ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

শিক্ষক সংকটে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যহত হচ্ছে চাপাইনবাবগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হরিমোহন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে। এতে সুন্দরভাবে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করতে পারছেন না শিক্ষকরা। শিক্ষক সংকট থাকার ফলে শিক্ষকদের অতিরিক্ত ক্লাস নিতে হচ্ছে। অনেক শিক্ষক অতিরিক্ত ক্লাস করতে গিয়ে অসুস্থও হয়ে পড়ছেন।

বর্তমানে প্রভাতী ও দিবা শাখায় প্রায় ১৩শ’ শিক্ষার্থীর বিপরীতে স্কুলটিতে শিক্ষক রয়েছেন মাত্র ৩৬ জন। এর মধ্যে একজন আবার সংযুক্তি শিক্ষক হিসেবে রয়েছেন রাজশাহীতে। মোট ৫০ জন সহকারি শিক্ষক পদের ১৪টি শূন্য রয়েছে।

বিদ্যালয়টির আট বিষয়ের মধ্যে পাঁচটিতেই প্রয়োজনের তুলনায় কম শিক্ষক রয়েছে।

এগুলো হলো- বাংলায় আটজনের স্থলে চারজন, ইংরেজিতে আটজনের স্থলে পাঁচজন, গণিতে ছয়জনের স্থলে তিনজন, সামাজিক বিজ্ঞান বিষেয় চারজনের স্থলে সাতজন, ভৌত বিজ্ঞান বিষয়ে চারজনের স্থলে তিনজন, জীববিজ্ঞান বিষয়ে চারজনের স্থলে একজন, ব্যবসায় শিক্ষায় চারজনের স্থলে একজন এবং ভূগোলে দুইজনের স্থলে একজন শিক্ষক।

তবে কোন শূন্য পদ না রেখে ধর্ম ও নৈতিক বিষয়ে চারজন, চারুকলায় দুইজন ও কৃষি শিক্ষায় দুইজন শিক্ষক আছেন। আর শারীরিক রয়েছে দুই জনের স্থলে তিনজন শিক্ষক। বিশেষভাবে উল্লেখ করার বিষয় হলো, ১৮৯৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এ প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষকের পদটি দীর্ঘদিন ধরে খালি রয়েছে। এছাড়া অফিস সহকারি পদে দুইজনের স্থলে একজন এবং অফিস সহায়ক পদে পাঁচজনের স্থলে তিনজন কর্মরত রয়েছেন।

ফলে মোট হিসেব অনুযায়ী সহকারি শিক্ষক ১৪ জন, অফিস সহকারি একজন এবং অফিস সহায়ক দুইজনের পদ শূন্য রয়েছে বিদ্যালয়টিতে। দীর্ঘদিন ধরে এসব পদে নিয়োগ বন্ধ থাকায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

শিক্ষক সংকটের বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কোন কাজ হচ্ছে না। অথচ প্রতিদিন ষষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেণি পর্যন্ত মোট ৩৫টি বিষয়ে পড়ান শিক্ষকরা। জনপ্রতি গড়ে চার থেকে পাঁচটি বিষয়ে পাঠদান করতে হচ্ছে তাদের। এছাড়া আইসিটি (তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি) বিষয়টি নতুন হওয়ায় এ বিষয়ে শিক্ষকের পদ সৃষ্টি করা প্রয়োজন।

তবে সংকট থাকা সত্ত্বেও শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের যৌথ পরিশ্রমে প্রতিবারের ন্যায় এবারো জেলায় ফলাফলে সেরা অবস্থান ধরে রেখেছে বিদ্যালয়টি। জেএসসি বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফলেও জেলায় সেরা অবস্থানে রয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

বর্তমানে বিসিএসে উত্তীর্ণ (নন ক্যাডার) চাকরি প্রার্থীদের সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে অধিকতর মানসম্পন্ন শিক্ষক পাচ্ছে বিদ্যালয়গুলো। কিন্তু এ পর্যন্ত হরিমোহন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে এমন কোন শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়নি। পিএসসি যদি চাহিদামাফিক শিক্ষক নিয়োগ দেয়, তাহলে সরকারি মাধ্যমিকে শিক্ষক সংকট একেবারে কমে আসবে বলে আমি মনে করি। এ বিষয়ে তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।