ক্যাটেগরিঃ নাগরিক আলাপ

বর্তমানের পর বা আগামির নামই যদি ইংরেজিতে ফিউচার বা বাংলায় ভবিষ্যৎ হয়, তবে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ কী কী সে বিষয়ে নানা জনের নানা ভাবনা থাকলেও বাংলাদেশের ‘কিশোর সমাজ’ বাংলাদেশের অনাগত ভবিষ্যৎ কিনা সেই বিষয়ে ভেবে দেখার অনুরোধ রইল প্রিয় সুধীজনদের নিকট।

বাংলাদেশের অর্থনীতি, তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ, বন্দর, খনিজ, দ্রব্যমূল্য, সন্ত্রাস রাজনীতি, তত্ত্বাবধায়কসহ প্রভৃতি বিষয়ে বহু আলোচনা সমালোচনাসহ লেখা খবর, সভা, সেমিনার, মিটিং, মিছিল, দাবি, আন্দোলন, সচেতনতা ইত্যাদি প্রতিনিয়ত চলছে। কিন্তু ‘কিশোর সমাজ’ আজ কোন পথে তার দিকে আমাদের চোখ কি আছে? ঠিক পুরোপুরি বুঝতে পারছি না যে, কিশোর ও তরুন সমাজ কি আজ উন্নতির দিকে নাকি অবক্ষয়ের দিকে? যদি উন্নতির দিকে চোখ রাখি তবে দেখতে পাই, এসএসসি ও এইসএসসি পরীক্ষায় এক লাখ ছাত্রছাত্রীর এ+, তখন দারুন ভাবে পুলকিত হয়। কি চমৎকার! কতই না শিক্ষিত হচ্ছে এই জাতি! কতই না গর্ব! এরাই তো এক সময় আমাদের দেশে ডাক্তার হবে, হবে রাজনীতিবীদ, হবে চাকুরীজীবি। কিন্তু আবার যখন দেখি এই কিশোর সমাজের এক হাতে ভিডিও মোবাইল, আরেক হাতে সিগারেটের শলাকা, তখন প্রশ্ন জাগে কেন হচ্ছে এমন। হিসাব মতে যদি মোট জনসংখ্যার শতকরা ৮০ ভাগ জনগণ গ্রামে বাস করে তবে কিশোর ও তরুণরাও মোটের উপর শতকরা ৮০-৮৫ ভাগ গ্রামে বাস করে। তাহলে একটু চোখ ফিরিয়ে দেখুন তো আপনার গ্রামের বা পাড়ার কতজন কিশোর স্কুলে যাচ্ছে? আর কতজন যাচ্ছে না? আর গেলেও বা তারা কিরূপ পড়াশুনা করছে? যদি দেখতে পান সবকিছু পজেটিভ, তাহলে এই প্রবন্ধের বাকি অংশ আর পড়ার দরকার নেই। আর যদি মনে হয় না হচ্ছে না, না ঠিক নয়, তবে কেন এমন হচ্ছে তা আমাদের সবার অনুধাবন করার হয়তোবা এখনি সময়।

যদি একটা দেশের ভবিষ্যৎ এই কিশোর ও তরুন সমাজ হয় তবে সেই ভবিষ্যৎ যদি বিকশিত হবার আগেই তাদের নামতে হয় অর্থ উপার্জনের সংগ্রামে, যদি তাদের হাতে থাকে ডুয়েল সিম সমৃদ্ধ ভিডিও মোবাইল ( যেখানে পর্নো ছবি যত্রতত্র ছড়াছড়ি, দেলোয়ার হোসেন সাইদীর ওয়াজ, শান্তর আধুনিক! গান)। যদি হাতে থাকে নেশার সমস্ত উপকরণ তবে জাতির তথা সার্বিক দেশের ভবিষ্যৎ কোন পথে তা আমাদের সামনে পরিষ্কার।

জাতির এই ক্রান্তিলগ্নে আমাদের সোচ্চার হতে হবে সরকারি সুশাসনের জন্য, সোচ্চার হতে হবে আমাদের অভিভাবক সম্প্রদায়ের অনৈতিক ভালবাসা ও শাসনের বিরুদ্ধে। সচেতন হতে হবে আমাদের সকল নাগরিকের। তবেই এ জাতির মুক্তির শুভ বার্তা বয়ে আসবে।