ক্যাটেগরিঃ মতামত-বিশ্লেষণ

“এসি ল্যান্ড পদে বিসিএস ক্যাডার নিয়োগ বন্ধ” খবর কালের কণ্ঠ ,০৩ আগষ্ট,২০১২। দুর্নীতি থেকে দূরে রাখতে নবীন বিসিএস ক্যাডার কর্মকর্তাদের এসি ল্যান্ড পদে পদায়ন করা হবে না। জনপ্রশাসন সচিব আবদুস সোবহান সিকদার গত বুধবার কালের কণ্ঠকে বলেন- বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সদ্য শিক্ষাজীবন শেষ করে বিসিএস কর্মকর্তারা এসি ল্যান্ডের মতো দুর্নীতির অবাধ সুবিধা সংবিলত একটি পদে যোগ দেন। চাকরী জীবনের শুরুতেই অনেকই দুর্নীতিতে জড়িযে পড়েন। অনেক কর্মকর্তা এই দুর্নীতির অভ্যাস সারা জীবনেও ছাড়তে পারেন না। বিসিএস কর্মকর্তাদের নৈতিক মনোবল দৃঢ় রাখার জন্য তাদের আর এসি ল্যান্ড পদে পদায়ন করা হবে না। যেসব কর্মকর্তা আছেন তাদেরও দ্রুত প্রত্যাহার করা হবে।”

বিসিএস এ যত গুলো ক্যাডার আছে তার মধ্যে প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাগণ নিজেদেরকে উচ্চ বংশীয় মনে করেন। এমন কোন জায়গা নাই সেখানে প্রশাসন কর্মকর্তাদের খবরদারি নাই। নিজস্ব ক্যাডারের কর্মকর্তা তার ক্যাডারে সচিব হতে না পারলেও প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাগণ সচিব হবেন । এবং তা যেন নির্ধারিত। এতদিন দুর্নীতি গ্রস্থ মানেই বিশেষ এক ক্যাডারকে বলা হত। এবং এটাও বলতে শোনা যায় প্রশাসন ক্যাডারে এর সুযোগ নেই। এখন দেখি ব্রাহ্মণগণও কম যান না। কয়েকদিন আগে ঢাঃবিঃ ক্যাম্পাসে একজন এসি ল্যান্ডের সাথে পরিচয় হল। উনি কক্সবাজার থেকে এয়ার এ ঢাকা আসেন। এবং মাসে দু তিনবার আসেন। আমার বুঝে আসে না এটা কি করে সম্ভব। তার হয়ত বাবার অনেক আছে।

যে সিদ্ধান্ত হয়েছে তার যৌক্তিকতা কতটুকু তা আমার মাথায় আসে না। যে কারনের কথা বলা হয়েছে তা মোটেও যুক্তিযুক্ত নয়। বিসিএস ক্যাডার প্রত্যাহার করে যাদের কথা বিবেচনা করা হচ্ছে তারা কি বিশ্ববিদ্যালয় শেষ করে আসবে না জুনিয়র কর্মকর্তাদের প্রমোশন দিয়ে আনা হবে? যতদুর বুঝলাম তাতে প্রথম শ্রেণীর নন ক্যাডার পদ সৃজন করে (অবশ্যই নিয়োগ বানিজ্যের কথা মাথায় রেখে) পদায়ন করা হবে। তারা অবশ্যই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সদ্য পাশকৃত হবে। যদি তাই হয় তাদেরকে এই দুর্নীতিতে বৈধ করে দেওয়া হচ্ছে। তারা নিশ্চয় নৈতিক মনোবল সম্পন্ন হবে না। আর তাই যদি না হয় যে দুর্ভোগ জন সাধারনের হচ্ছে তা আরো বাড়বে বৈ কমবে না।

সাব রেজিঃ পদ এবং প্রস্তাবিত এসি ল্যান্ড পদ একই হবে। শুনি বর্তমানে সাব রেজিঃ পদে নিয়োগের জন্য ১০/১৫ এমনকি ২০ লাক্ষ পর্যন্ত ডাক হয়। যাদের জন্মই হয় ঘুষের মাধ্যমে তারা কিভাবে সৎ সেবা দিবে? আবার এসি ল্যান্ড পদটিও যদি এমন হয় তবে তা খুবই খারাপ হবে। দেশের এই দুইটি পদ সাব রেজিঃ এবং এসি ল্যান্ড যদি দুর্নীতি মুক্ত হয় তাহলে দেশের মোট অপরাধের ৬০ থেকে ৭০% কমে যাবে। কারণ দেখা গেছে দেশের মোট অপরাধের ৬০ থেকে ৭০% অপরাধ হয় ভূমি সংক্রান্তে। যদি তাই হয় তবে শুধু পুলিশেরই নয় মহামান্য আদালতেরও মূল্যবান সময় ও শ্রম বেচে যাবে। যে পদ্ধতিতে প্রস্তাবিত এসি ল্যান্ডদের দুর্নীতি নিয়ন্ত্রন করা হবে বলে বলা হচ্ছে সেই পদ্ধতিটাই বর্তমান এসি ল্যান্ডদের উপর প্রয়োগ করা হোক।

আমার মনে হচ্ছে বর্তমান এসি ল্যান্ডগন বিসিএস ক্যাডার হওয়াতে তাদের থেকে অবৈধ সুবিধা নিতে পারছেন না আমাদের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাগন। কারন প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তা হয়ে আরেক জন প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তার কাছে ঘুষের ভাগ চাওয়া বেমানানই নয় লজ্জসকরও বটে। নৈতিক উন্নয়ন শুধু ক্যাডারদেরই প্রয়োজন না এটা সবারই প্রয়োজন। মন্ত্রি আমলা কামলা সবার। তাই আমি মনে করি যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে তা পুনঃবিবেচনা করা উচিৎ।