক্ষণ থাকায় হোস্টেলে সীট নিয়ে তেমন সমস্যায় পড়তে হয় না বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া প্রতিবন্ধী নারীদের। কিন্তু সরকারি কলেজ বা বেসরকারি কলেজে অধ্যায়নরত প্রতিবন্ধী নারীদের সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়।

ঢাকার মিরপুর প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের উন্নয়নে কর্মরত ‘সেন্টার ফর ডিফারেন্টলি এ্যাবল্ড (সিডিএ) নামক একটি সংগঠন প্রতিবন্ধী নারীদের জন্য হোস্টেল তৈরি করেছিলো। সেখানে নামে মাত্র একটি ফি দিয়ে প্রতিবন্ধী নারীরা সেখানে অবস্থান করে লেখা-পড়া চালিয়ে যেতো। কিন্তু সংশি¬ষ্ট প্রতিষ্ঠানের কমিটির মধ্যে নানা মতেনৈক্য দেখা দেওয়ায় হোস্টেলটি বন্ধ হয়ে যায়।
প্রতিবন্ধী নারীদের হোস্টেলে সীট সমস্যা উচ্চ শিক্ষার পথে বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের শিক্ষার ব্যাপারে উৎসাহিত করার জন্য সরকার মাসিক ভাতার ব্যবস্থা করেছে। এতে কিছুটা হলেও দুর্দশা লাঘব হচ্ছে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান বিভাগে অধ্যায়নরত শেষবর্ষের ছাত্রী কাজী ফাহিমা মুন্নী জানান, আমরা শামসুন্নাহার হলে থাকি। সেখানে কয়েকজন প্রতিবন্ধী নারী আছে। তারা খুবই মেধাবী। আমরা তাদের সহযোগিতা করি।

নাসিমা বেগম নামের একজন প্রতিবন্ধী ছাত্রীর অভিভাবক জানান, বাসে প্রতিবন্ধী ও নারীদের জন্য যানবাহনে নির্দিষ্ট সীট সংরক্ষণ করার কথা থাকলেও তা সংরক্ষণ করা হয় না। অথচ আমরা একদিকে নারী অন্যদিকে প্রতিবন্ধী।প্রতিবন্ধী নারীদের শিক্ষার প্রতি উৎসাহিত করা সকল নাগরিকের দায়িত্ব ও কর্তব্য। এই বিষয়ে সংশি¬ষ্ট কর্তৃপক্ষসহ দেশের প্রতিটি নাগরিককে এগিয়ে আসতে হবে। নইলে হোস্টেলে সীটের অভাবে অসংখ্য প্রতিবন্ধী নারী শিক্ষা জীবন থেকে ঝড়ে পড়বে।