ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

চুরি ডাকাতির মালামাল বিক্রি করার জন্য প্রকাশ্য বা গোপন বাজারকেই চোরাই মার্কেট বলে । একটি দেশে বা দেশের কোন একটা জায়গায় যদি চোরাই বা ডাকাতির মালামাল বিক্রি করার ভাল বাজার থাকে, হোক প্রকাশ্য বা গোপনীয় তবে স্বাভাবিকভাবে ঐ দেশ বা দেশের ঐ জায়গায় চুরি ডাকাতি বেশি হবে। আর যদি এর উল্টো হয় অর্থাৎ চোরাই/ ডাকাতির মালামাল বিক্রির জন্য যদি কোন বাজার না থাকে অথবা থাকলেও তা কঠোর নজরদারি করা হয় তবে চুরি ডাকাতি কম হবে বা হবেই না। তাহলে আমরা বলতে পারি অপরাধ বৃদ্ধি বা হ্রাস নির্ভর করে কথিত চোরাই মার্কেট এর থাকা বা না থাকা বা নিয়ন্ত্রণ/নজরদারি এর উপর। এখানে অপরাধ বলতে শুধুমাত্র সম্পত্তির বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধকে বোঝান হচেছ।

আমি কখনো শুনিনি যে একটা বুলডোজার চুরি বা ডাকাতি হয়েছে। তবে প্রায় শোনা যায় ট্রাক চুরি বা ছিনতাই বা ডাকাতি হয়েছে। এর অর্থ একটাই হতে পারে আর তা হল বুলডোজারের চোরাই মার্কেট না থাকা আর ট্রাকের চোরাই মার্কেট থাকা। আমাদের দেশে যে সকল পণ্যদ্রব্যাদি চুরি বা ছিনতাই বা ডাকাতি হয় তার ভাল মার্কেট আছে। ক্রেতাও আছে। শুধু আমাদের দেশে না, বিশ্বের অনেক দেশেই আছে। বিষয়টা এমন যে এই মার্কেটও দর কষাকষির সুযোগ আছে। এই মার্কেট এর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সুবিধাভোগীরা একজোট থাকে। আইন-শৃংখলা বাহিনীর কিছু অসাধু ব্যক্তিও এর সাথে জড়িত থাকে। ফলে সম্পত্তির বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধ ঘটতেই থাকে। এই মার্কেট ভেঙ্গে দেওয়া সম্ভব হয় না। কারণ ৫০ টাকা বাজার মুল্যের দ্রব্যাদি যদি ২৫ টাকা বা তার ও কম মূল্যে পাওয়া যায় তাহলে এই মার্কেট থাকাটাই যুক্তিসংগত। তবে হ্যা, আমরা যারা ব্যবহারকারী, তাদের কিন্তু বাজার মুল্যেই কিনতে হয়। সুতরাং কতিপয় অসাধু ব্যবসায়ীদের জন্যই এই চোরাই মার্কেট টিকে থাকে এবং তারা পেশী শক্তির মাধ্যমেই হোক আর টাকা দিয়ে আইন কিনে নেওয়ার মাধ্যমেই হোক; বেশ শক্তিশালী।

সম্পত্তির বিরুদ্ধে অপরাধ কমাতে হলে এই কথিত চোরাই মার্কেট নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। ভেঙ্গে দিতে হবে। অপরাধ নিয়ন্ত্রণের এটি একটি উপায় মাত্র। তবে কার্যকর ভাবে নিয়ন্ত্রণ করা গেলে সম্পত্তি জনিত অপরাধ কিছুটা হলেও কমবে বলে মনে হয়।