ক্যাটেগরিঃ ফিচার পোস্ট আর্কাইভ, স্বাধিকার চেতনা

 


ছবি ক্যাপশন: ছবিতে মামলার বাদি বদিউর রহমান বুদ্ধু মধ্যখানে রয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আটক চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার মাহিদুর রহমান ও আফসার হোসেন ওরফে চুটুর আমৃত্যু কারাদণ্ড ঘোষণা করেছে ট্রাইব্যুনাল। এই রায় শোনার পর শহীদ পরিবারের স্বজনরা রায় শুনে খুশি হতে পারেননি। তবে তারা বলেন, আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে আমরা এ রায় মেনে নিচ্ছি।

এ দুই রাজাকারসহ ১২ জনের নামে প্রথম চাঁপাইনবাবগঞ্জের আদালতে মামলা করেছিলেন ১৯৭১ সালে বাবাকে হারানো শিবগঞ্জের মনাকষা ইউনিয়নের পারচৌকা গ্রামের শহীদ মুসলিম উদ্দীনের ছেলে বদিউর রহমান বুদ্ধু। রায়ের প্রতিক্রিয়ায় তিনি জানান, এই দুই রাজাকার ১৯৭১ সালে ৬ ও ৭ অক্টোবর মনাকষা, বিনোদপুর ও দুর্লভপুরের আমার প্রাণপ্রিয় বাবাসহ ৪০ জন নিরীহ মানুষকে হত্যা করেছে। ধর্ষণ করেছে অনেক মা-বোনকে। এমনকি পুড়িয়ে ছাড়খার করেছে অনেক বাড়ি ঘর। লুটপাট করেছে অনেকের সম্পদ। আমরা আশা করেছিলাম, দুই জন যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি হবে। কিন্তু আদালত তাদের আমৃত্যু কারাদ- দিয়েছে। আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে বলছি, এ রায়ে আমরা পুরোপুরি সন্তুষ্ট নয়। আসামীদের সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসি যাতে হয় সেজন্য আপিলের উদ্যোগ নিব ।

বিনোদপুর ইউনিয়নের চাঁনশিকারী গ্রামের মুক্তিযুদ্ধে শহীদ ফজলুর রহমানের ছেলে আঃ রাকিব হোসেন আইনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এ রায়কে মেনে নিয়ে বলেন, আমার বাবাসহ ৩৯ জন লোককে হত্যা সুনির্দিষ্টভাবে প্রমাণিত হওয়ার পরও যদি তাদের শাস্তি আমৃত্যু কাড়াদ- হয় তবে আর কত জনকে হত্যা করলে তাদের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হত এ প্রশ্ন জাতির কাছে।

বিনোদপুর ডিগ্রী কলেজের অধ্য রূহু আমিন জানান, আমৃত্যু কারাদন্ডের রায়ে আমি ব্যক্তিগতভাবে খুশি হতে পারি নি, তবে আদালত যা করেছে তার প্রতি শ্রদ্ধা রয়েছে। শিবগঞ্জ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোহাম্মদ বজলার রহমান সোনু জানান, এই রায়ে আমরা হতাশ হয়েছি, আজ (বুধবার) সন্ধার পরে শিবগঞ্জ উপজেলার মুক্তিযোদ্ধারা বসে রায়ের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নিব।

বীর মুক্তিযোদ্ধা ও আদিনা ফজলুল হক কলেজের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক মোহাঃ ইব্রাহিম জানান, আমরা মাননীয় প্রধান মন্ত্রীসহ আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের সকলকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আমরা আশা করি, দেশের সকল যুদ্ধাপরাধীর বিচার অবশ্যই বর্তমান সরকার দ্রুত বাস্তবায়ন করবে।

এদিকে রায় ঘোষণার পর বিনোদপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এলাবাকাবাসী আনন্দ মিছিল বের করে। মনাকষা, খাসের হাট, বিনোদপুর, দাদনচক বাজারে এলাকাবাসী মিষ্টি বিতরণ করে আনন্দ উৎসব করেছে। সকাল থেকে রায় শোনার জন্য সর্বস্তরের মানুষ বাজার ও চায়ের স্টলে বসে ছিল।

 

(ব্লগার যুদ্ধাপরাধীদের এলাকায় অবস্থান করে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছেন)