ক্যাটেগরিঃ প্রকৃতি-পরিবেশ

আসাদ্দর মিয়ার নার্সারী (ছবিটি লেখক মৌলভীবাজার থেকেই নিজেই ক্যামেরা বন্দী করেছে)

মৌলভীবাজার জেলার সদর উপজেলার কনকপুর ইউপির দামিয়া গ্রামের অধিবাসী আসাদ্দর মিয়া (৪৮) একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তি হয়েও নার্সারি করে স্বাবলম্বী । ১০ বছর পূর্বে মৌলভীবাজার শহরে হেটে যাচ্ছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে মোটর সাইকেলে ধাক্কা দিলে ডান পায়ে আঘাত পায়। কবিরাজী পদ্ধতি ও আধুনিক চিকিসা নিলেও সম্পূর্ণ সুস্থ্য হতে পারে নি আসাদ্দর মিয়া। দুর্ঘটনায় আক্রান্ত হওয়ার পর বাড়িতে বসে হেলায় সময় কাটছিল তার। ২০০৩ সালে বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী কল্যাণ সমিতি (বিপিকেএস) নামক একটি বে-সরকারি সংস্থা প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের উন্নয়নের লক্ষ্যে ‘উন্নয়নে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের স্ব-উদ্যোগ (পিএসআইডি)’ এপ্রোচ বাস্তবায়নের কাজ আরম্ভ করে। অন্যান্য প্রতিবন্ধীদের মতো তাকে সনাক্ত করা হয়। সে উক্ত সংগঠনের সদস্য হয়ে নানা বিষয়ের ওপর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে আত্মবিশ্বাসকে দৃঢ় করে। এরপর ২০০৫ সালে পার্শ্ববর্তী হাজী মোঃ মৌদুরিসের নিকট ২ বিঘা জমি বর্গা নিয়ে নার্সারি গড়ে তোলে। সারাদিন সে ও তার ছেলে, মেয়ে ও স্ত্রী হাড় ভাঙ্গা পরিশ্রম করে নার্সারিতে বিভিন্ন ধরনের ফলের গাছ (কমলা, আতাফল, কাঁঠাল ও পেপে), বনাজী ঔষধের গাছ লাগান। প্রতিদিন ব্যস্ত থাকে পরিচর্যায়। পৌষ মাস থেকে গাছসমূহের পরিচর্যা শুরু করেছে। এ বছর প্রায় ১ লাখ টাকা খরচ করা হয়েছে। জমির মালিক অর্ধেক খরচ বহন করে বলে সে জানায়। আষাঢ় মাস থেকে গাছ সমূহ বিক্রি করবে।

এছাড়াও বাড়িতে সে ১০ শতাংশ জমিতে বিভিন্ন ধরনের গাছ লাগিয়েছে। অনেক সময় বাড়ি থেকে চারা এনে নার্সারিতে রোপন করে থাকে। সে দুঃখের সাথে জানান যে, আজ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট এলাকার কৃষিবিদ বা কোন বেসরকারি সংস্থা তার নার্সারি দেখতে আসেনি এবং সহযোগিতাও করেনি প্রতিবন্ধী ব্যক্তি হিসেবে। তবে মৌলভীবাজার ডিজএ্যাবল্ড পিপলস্ অর্গানাইজেশন টু ডেভেলপমেন্ট নামে একটি বেসরকারি সংস্থার নিকট থেকে মাত্র ৫ হাজার টাকা ঋণ পেয়েছে।

প্রতিবন্ধী আসদ্দার মিয়ার প্রতি সরকারি বা বেসরকারি সংস্থা সমূহ সহযোগিতা করলে হয়ত; এ নার্সারি পরিবেশ রক্ষার্থে বড় ধরনের অবদান রাখতে পারে।