ক্যাটেগরিঃ দিনলিপি

হরতাল থাকায় ন’টার আগেই অফিস চলে এসেছে জামান। আজ হেঁটেই আসতে হয়েছে। বাসা থেকে অফিস বেশি দূরে নয়।বস এখনো আসেননি। উনি অবশ্য দেরি করেই আসেন।সরকারি অফিস দেরি করলে নাকি গুরুত্ব বাড়ে। দর্শনার্থীর সংখ্যা বাড়তে থাকে আর বাড়তে থাকে বস এর গুরুত্ব।

সকাল সাড়ে ১১ টা। বস আসলেন পুলিশ প্রহরায়। হরতাল থাকায় আজ দর্শনার্থীর সংখ্যা নেই। মেজাজ তাই একটু চড়া। দর্শণার্থীরা না থাকাই যে এর কারণ তা বলা যায় না। ১২টার সময় জামান এর ডাক পড়লো।বস সাধারণত তাকে ডাকেন না।ভারি দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকতেই শরীরে ঠাণ্ডা বাতাস ছুয়ে গেল। বস এর রুমে এসি লাগানো। একটা ফ্যান ও ঘুরছে নি:সব্দে।জামানের রুমেও ফ্যান আছে একটা। তবে মিনিটে ক’পাক ঘুরে তা গোনা যায়।বস কখনোই তাকে বসতে বলেন না। আজও বললেন না। জামান দাঁড়িয়েই রইল।বস একটা এসি আর নিয়ে ব্যস্ত। ঠিক এই সময় তিনি এসি আরটিতে বিরূপ মন্তব্য লিখছিলেন। লেখা শেষ করে মাথা তুলে জামানের দিকে তাকিয়ে বললেন এসি আর কী জানো?এসি আর কে লেখে?এসি আর এ বিরূপ মন্তব্য থাকলে কী হয় জানো? জামান কিছুই না বলে তাকিয়ে থাকলো বসের মুখের দিকে।

-তুমি তো এসি আর ও বুঝ না, Career ও বুঝ না। ভালো এসি আর এর জন্য, ভালো Career এর জন্য মানুষ কত কী করে।সেদিন দেখলাম অমুক অফিসার তার বস এর মেয়েকে কলে করে বস এর পিছন পিছন ঘুরে বেড়াছে। কীসের জন্য জানো? ভাল এসি আর এর জন্য, ভালো Career এর জন্য।জামান নির্বাক। সিনিয়র এর কথার উপর কথা বলা নিষেধ এ শিক্ষা সে ট্রেনিং একাডেমি থেকেই শিখেছে।জামানের নির্লিপ্ততায় বস আর কোন কথা বললেন না। সম্ভবত তিনি জানেন যে আর কিছু বলেও লাভ নেই।

সুধি পাঠক। জামান আর কি বলতে পারত? অথবা গল্পটা আর কিভাবে শেষ হতে পারত? সে দায় আপনাদের উপর দিলাম। তবে আমি শুরু করে দিচ্ছি।
-তুমি তো এসি আর ও বুঝ না, Career ও বুঝ না। ভালো এসি আর এর জন্য, ভালো Career এর জন্য মানুষ কত কী করে।সেদিন দেখলাম অমুক অফিসার তার বস এর মেয়েকে কোলে করে বস এর পিছন পিছন ঘুরে বেড়াছে। কীসের জন্য জানো? ভাল এসি আর এর জন্য, ভালো Career এর জন্য।

-উনি ঐ কাজ ছাড়া অন্য কিছু পারেন না।আর তাছাড়া আপনার মেয়ে তো বড় হয়ে গেছে। তাকে কলে নিলে লোক এ কী ভাববে? অবশ্য সে যদি কলে উঠতে চায় আমার আপত্তি নেই। এ কথা শোনার পর বস আর কিছু বললেন না।(বি:দ্র: জামান বিবাহিত, বস এর একটি অবিবাহিত অনার্স পড়ুয়া মেয়ে আছে এবং বস এর —-বাজির রেকর্ড আছে)