ক্যাটেগরিঃ নাগরিক আলাপ

মানুষের ইতিহাস মোটামুটিভাবে আমাদের সবারই জানা। তবুও সে জানা থেকে আমার ব্যক্তিগত উপলব্ধি নিয়ে ছোট্ট একটি রচনা। প্রিয় পাঠক ভুল হলে ক্ষমা করবেন।

আদিম যুগ থেকে আজকের এই নব্য-সভ্য আধুনিক যুগের যে পার্থক্য তা আমাদের সকলের কাছে স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান। পার্থক্য যেমন আছে তেমনি মিলও বোধহয় আছে। ইতিহাস থেকে জানতে পারি আদিম যুগে মানুষ দলবেঁধে বাস করতো। দল বেধে তারা কাজ করত, নাচত, গাইত, ঘুরত। দল বেধে তারা সিদ্ধান্ত নিত। এককথায় দল বেধে তারা জীবনযাপন করত। আজও কিন্তু মানুষ দল বেধে সব কিছু করে কিন্তু দলের ভিত্তি সেই আগের ভিত্তি নয়। আদিম যুগে উৎপাদনের পরিসর ছিল অতি নগন্য। উৎপাদনের উপকরণ/হাতিয়ার ছিল এত অনুন্নত যে একজন মানুষ সারা দিন যে পরিমান উৎপাদন করতে পারত তা দিয়ে তার নিজের চাহিদা কোনমতে মিটত। অবশিষ্ট বলে তেমন কিছু থাকত না। তারপরেও ইতিহাসে এমন কিছু পাওয়া যায়না যে, সে সময় সম্পদ লুটের জন্য যুদ্ধ হত। সে সময়ে মানুষে মানুষে এমন বিভেদ ছিল না। কারণ কি? জানতে ইচ্ছে করে তাই নামকারণ হল, মানুষে মানুষে সমানে সমান সম্পর্ক। সে যুগে মানুষ যে দল বেধে বাস করত সে দলের পরিচালনার ভার ছিল মোড়ল ও সর্দারের উপর। মোড়ল ও সর্দাররা কিন্তু দলের সবাইকে নিয়ে সব সিদ্ধান্ত নিত। সে দিনের সে যুগে সে দলে কোন বড় লোক ছিলনা, ছিলনা কোন গরিব লোক, রাজা-প্রজা, মালিক-মজুর কিছুই ছিলনা, ছিল শুধু একটা দল। দলের ভিত্তি ছিল সবাই সমানে সমান ও সকলের উদ্দেশ্য ছিল মেহনত করা। আজ সে যুগের উন্নতি হয়েছে, উন্নতি হয়েছে উৎপাদনের, উন্নতি হয়েছে উপকরণের, উন্নতি হয়েছে বুদ্ধির।

যুগ আজ অসভ্য থেকে সভ্য হয়েছে। আজ মানুষ পাহাড়ের গুহায় বাস করেনা। বাস করে বুর্জ দুবায়ে। মানুষ এখন কাঁচা মাংস, গাছের পাতা খেয়ে থাকে না, সেসবের বদলে খায় ফ্রাই, চাইনিজ নামের খাবার। এত বড় সভ্য হওয়ার পরেও কেন এক দেশ থেকে আরেক দেশ গ্যাস, তেল লুট করে। কেন হচ্ছে হত্যা, কেন হচ্ছে রাহাজানি আর ধর্ষণ? কেন ইরাক, আফগানিস্থান, লিবিয়া, মিশর, সিরিয়ায় আজ রক্তক্ষয়ি যুদ্ধ। তাহলে কেমন হয়েছে আমাদের সভ্য যুগ। কেনই বা এমন হল? কারণ ঐ একটাই মানুষে মানুষে সমানে সমান সম্পর্ক নেই। আজকের এই যুগে মানুষের দল দুইটা। একদল সবকিছু পরিচালনার ভার কাঁধেনিয়ে শাসনের নামে শোষণ করে চলেছে, অপর দলটি নিরুপায় হয়ে নিরন্তর ভাবে মেহনত করে চলেছে যেন শাসন কর্তার হাতিয়ার হয়ে। কিন্তু এভাবে চলতে থাকলে বোধহয় নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে গৌরবময় মানব জাতির সকল ইতিহাস। এ যুগের এমতাবস্থায় আমাদের কি কিছুই করার নেই?