ক্যাটেগরিঃ গণমাধ্যম

আজ বেলা ২ টায় বিডি নিউজ ২৪ ডটকমে ‘বিএসএফের নির্যাতনে আহত যুবকের মৃত্যু’ শিরোনামে একটি সংবাদ চোখে পড়লো। আমার গ্রামের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলায় হওয়ায় খবরটি আমার হৃদয়কে নাড়া দিয়েছে। চাঁপাইনবাগঞ্জ সর্ব পশ্চিমের সীমান্তবর্তী জেলা। এ ধরনের ঘটনা প্রতি বছরই ঘটে থাকে। এটা নতুন কিছু নয়। এর আগে বহু পতাকা বৈঠক হয়েছে। স্থানীয় সাংবাদিকরা সংবাদ প্রকাশ করেছে। কিন্তু এর প্রতিকার হয় নি। বিডিনিউজ২৪ ডটকম আরেকটি নিউজে জানিয়েছে যে, গত বছর বিএসএফ চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিভিন্ন সীমান্তে ১৩ বাংলাদেশিকে গুলি অথবা নির্যাতন করে হত্যা এবং ১১ জনকে আহত করে। ওই বছর শুধু সেপ্টেম্বর মাসে বিএসএফ ৩ জনকে হত্যা ও ৬ জনকে আহত করে। বিডিআর কর্মকর্তারা বলেন, বিএসএফ বিভিন্ন সময় নিরীহ মানুষকে হত্যা না করার নিশ্চয়তা দিয়েও বারবার তারা এ ধরনের ঘটনা ঘটাচ্ছে। এ দিকে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলেছে, হত্যা এবং অন্য মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষা বাহিনীর (বিএসএফ) বিচার হওয়া উচিৎ।

এ ধরনের প্রতিবাদ বহু দেখেছি। কাজে আসে নি। কেন এমন হয় সেটা আমাদের জানার বাইরে থেকে গেছে। সীমান্তবর্তী মানুষদের অনেকে চোরাচালানের সাথে জড়িত থাকতে পারে। এটা যেমন সত্য ঠিক বিএসএফের মাথায় থাকা উচিত যে, এক হাতে যেমন তালি বাজে না। তেমনি এক দেশের মানুষের দ্বারা চোরাচালান ব্যবসা করাও অসম্ভব। বিএসফ এটা নিঃ জানে। তারপরেও নিরীহ বাঙালিদের নির্বিচারে গুলি করে হত্যা করেই চলেছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন সমূহ শুধু নিন্দা জানাচ্ছে। কিছুই করতে পারছে না। হচ্ছে না কোন সমাধান। শুধু রক্ত ঝরছে নিষ্ঠুর বিএসএফের বুলেটের গুলিতে।

বাংলাদেশী জোয়ানরা সবসময় ভীত সঙ্কিত থাকে। কারণ, ভারত আমাদের থেকে সবদিক দিয়েই শক্তিশালী। পরাশক্তিধর রাষ্ট্র। যা ইচ্ছা তাই করলেও কেউ কিছু বলতে পারবে না। আমরা স্বাধীনতার পর থেকেই ভারতকে প্রতিবেশী রাষ্ট্র হিসেবে সম্মান জানিয়ে আসছি। ভারত প্রথম বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিয়েছে বলে আমরা তাদের প্রতি চির কৃতজ্ঞতা দেখিয়ে আসছি। সার্কভূক্ত একটি রাষ্ট্রও বটে। আমাদের সাথে রয়েছে কুটনৈতিক সম্পর্ক। তবে কেন নির্বিচারে বাঙালি কৃষক এবং দিনমজুরদের হত্যা করছে। আমাদের দেশের সরকার কি ধরনের ব্যবস্থা নিচ্ছে সে সম্বন্ধেও আমরা ওয়াকিবহাল নয়। অপরাধী হলে আইনের কাঠ গড়াতে বিচার হতে পারে। কিন্তু গুলি করে মারার অধিকার তো নেই। তারপরেও আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি বিন্দুমাত্র শ্রদ্ধা না জানিয়ে বিএসএফ বছরের পর বছর ধরে হত্যা করে আসছে আমাদের দেশের নিরীহ সীমান্তবর্তী মানুষদের।

ইতোপূর্বে বছর ছ’য়েক আগে আমি শিবগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় গেছি। দেখেছি তারা আতঙ্কের মধ্যে বসবাস করে। অনেক সময় দেখা যায়, ভারতীয় ঘোষেরা আমাদের বাংলাদেশে প্রবেশ করে সীমান্তবর্তী মানুষের গরু-ছাগল এবং ফসল জোর করে নিয়ে যায়। যেসব খবর হয়ত: স্থানীয় মিডিয়াকর্মীদের নজরে পড়ে না। হয়ত: আমাদের দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীরাও জানাতে অপারগতা প্রকাশ করে।

পরিশেষে বলতে চাই, বাংলাদেশকে কুটনৈতিক সম্পর্কের মাধ্যমে এ বিষয়টির সমাধান করতে হবে। নইলে সীমান্তবর্তী এলাকায় হাজার হাজার একর উর্বর জমি অনাবাদি হয়ে যাবে। প্রাণের ভয়ে কেউ চাষাবাদ করতে যাবে না। কৃষক এবং দিনমজুরদের মূল সম্পদ হচ্ছে তাদের দেহ। এ দেহ চীরতরে কেউ হারাতে চাইবে না। সময়ের চেয়ে জীবনের মূল্য অনেক বেশি। বিএসএফ জীব রক্ত চুষবে আর আমরা স্বাধীনতা অর্জনকারী বাঙালি তাকিয়ে দেখবো তা হতে পারে না। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যথাযথ কার্যকরী ভূমিকা দেখতে চাই।