ক্যাটেগরিঃ প্রতিবন্ধী বিষয়ক

আত্ম-প্রত্যয়, স্ব-উদ্যোগ ও কারো সহযোগিতা পেলে যে কোন মানুষ নিজের পায়ে দাঁড়াতে সক্ষম কথাটি বললেন রেখা বেগম (৩৫) নামের এক শারীরিক প্রতিবন্ধী নারী। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা ও দারিদ্র যার জীবনকে হার মানাতে পারেনি সে হচ্ছে একজন প্রতিবন্ধী নারী রেখা বেগম।

মানিকগঞ্জ জেলার সদর উপজেলার সেউটা গ্রামে বসবাস করে রেখা বেগম। জন্মগতভাবে তিনি প্রতিবন্ধিতার শিকার এই রেখা বেগম। বাল্যকাল থেকেই পরিবার তাকে নিয়ে নানা চিন্তা-ভাবনা করত। কারণ একদিকে প্রতিবন্ধী অন্যদিকে নারী। পরিবারের অবস্থাও তেমন সচ্ছল নয়। ফলে তার বয়স যখন ২০ বা ২৫ বছর তখন দারিদ্র্যতার কারণে দ্বারে-দ্বারে ভিক্ষা না করে গ্রামের বাসা বাড়িতে ঝিয়ের কাজ আরম্ভ করে। এতে খাওয়া-দাওয়া বাদে মাসিক তিন থেকে চারশ টাকা আয় হতো। তখনও গ্রামবাসী বুঝে ওঠতে পারেনি রেখা বেগম একদিন স্বাবলম্বী তথা আত্মনির্ভরশীল হয়ে নিজের পায়ে দাঁড়াবে। তাদের ধারনা হয়ত: ঝিয়ের কাজ করেই জীবন অতিবাহিত করতে হবে তাকে। কিন্তু একটি বে-সরকারি সংস্থার সহযোগিতা ও স্ব-উদ্যোগের কারণে সে আশার আলো দেখেছে।

১৯৯৬ ইং সালে বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী কল্যাণ সমিতি (বিপিকেএস) মানিকগঞ্জ জেলার সদর উপজেলার পৌরসভা, দীঘি ইউপি ও কোরপাড়া ইউপিতে ‘‘উন্নয়নে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের স্ব-উদ্যোগ (পিএসআইডি)’’ এপ্রোচ বাস্তবায়নের কাজ ১৯৯৬ সালে শুরু করেন।

প্রথমে পৌরসভা ও দু’টি ইউপিতে জরিপ চালানো হয়। জরিপের মাধ্যমে অন্যান্য প্রতিবন্ধীদের সাথে রেখা বেগম কে প্রতিবন্ধী হিসেবে চিহৃিত করা হয়। জরিপের মাধ্যমে সণাক্তকৃত সকল প্রতিবন্ধীদের সমন্বয়ে গঠিত হয় ‘মানিকগঞ্জ ডিজএ্যাল্ড পিপলস্ অর্গানাইজেশন টু ডেভেলপমেন্ট (এমডিপিওডি) নামক সংগঠন। যে সংগঠনে প্রতিবন্ধী নারী ও পুরুষেরা সমভাবে নিজেদের উন্নয়নের জন্য স্বাধীন মতামত প্রকাশের সুগোগ পাবে। রেখা বেগম সে সংগঠনের সদস্য হন এবং ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য নিয়মিত সঞ্চয় আরম্ভ করে।

এর পর ‘এমডিপিওডি’তে সে বেসিক ট্রেনিং অন ডিজএ্যাবিলিটি, সেলফ কনফিডেন্স, কান্ট্রি স্টাটাস্, ইনকাম জেনারেটিং এ্যাকটিভিটি, লিডারশিপ, পিএসআইডি অরিয়েন্টেশন, জেন্ডার ইস্যু, একসেসেবুল স্যানিটরি ল্যাট্রং এ্যান্ড টিওবয়েল, প্রোগ্রাম এ্যাকসেলারেইট, এ্যাডভোকেসি এ্যান্ড লবিং, লোকালাইজেশন পাওয়ার এ্যান্ড প্রোগ্রাম এবং ডিপিওডি (ডিজএ্যাবল্ড পিপলস্ অর্গানাইজেশন টু ডেভেলপমেন্ট) ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে মোট ১২ টি ট্রেনিং গ্রহণ করে আত্ম প্রত্যয়ে বলিয়ান হয়ে উঠে।

‘এমডিপিওডি’-এর একজন উন্নয়ন কর্মীর পরামর্শে মানিকগঞ্জ যুব অধিদপ্তর থেকে গবাদি-পশু পালনের ওপর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে। প্রশিক্ষণ শেষে সে ‘এমডিপিওডি’ থেকে বিশ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে প্রথমে একটি গাভী ক্রয় করে। ফলে গাভীর দুধ বিক্রি করে সংসার চালানোর পাশাপাশি ঋণ পরিশোধ করে দেয়। ক্রমান্বয়ে তার আয়-উপার্জন বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। বর্তমানে তার গাভী প্রতিদিন গড়ে ৮ থেকে ৯ লিটার দুধ দেয়। এতে মাসিক চার থেকে পাঁচ হাজার আয় হয়। নিজ উদ্যোগ ও পরিশ্রমের দ্বারা রেখা বেগম এখন স্বাবলম্বী। তবে সরকারি ব্যাংক থেকে মোটা অংকের ঋণ পেলে বড় ধরনের দুগ্ধ খামার গড়ে তুলতে পারবে বলে জানা গেছে।