ক্যাটেগরিঃ মতামত-বিশ্লেষণ

 

যদিও বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলে এখনও মেয়েলী গীত চলে বিয়ের আসরে কিন্তু শহর এলাকায় বিলুপ্তির পথে। সাধারণত: সামাজিক এবং পারিবারিক অনুষ্ঠানে মেয়েলী গীত দলবেধে মহিলারা গায়। আধুনিকতার শোয়ার আমাদের সে ঐতিহ্য হারিয়ে যেতে বসেছে। আমি আমার এলাকায় বছর দশেক আগে দেখেছি। কোন বাড়িতে বিয়ে হলে মহিলারা দলবেধে সারা রাত গীত গাইতো। শুনতেও খুব মজা লাগতো। মাঝে-মধ্যে সেখানে যেতাম। দেখতাম তাদের আনন্দ। এখনও যে, মেয়েলী গীত নেই তা নয়। তবে কম। কারণ, আধুনিক যুগের মেয়েরা সেসব গীত পছন্দ করে। তারা পছন্দ করে নাচতে। ব্যন্ড সংগীতের তালে তালে নাচাকে খুবই ভালবাসে। যেমন বিয়ের আসরেই বর-যাত্রী বা ডুলিবিবিরা আসলেই কনের পক্ষের মেয়েরা দলবেধে গাইতো,

ডুলিবিবি আইসাছে পান খাইবার লালচে।
যখন কনে বা বরকে কিছু খাওয়ানো হতো তখন বলতো,
বসবোনা বসবোন ছিড়া ছোপে আমরা বসবো নারে
আরশে বাবা কি জানে নারে।

মাঝে মধ্যে গীত গাইতে গাইতে নাচতো মহিলারা। এখন আর বছর দশেক পর মেয়েলী গীত হারিয়ে যেতে পারে বাংলার ঘর থেকে। কারণ, এখনকার সুন্দরী মেয়েরা পশ্চিমা কালচারের বিশ্বাসী। পশ্চিমা ঢঙে সাজতে পেলে তরুণদের নাকি বেশি আকৃষ্ট করা যায়। মেয়েলী গীতের সুর এত করুণ ও আবেগধর্মী যে, কেউ শুনলে সে গীতের কথা ভূলতে পারে না। ঢাকা শহরে বিয়ে হলেই ব্যন্ড দলকে ভাড়া করে নেওয়া হয়। এতে ব্যয়ও বেশি। কিন্তু গ্রামের সহজ-সরল মেয়েদেরকে ভাড়া করা হয় না। তাদের চাওয়া পাওয়াও খুব বেশি নয়। তাদের দু’ চার টাকা দিলেই তারা খুশি থাকে।

বিয়ের ৪ থেকে ৫ দিন আগেই চলতো মেয়েলী গীত। সারা রাত গীত শুনেই ভালই মজা পাওয়া যেত। ঢেকিতে ধান ভাঙার পর তৈরী করতো ঐতিহ্যবাহী খাবার যেমন, আন্ডাসা, খীর, ফিরনী এবং ভাপা পিঠা। আদর করে কনে এবং বরকে খাওয়ানোর সময় জুড়ে দিতো গীত। ওই গীতের কথা ভুলা যায় না। কনের বিদায়, কনেকে গোসল করার সময় যে, গীত গাওয়া হতো তা এখনও মানুষের মনকে আন্দোলিত করে। কিন্তু আমাদের কারণে তা হারিয়ে যেতে বসেছে। আমাদের শ্রদ্ধা কমে গেছে ঐতিহ্যের প্রতি। তবে একটা কথা না বলে পারছি না যে, ব্যন্ড তারকাদের সাথে সুন্দরী তালে তালে নাচলেও তেমন মজা লাগে না। কিন্তু তারপরেও কেন সেটা শহরের মানুষ বেশি উপভোগ করছে? আমার মনে হচ্ছে,ব্যাণ্ড সংগীতের তালে তালে নাচলে নগ্ন দেহ দেখে তরুণরা আকৃষ্ট হবে অন্য দিকে বলতে পারবে যে, মেয়েটির নাচ খুব সুন্দর। কিন্তু এটা যে, ঐতিহ্যকে ধব্বংস করছে সে দিকে কারো খেয়াল নেই।

হঠাৎ মেয়েলী গীতের কথা মনে পড়ায় পোষ্ট দিতে বাধ্য হলাম। কেমন হয়েছে পোষ্টটি জানালে খুশি হবো । এছাড়াও ঐতিহ্যকে আপনাদের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করবো। আপনারা ভাল থাকবেন। আপনাদের বিয়ে বা আত্মীয় স্বজণদের বিয়েতে ব্যন্ড সংগীতের বদলে মেয়েলী গীতের ব্যবস্থা করবেন। আমাদের লোকজ ঐতিহ্য আমাদের রক্ষা করা উচিত। আমরা বাঙালি। আমরা যতই পশ্চিমা বিশ্বের ঐতিহ্যকে লালন করি না কেন আমরা বাঙালি। আমাদের ভাষার জন্য প্রাণ হারিয়েছে ছালাম,জাব্বার এবং বরকত সহ অসংখ্য মানুষ। বিষয়টি নিয়ে বিশেষ করে মেয়ে ব্লগাররা বেশি ভাববেন। আর পুরুষ ব্লগাররা তাদের প্রেমিকা, স্ত্রী বা বান্ধবীদের সাথে মত বিনিময় করবেন।