ক্যাটেগরিঃ ফিচার পোস্ট আর্কাইভ

 

পাখিরা আপন মনের সুরে গান গাইছে। মৃদূ বাতাস বইছে। সুর্যের লালিমা উঠার পূর্ব মূহুর্তে খাঁন সাহেবের মনে পড়ল তাকে দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকা অফিস আর. কে. মিশন রোড যেতে হবে। সেখানে লেখার কিছু বিল তুলতে হবে। সে মাসের মধ্যে অন্তত: একবার ফাইজুল ভাইয়ের নিকট পরামর্শের জন্য যান। ফাইজুল ভাই ইয়ং হলেও নিজ যোগ্যতা ও মেধার দ্বারা দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকার মত পত্রিকায় চাকুরি পেয়েছেন। তিনি বিকাল ৪ টার পর অফিসে আসেন। খাঁন সাহেব ১১ টার মধ্যে গিয়ে হাজির। অবশেষে কিছু দুর হেঁটে প্রতিবন্ধী কল্যাণ সমিতি (পিকেএস) অফিসে গেল। পূর্ব থেকেই সে অফিসে যাওয়া আসা করত। অফিসে গিয়ে নির্বাহী পরিচালকের সাথে কথা বার্তা আলোচনা শুরু হয়। ১০ দিন পূর্বে পিকেএস অফিসের কর্মী মাসুদ কে নাকি সচিব শরিফ হাজারী মেরে রক্তাক্ত করেছিল। খবরটি খাঁন সাহেব তাঁর অফিসে মাসুদের মুখ থেকে শুনেছে। খাঁন সাহেব খুব কষ্ট পেয়েছিল। কারণ মাসুদ এক চোখে দেখতে পান না। সরকারি তিতুমীর কলেজ থেকে হিসাব বিজ্ঞান বিভাগে অনার্স ও মাষ্টার্স দ্বিতীয় শ্রেণীতে উত্তীর্ণ হয়ে ‘পিকেএস’ সংস্থায় চাকুরি নেয়। মাসুদের অভিযোগ, আমি আমার বেতন চাওয়ায় আমাকে মেরে রক্তাক্ত করল। আমি প্রতিবন্ধী বলেই আমার প্রতি অবিচার। বিষয়টি নিয়ে ‘পিকেএস’-এর চেয়ারম্যান আনোয়ার হাজারীর সাথে খোলাখুলি আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে খাঁন সাহেব। চেয়ারম্যান বলল, ‘‘খোদার কসম! আমি তার গায়ে হাত তুলিনি। সে একটা মিথ্যা অপবাদ দিয়েছে।’’
খাঁন সাহেবও কিন্তু একজন ক্ষীণ দৃষ্টি প্রতিবন্ধী। একসময় আনোয়ার হাজারী ও খাঁন সাহেব মাসুদের প্রসঙ্গ বাদ দিলো। পিকেএস-এর সেক্রেটারী ফারুক হাজারী বলল, ‘‘ভাই, আপনি অনুগ্রহ পূর্বক মাসুদ কে ফোন করে বিষয়টি জেনে নিন।’’ মাসুদের একটি একটেল ও একটি গ্রামীণ ফোনের নম্বর দিল। গ্রামীণ ফোনটি বন্ধ হলেও একটেল নম্বরে কল দিল খাঁন সাহেব।
রিসিভ করতেই এক সুমধুর মেয়ের কণ্ঠ। তার মনে হলো কোন সুন্দরী মেয়ে। হয়ত: মডেল বা অভিনেত্রী হবে।
নাম্বারটি ছিলো রঙ নাম্বার। মেয়েটির বাড়ি পাবনা জেলার ঈশ্বরদীতে। নাম সুখী। দুঃখ কী জীবনে তা দেখে নি। বাবা একজন হার্ডওয়ারের দোকানদার। আয় রোজগার ভালোই বলা যেতে পারে। বসত ভিটা ও দোকান ছাড়া কোন সহায় সম্বল নেই তাদের। কিন্তু পরিবারে সুখের শেষ নেই। টেলিফোনে কথা হতে হতে ২০০৮ সাল নতুন বছরের ১ জানুয়ারী তারা ফোনের মাধ্যমে একে অপরকে ভালোবাসার কথা জানায়। সুখী লজ্জায় নীরব থাকলেও খাঁন সাহেবের সবকিছু জেনে না করতে পারে নি।
এরপর থেকে শুরু হয় প্রেমালাপ। সময় পেলেই রাত দিন আলাপ জমতে থাকে। মাঝে মধ্যে সুখী ও খাঁন সাহেব দু’জনে দু’জনাকে জড়িয়ে ধরে। রাঙ্গা ঠোটে চুমু একে দেয়। গালে হাত বুলিয়ে দেয়। আদরের কোন কমতি রাখে না কেউ। অনেক সময় বর ও বউ বলে ডাকে। তাতে দু’জনে খুব খুশি হয়।
কিন্তু সুখীর বয়স বাড়ছে। রূপ লাবণ্য উপচে পড়ছে। তাই বিয়ে আসছে চারদিক থেকে। ডাক্তার, প্রাইমারী স্কুলের শিক্ষক এবং ব্যবসায়ীসহ সব ধরনের পাত্র দেখতে আসছে। বিষয়টি খাঁন সাহেবকে না জানিয়ে উপায় নেই। খাঁন সাহেবের কাছে জীবন সোপে দিয়েছে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে। খাঁন সাহেব সান্ত্বনা দেন, আমার প্রিয় সুখী। তুমি আমারই হবে। তুমি আমারই থাকবে। ধর্য্য ধরো প্রিয়তমা। কিছুদিন অপেক্ষা করো।
সুখী সারা রাত মোবাইলে কথা বলায় দিনে ঘুম যেতে হয়। একদিন ওর ছোট খালা জিজ্ঞাসা করল: কি হয়েছে সুখী? দিন দিন তুই শুকিয়ে যাচ্ছিস। তোর প্রতি বাবা-মার কোন খেয়াল নেই।
সুখী খালাকে বলল: খাঁন সাহেবের সাথে তাঁর প্রেমের কথা।
সুখীর কাছ থেকে খাঁন সাহেবের মোবাইল নং নিয়ে সরাসরি কথা বলল খাঁন সাহেবের সাথে। খাঁন সাহেব খালাকে সম্মান করলো। বিয়ে করার কথাও বলল খালাকে। কিন্তু সময় লাগবে। বাবার বড় ছেলে। ভাই-বোনেরা লেখা-পড়া করছে। সুখী রেগে যায় খাঁন সাহেবের ওপর। এরপর থেকে দু’জনের মধ্যে যোগাযোগ বন্ধ হয় কিছু দিনের জন্য। হঠাৎ খাঁন সাহেব ভুল বুঝতে পারে। খাঁন সাহেব সুখীকে ফোন দিলে আর ধরে না। এখন বিরহে কাটে খাঁন সাহেবের দিন। শুধু রাতে স্বপ্নে জানায় সুখীর প্রতি ভালোবাসা। কিন্তু সুখী কি ভালোবাসা গ্রহণ করে?