ক্যাটেগরিঃ কৃষি

 

ব্যাংকগুলোকে আগের অর্থবছরের চেয়ে প্রায় সাড়ে তিনশ’ কোটি টাকা বেশি কৃষি ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সে হিসেবে এবার বিতরণ হবে ১৪ হাজার ১৩০ কোটি টাকা (ঢাকা, জুলাই ২৩, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)

http://bdnews24.com/bangla

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী,২০১১-১২ অর্থবছরের এগারো মাসে অর্থ্যাৎ জুলাই-মে সময়ে ১১ হাজার ৪৫৩ কোটি টাকার কৃষি ঋণ বিতরণ করেছে ব্যাংকগুলো। ২০১০-১১ অর্থবছরে বিতরণ করা হয়েছিল ১২ হাজার ১৮৪ কোটি ৩২ লাখ টাকা।

গত অর্থ্ বছরে কত টাকা আদায় হয়েছে বা কত টাকার ঋণ শ্রেণীকৃত করা হয়েছে এই তথ্যটা সংবাদে আসেনি। ভাল হত এজন্য যে বেসরকারী ব্যাংকের জন্য এই বিনিয়োগ লাভ জনক কিনা তা বোঝা যেত। লাভ জনক না হলে বিনিয়োগ করে আমানতকারীদের অর্থ্ ঝুকির মধ্যে ফেলা কাম্য নয়। আর সরকারী ব্যাংকের এ ব্যাপারে কোন মাথা ব্যাথা নেই। সরকারের ইচ্ছা বাস্তবায়ন করা তাদের অন্যতম দায়িত্ব।

ঋণের একটা প্রভাব অবশ্যই আছে। মূলধন কাঠামোতে ঋণের প্রয়োজন কতটুকু তা মিলার এর থিয়রিতে ভাল ভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। ব্যবসায় যদি ব্রেক ইভেনের উপরে চলে তা হলে ঋণ ব্যবসায়ের মুনাফা বৃদ্ধি করে। তবে যদি ব্যবসায় ব্রেক ইভেন বা তার নিচে চলে তা হলে ঋণের প্রভাব মারাত্নক হতে পারে।এমনকি দেউলিয়াও হয়ে যেতে পারে। যার বাস্তব উদাহরণ শেয়ার মার্কেটের বিনেয়োগ। যারা মার্জিন লোন নিয়ে বিনিয়োগ করেছিল উড়ন্ত বাজারে তাদের মুনাফাও উড়ন্ত হয়েছিল। আর পড়ন্ত বাজারে তাদের অবস্থা সবচেয়ে খারাপ হয়েছে। যারা শুধুমাত্র নিজের টাকা বিনিয়োগ করেছিল তাদের কিছু আছে । আর যারা ঋণের টাকা বিনিযোগ করেছিল তাদের ইকুইটি মাইনাস হযে গেছে।

তাহলে দেখা যাচ্ছে উৎপাদিত পণ্যের যদি ভাল বাজার মূল্য থাকে এবং ভাল চাহিদা থাকে তবে মূলধন কাঠামোতে ঋণের আগমন হলে ব্যবসায়ের মুনাফা ত্বরাণ্বিত হয়। তা না হলে ঋণ ব্যবসায়ের ক্ষতিই করবে।

গত কয়েক বছর ধরেই শোনা যাচ্ছে কৃষকরা তাদের উৎপাদন খরচই উঠাতে পারছে না। অথচ উৎপাদনে নতুন নতুন রেকর্ড্ করছে। এর অর্থ্ হচ্ছে তারা তাদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছে না। যে কৃষক ঋন নিবে ঋণের সুদ তার উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি করবে এবং তার মুনাফা আরো কমে যাবে। সুতরাং ভবিষ্যতে কৃষিঋণ মওকুফের সম্ভাবনা না থাকলে কোন হিসেবি কৃষক ঋণ নিবে না বা নেওয়া উচিতও না। আর যারা প্রান্তিক কৃষক (অল্প ঋণ গ্রহিতা) তাদের ঋণের খরচ যারা বেশি ঋণ নিবে তাদের থেকে বেশি হবে। কারণ ঋণের processing cost টা ৫০০০ টাকার জন্য যা ৫০০০০ টাকার জন্যও তাই। এটা সত্য হলে প্রান্তিক কৃষকের উৎপাদন খরচ বেড়ে যাবে , বাজার প্রতিযোগীতায় হেরে যাবে, তার কৃষি লোকসানে যাবে এবং ঋণ পরিশোধ করতে ব্যর্থ্ হবে। সুতরাং ১০ টাকায় ব্যাংক হিসাব খুলে যাদেরকে ঋণ দেওয়া হচ্ছে তাদেরকে আমার মতে উপকারের চেয়ে অপকারই করা হচ্ছে। আর ফার্মে (কৃষিতে) ক্ষুদ্র ঋণ! সেটা আরো মারাত্নক। পরের কিস্তিতে এর কুফল বণর্না করার আশা রাখি।

তাহলে প্রশ্ন হল আমাদের কৃষিনির্ভর অর্থনীতি উন্নতি করার জন্য কি করা যাবে? আমার মতে সরকারের উচিৎ আগে কৃষি পণ্যের বাজার ও ন্যায্য মূল্য নিশ্চত করা। তারপর কৃষিঋণ বিতরণ করা। এক্ষেত্রে শুধু সরকারই নয়, সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় বেসরকারী উদ্যোক্তাগনও গুরুত্বপূর্ণ্ অবদান রাখতে পারে। যা করা যেতে পারে-
 কৃষিপণ্যের আর্ন্তজাতিক বাজার তৈরি করতে হবে
 রপ্তানি সুবিধা যা আছে আরো বৃদ্ধি করতে হবে
 উন্নত প্রযুক্তি সহজলভ্য করতে হবে
 পরিবহন সুবিধা বৃদ্ধি করতে হবে
 সংরক্ষন ও বাজারজাত করণে আধুনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে
 মধ্যস্থতা ভোগির মুনাফা নিয়ন্ত্রন করতে হবে (আমার বাবা বেগুন বিক্রি করেন ৫ টাকা কেজি আর আমি কিনি ৫০ টাকা কেজি!)
 পথে পথে কৃষিপণ্যের চাদা বাজি বন্ধ করতে হবে

আরো অনেক কিছু করা যেতে পারে যা আমার ক্ষুদ্র মাথায় নেই। আশা করি সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ এ ব্যাপারে ভূমিকা রাখবে।(না রাখলেই বা কার কি করার আছে)।

বিঃদ্রঃ আমি অর্থনীতিবিদ নই বা এর ধারে কাছেও নেই, অর্থনীতির ছাত্রও নই।। আমার সাধারণ দৃষ্টিতে যা ধরা পড়ছে, আমি তাই লিখেছি। ভুল ক্ষমাযোগ্য ও সংশোধন যোগ্য।