ক্যাটেগরিঃ নাগরিক আলাপ

গত দুই দিন আগে সকালে বাসা থেকে বেরিয়ে দেখি আমাদের বাসার পাশের একটি রোড পাকা করার কাজ চলছে, দেখে মনে মনে খুশি হই আবার বেজারও হই। খুশি হই এই ভেবে যে এখানকার প্রায় সবকটি রাস্তারই বেহাল দশা। যাক রাস্তাগুলোর কাজ হচ্ছে। আর বেজার হই এই ভেবে যে আবার বুঝি ভাড়া বাড়লো! যাক সেই কথা; আসল কথায় ফিরে আসি। রাস্তাটির কাজ খুবই দ্রুত গতিতে চলছে সেটা বুঝতে পারলাম এবং দেখলাম রাস্তার সাথে একটা মাঠ আছে- সেটাতে অনেক কাদা মাটি ছিলো- সেগুলোও নেই। সব সুন্দর করা হচ্ছে।

বিকেলে বাসা থেকে বেরিয়ে দেখি মাঠের মধ্যে বাঁশ দিয়ে কোন একটা কিছু বানানোর কাজ হচ্ছে, ভাবলাম হয়তো ঈদের জামায়াত হবে হয়তো। কিছুক্ষন পর আমার স্বপ্ন ভাংলো। শুনলাম আমাদের বাসার পাশে একটা বৌদ্ধ মন্দির আছে আর সেখানে আগামী ৫ নবেম্বর (২০১১) তারিখে প্রধান মন্ত্রী আসবে। আর তাই এলাকার প্রায় ১৫টি রোডের মধ্যে শুধুমাত্র যেই রোডে প্রধান মন্ত্রী আসবেন সেই রোড খানা পাকা করা হচ্ছে আর মাঠে প্রধান মন্ত্রীর জন্য মঞ্চ তৈরী করা হচ্ছে। তখন ভাবতে শুরু করলাম এখনতো প্রায় শীতকাল চলে এসেছে, বর্ষার সময় এইখানের প্রায় সবকটি রাস্তাই পানিতে ডুবেছিলো এবং মানুষ কত কষ্ট করে রাস্তা দিয়ে চলাচল করেছে। এমনকি আমি দেখেছি এখানকার স্কুল কলেজের ছেলে মেয়েরা কোমর পানিতে ভিজে স্কুল কলেজে গিয়েছে। কিন্তু এখন তো রাস্তা শুকনা। তেমন কোন সমস্যা নাই অথচ প্রধান মন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে রাস্তাটি পাকা করা হচ্ছে। আমার মনে হয় প্রধান মন্ত্রী এই রাস্তায় হয়তো পায়ে হেঁটেও যবেন না। তাহলে চিন্তা করুন! প্রধান মন্ত্রীর একবার চলাচলের জন্য রাস্তাটি পাকা করা হচ্ছে, তাও আবার জরুরী ভিত্তিতে।

তাইতো মনে মনে গান গাইতে ইচ্ছে করছে তোমার পরশে আমরা ধন্য…
এই রকম পরশ যদি তুমি আমাদের সারা দেশে দিতে তাহলে হয়তো সারা দেশের কোন রাস্তাই খারাপ থাকতো না।
এবং আবুল হোসেনের মত মন্ত্রীর ও প্রয়োজন হতো না।