ক্যাটেগরিঃ প্রতিবন্ধী বিষয়ক

যে কোন মানুষের সুখী ভাবে বেঁচে থাকার জন্য বিনোদনের প্রয়োজন। বিনোদন হচ্ছে মনের খোরাক। যে দেশে যত বেশি চিত্তবিনোদনের ব্যবস্থা রয়েছে সে দেশ ততো বেশি উন্নত। আমাদের দেশে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য পৃথক বা সম্মিলিত কোন চিত্তবিনোদনের ব্যবস্থা নেই। ফলে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মানসিক বিকাশ প্রস্ফুটিত হয় না।
দেশে চিত্তবিনোদনের জন্য পর্যাপ্ত স্থান রয়েছে। কিন্তু প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে তার বিপরীত। বিভিন্ন জাতীয় দিবস উপলক্ষ্যে নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বার্ষিক ক্রীড়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়ে থাকে। দুঃখের বিষয়, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য সে ধরনের সুযোগ নেই। ফলে এরা চিত্ত বিনোদনমূলক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। বিশ্বের উন্নত শীল দেশ সমূহে প্রতিবন্ধীদের চিত্ত বিনোদনের জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রয়েছে।

প্রতিবন্ধিতার ধরনভেদে চিত্ত বিনোদনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। কারণ এক এক ধরনের প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের এক এক বাধা। যেমন: শারীরিক প্রতিবন্ধী (হুইল চেয়ার ব্যবহারের) ব্যক্তিদের জন্য সিনেমা বা পার্ক সমূহে রাম্পের ব্যবস্থা না করা। বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধীদের জন্য টেলিভিশন ও স্যাটেলাইট চ্যানেল সমূহে সাংকেতিক ভাষায় বিভিন্ন অনুষ্ঠান মালা প্রচার না করা। দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের জন্য সরকারিভাবে দাবা, ক্রিকেট, ফুটবল, লুডু, ডমেনিক্স, ছয় গুটি, ষোল গুটি ও প্লেইং কার্ডসহ উপযোগী খেলাধুলা। শারীরিক প্রতিবন্ধীদের জন্য হুইল চেয়ার ম্যারাথন, বাস্কেট বল, ভলিবল, কাবাডি, বর্শানিক্ষেপ, ভারোত্তোলন, টেবিল টেনিস সহ বিভিন্ন খেলা ধূলার সুযোগ না করা। বে-সরকারি সংস্থা সমূহ প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের চিত্ত বিনোদনের ব্যাপারে কাজ করলেও সরকারি ভাবে এ ব্যাপারে তেমন গুরুত্ব দেয়া হয় না। ফলে স্বাধীনতার ৩৬ বছরে দেশে গড়ে তোলা হয় নি প্রতিবন্ধীদের জন্য চিত্ত বিনোদনের ব্যবস্থা।

এছাড়াও দেশে প্রায় ২০ লাখ দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ব্যক্তি থাকলেও তাদের জন্য বিনোদনমূলক পুস্তক, পত্রিকা ও অন্যান্য পুস্তক ব্রেইল পদ্ধতিতে প্রকাশ করা হয় না। অথচ প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা দেশের নাগরিক। এদের রয়েছে ভালোভাবে বেঁচে থাকার অধিকার, আনন্দের সাথে জীবন যাপন করা। বিষয়টির প্রতি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

লেখক-

আজমাল হোসেন মামুন
(azmal22@gmail.com)
উন্নয়নকর্মী, ব্লগার এবং সাংবাদিক
বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী কল্যাণ সমিতি (বিপিকেএস)
বিপিকেএস কমপ্লেক্স, দক্ষিণখান, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০।