ক্যাটেগরিঃ গণমাধ্যম, রাজনীতি

আমরা জামাত-শিবির কে রগকাটা হিসেবে জানতাম এবং চিনতাম। এখনও অবশ্যই জামাত-শিবিরকে রগকাটা বলে থাকি। কারণ, লোক মুখে নাকি শুনা যায়, ছাত্র শিবিরের সাথে কোন রাজনৈতিক দলের ছাত্র সংগঠনের সংঘর্ষ হলে জামাত-শিবিররা হাত পায়ের রগ কেটে দেয়। মনে করতাম এটা কি আসলে মানুষের কাজ? তারপরেও আবার শিক্ষিত তরুণরা শিক্ষিত তরুণদেরই হাত-পায়ের রগ কেটে দেয়। এটা নিঃসন্দেহে অমানবকি এবং ঘৃণিত কাজ। আজ দৈনিক সমকাল পত্রিকায় প্রকাশিত একটি খবর পড়ে আমি স্থির থাকতে পারলাম না। আমি আওয়ামীলীগের একজন সমর্থক হিসেবে খবরটির সমালোচনা না করেও পারলাম না। আওয়ামীলীগের ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকারকে সমর্থন জানিয়েছে। খবরটি মফস্বলের খবর। খবরটির শিরোনাম হচ্ছে, যশোরে দুই কলেজছাত্রের রগ কেটে দিয়েছে ছাত্রলীগ ।

খবরের বলা হয়েছে, যশোরে ছাত্রলীগ ক্যাডারদের হামলায় দুই কলেজছাত্র গুরুতর আহত হয়েছে। আহতরা হচ্ছে যশোর সরকারি এমএম কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক প্রথম বর্ষের ছাত্র সার্কিট হাউসপাড়ার অনিক হাসান ও খড়কি এলাকার তৌকির মোহাম্মদ তরুণ। এর মধ্যে তরুণের হাতের রগ কেটে দিয়েছে সন্ত্রাসীরা। গতকাল দুপুরে এমএম কলেজ পুকুরপাড়ে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও আহতরা জানায়, গতকাল দুপুরে অনিক ও তরুণ কলেজের পুকুরপাড়ে বসেছিল। এ সময় পূর্ব শত্রুতার জের ধরে ছাত্রলীগ ক্যাডার শহরের ষষ্ঠীতলাপাড়া এলাকার রেমনের নেতৃত্বে পাঁচ-ছয় সন্ত্রাসী তাদের ওপর হামলা চালায়। অন্য ছাত্ররা তাদের উদ্ধার করে যশোর সদর হাসপাতালে পাঠায়।

এখন আমার কিছু বলার আছে। আসলে কি শুধু ছাত্র শিবিরকেই রগ কাটা হিসেবে গালি দিই ? নাকি সব রাজনৈতিক দলের ছাত্র সংগঠনের মধ্যে রগ কাটার রাজনীতি রয়েছে? আমার মনে হচ্ছে, প্রাণে মেরে ফেলার চেয়েও বেশি ঘৃণিত রগ কাটা। রগ কাটলে চিকিৎসায় তেমন ভাল হয় না। দু’একজন পরবর্তীতে হাটা চলা করতে পারলেও বেশির ভাগই পঙ্গুত্ব বরণ করে। সুস্থ্য স্বাভাবিক মানুষকে যখন দুর্ঘটনা বা প্রতিপক্ষের হামলার কারণে পঙ্গু তথা প্রতিবন্ধী হিসেবে দেখি তখন খুব দুঃখ অনুভব করি। আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর ছাত্রলীগের কর্মীরা ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে তান্ডব চালিয়েছে বলে বিভিন্ন সংবাদ পত্র এবং টেলিভিশন চ্যানেলে দেখেছি। দেশের ব্লগাররাও এ বিষয়ে ব্যাপক সমালোচনা করেছে।
আওয়ামীলীগের স্থায়ী কমিটির অনেক সদস্য মন্তব্য করেছেন যে, কিছু শিবির কর্মী আমাদের ছাত্রলীগের গোপনে যোগদান করে এসব ঘটাচ্ছে। এ বিষয়ে কোন তথ্য-প্রমাণ না থাকায় ধারণা দিতে পারছি না।

দেশে ছাত্রলীগের ক্ষমতা প্রয়োগ নিয়ে দু’ গ্রুপের মধ্যে বহুবার সংঘর্ষ,মারামারি হয়েছে। কয়েকজন অকালে প্রাণও হারিয়েছে। তারপরেও কি সমাধান করতে পেরেছে আওয়ামীলীগ। বুঝলাম যে, প্রত্যেক রাজনৈতক দল যখন ক্ষমতায় থাকে তখন তাদের ছাত্র সংগঠনের একটা প্রভাব লক্ষ্য করা যায়। তাই বলে, সীমা অতিক্রম করাটা দেশের জন্য কতটুক সুখময় তা সবাই বুঝি। এ দেশের তরুণরা বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে এটা সবাই প্রত্যাশা করে থাকি। কিন্তু যেভাবে রগকাটার ছাত্র রাজনীতি ছাত্রলীগ শুরু করতে যাচ্ছে তাতে আওয়ামীলীগকে ভোট প্রদানকারী একজন ভোটার হিসেবে খুবই উদ্বিগ্ন না হয়ে পারলাম না। জানি না এর পরিত্রাণ দেশে হবে কি? তবে আমরা দেশের নাগরিক প্রতিহিংসার ছাত্র রাজনীতি যেমন চাই না। তেমনি চাই না রগকাটার ছাত্র রাজনীতি। এ রগকাটার ছাত্র রাজনীতি থেকে যেমন জামাত-শিবিরকে দুরে থাকতে হবে তেমনি ছাত্রলীগকেও দুরে থাকতে হবে। এ বিষয়টি নিয়ে সকল রাজনৈতিক দলের ছাত্র সংগঠনের নেতা-নেত্রীদের দৃষ্টি আর্কষণ করেই শেষ করছি।……….