ক্যাটেগরিঃ মতামত-বিশ্লেষণ

আমি যে, ঘটনাটি বলবো অনেক আগের কথা । তবে বাস্তব ঘটনা। প্রায় ২০০৩ সালের কথা। আমার বাড়ি চাঁপাইনবাগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার ছত্রাজিতপুর গ্রামে ইউপি মেম্বার এবং চেয়ারম্যানের রেসারেসি প্রচারণা চলছিল। আমরা যে ওয়ার্ডে বসবাস করি সে ওয়ার্ডে দু’জন পুরুষ প্রার্থী ছিল। দু’জনেই ধনাঢ়্য পরিবারের। কারো টাকা পয়সার কমতি নেই। একজনের নাম নেফাউর রহমান বুলবুল এবং অন্য জনের নাম ছিল মুকুল। দু’জনেই আমাদের কাছের লোক হলেও একসময় বুলবুল আমাদের অনেক উপকার করেছে বলে তাকে ছাড়া অন্য প্রার্থীকে ভোট দেওয়া সম্ভব ছিল না। বুলবুল ম্যাট্টিক পাস হলেও মুকুল ছিল বকলম।

আমরা প্রকাশ্যে বুলবুলের পক্ষ নিলাম। আমি, আমার ছোট ভাই প্রচারণায় অংশ নিলাম। দু’ পক্ষই আমার ভোট কিনার জন্য ওফার দিলেও আমি বিক্রি করতে রাজি হয় নি। অবশেষে একদিন এক মাদ্রাসায় ফাজিল শ্রেণীতে পড়ুয়া পরিচিত এক ছেলে এসে বলে আমি ভোট বিক্রি করবো। সে আমার ঘরে বসেছিল আর আমি বুলবুলকে ডাকতে গেলাম। তখন মোবাইল ফোন ছিল না বলে সরাসরি ডাকতে গিয়েছিলাম। বুলবুল আমপাড়ার ওপর ২০০ টাকা রেখে ভোট বিক্রেতাকে বলল এবং আমাকে ভোট প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে টাকা নেন। সে প্রথমে রাজি না হলেও পরে ঠিকই নিলো। এ ভাবে দু’ পক্ষই ভোট কেনা বেচা শুরু করলো। উভয় পক্ষ একজন ভোটারের নিকট ভোট কিনেছে। উভয় পক্ষ আমপাড়ায় হাত দিয়ে প্রতিশ্রুতি নিয়েছে। এখন উভয় পক্ষ বিজয় লাভের আশা করছে। যার যে অঞ্চলে ভোট কিনা রয়েছে সে সেই অঞ্চলে পাহারা দিচ্ছে। কি মজা দেখতে সে দৃশ্য। ভোট শেষ হলো নির্দিষ্ট দিনে। শুনলাম বুলবুল ফেল করেছে আর বকলম পাস করেছে।

এখন অবাক আমরা। কারণ, যত ভোটে পাস করবে একজন প্রার্থী তার চেয়ে ১০০ ভোট বেশি কিনা রয়েছে। পরে আমার পরিচিত এক ভোটারকে জিজ্ঞাসা করলাম কাকে ভোট দিয়েছিলেন ভাই। সে আমাকে বলল, ভোট বিক্রি করেছিলাম দু’জনের কাছে। তাই দু’জনকেই সিল মেরেছি। পরে দেখা গেল বুলবুল মেম্বার ফেল করেছিল মাত্র ৬০ ভোটে। আর তার ভোট নষ্ট হয়েছে ১০০ টি। সে দিন বুঝেছিলাম টাকা দিলেও সব সময় সব মানুষকে কিনা যায় না। অনেকে ক্ষুধার তাড়নায় বা আবেগের বশভূতী হয়ে ঠিকই ভোট বিক্রি করে । কিন্তু অপছন্দের প্রার্থীকে না দিয়ে উভয়কে সিল মারে। এতে একদিনে যেমন প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা হয় তেমনি অপছন্দের প্রার্থীকে কৌশলে মার দেওয়া হয়। বিষয়টি হঠাৎ মনে পড়ার সিয়ার করলাম। আশা করি, একটি নতুন বিষয় জানতে পেরেছেন।