ক্যাটেগরিঃ ব্যক্তিত্ব, হুমায়ূন আহমেদ স্মরণে

তার সাথে আমার প্রথম পরিচয় নাটকের মাধ্যমে। তখন আমি প্রাইমারির ছাত্র। আমাদের পুরো গ্রামটাতে তখন একটি মাত্র টেলিভিশন। এখনকার মত দৈনিকভিত্তিতে নাটক প্রচার হত না। ধারাবাহিক নাটকগুলো সপ্তাহে একদিন দেখার সুযোগ হত আমাদের। প্রতিক্ষার প্রহর ভালই কাটত দিন গুনে গুনে। কোথাও কেউ নেই, আজ রবিবারের মাধ্যমেই তাকে চিনতাম। আগুনের পরশমণি যেদিন আমাদের জেলা শহরে আসল, সেদিন আমরা কয়েকজন সাহসী হাইস্কুলের ছাত্র ক্লাশ ফাঁকি দিয়ে দেখতে গেলাম। আমরা ভেবেছিলাম এটা হয়ত আজ রবিবারের মতই হাসাবে। আমাদের বয়স অল্প থাকার কারণেই হোক আর মক্তিযুদ্ধের ইতিহাস না জানার কারণেই হোক, আগুনের পরশমনি আমাদেরকে সেদিন নিরাশ করেছিল। কলেজে ভর্তি হওয়ার পূর্ব পর্য্ন্ত আমি জানতাম সে শুধু নাটকই বানায়। কলেজের এক বন্ধুর কাছে একদিন তার লেখা একটি বই আবিস্কার করলাম। আমি বন্ধুকে বললাম এই কি সেই হুমায়ন আহমেদ যে নাটক বানায়? –হ্যা। কেন তার লেখা বই কি দেখিসনি এর আগে? আমি লজ্জায় পড়ে গেলাম। এত প্রিয় যে মানুষটি তার কোন বই আমি পড়িনি। সেদিন বইটি আমি ধার করে পড়লাম।

তারপর অসংখ্য বই আমি পড়েছি আমার প্রিয় শিল্পীর। হয়ত তার এমন কোন বই নেই যা আমার পড়া হয়নি। শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের পর যার বই আমি সবচেয়ে বেশিবার পড়েছি সে হল হুমায়ন আহমেদ। আমিও জোসনা দেখতে ভালবাসি। আমিও ভরা জোসনায় হেঁটে বেড়িয়েছি অনেকবার। হিমু হতে আমি চায়নি কোনদিন। কারণ হিমুর মত রূপা আমার নেই। তবে আমি মিসির আলী হতে চাইতাম। ভীষণভাবে চাইতাম একদিন মিসির আলী এসে আমাকে তোমার কাছে নিয়ে যাক। আসেনি সে। তাই তো হাজার খানেক লোক পেরিয়ে বই মেলায় তোমার দেখা পেয়েছিলাম। তোমার হাতের ছোয়া লাগা বইটি আমি হারিয়ে ফেলেছি। আমাকে ক্ষমা করো। আর হাজার লক্ষ্য কোটিবার চেষ্টা করেও আরেকটি উপহার আমি তোমার কাছ থেকে পাবো না । যদি কোন জোসনা রাতে দেখা হয়, তবে না হয় আরেকটা বই আমি চেয়ে নেব তোমার থেকে।

আজ সকালে তোমার অসংখ্য ভক্ত তোমার মুখটি শেষবারের মত দেখতে গেছে। আমি যাইনি। তোমার মুখটি আমার কাছে চির জীবিতই থাক।