ক্যাটেগরিঃ কৃষি

আমার এই পোস্টটি না দিলেও হত। কারন এই বিষয়ে বর্তমানে এত পোস্ট যে পাঠক খুজে পাওয়া যাচ্ছে না। তবে কোন একটা পোস্টে আমি কথা দিয়েছিলাম “কিস্তি ঋণ কখন কোথায় সফল হতে পারে তা পরের কোন এক কিস্তিতে আলোচনার আশা রাখি।” আমার কিস্তি ঋণ বিষয়ক আজকের কিস্তি হবে শেষ কিস্তি। আসলে আমি যখন ব্লগে প্রথম এলাম আমার গন্তব্য ছিল আশুলিয়া। কিন্তু কিভাবে যেন আমি নরসিংদীর আলু পটল আর বেগুন ক্ষেতে এসে পড়েছি। এবার এই কিস্তিতে এখনকার পাঠ আপাতত চুকাতে চাচ্ছি।

হ্যা, সত্যিই কিস্তি ঋণে ভাগ্য বদলানো সম্ভব। গরীব মানুষদের এই ঋণ সহায়তায় সত্যিই তাদের ভাগ্য বদলান যায়। যারা কিস্তি ঋণের সফলতায় বিশ্বাস করেন না তাদেরকে আমি আরেকবার একটু ভেবে দেখার অনুরোধ করব। আমি বলছি না যে ১০০% সাকসেস রেট আছে। কিস্তি ঋণের যেমন মর্মস্পর্মী ব্যর্থতা আছে তেমনি গর্ব্ করার মত কিছু সফলতাও আছে। এই সফলতা বা ব্যর্থতা কি কিস্তি ঋণের না ঋণগ্রহীতার (ব্যবহারকারী)?ব্যর্থতা একা কিস্তি ঋণের নয় আবার সফলতাও একক ভাবে কিস্তি ঋণের নয়। এটি ঋণগ্রহীতারও ব্যর্থতা বা সফলতা। সফলতা বা ব্যর্থতা কার তা পার্থক্য করা একটি জটিল বিষয়। আমি এই জটিল বিষয়ে যাব না (আসলে আলাদা করতে আমি পারি না, ম্যাথামেটিক্স এ আমি খুবই দুর্বল)।
এখন প্রশ্ন হল, কখন, কোথায়, কি অবস্থাতে কিস্তি ঋণ সফল হতে পারে? এই পোস্টটিতে আমি খুজে বের করার চেষ্টা করেছি্ এমন কিছু বিষয় যা কিস্তি ঋণকে সফল করতে পারে।

এক- ঋণ গ্রহীতার ঋণ ব্যবস্থাপনা
ঋণ গ্রহীতার সাধারন মানের ব্যবস্থাপনার জ্ঞান থাকতে হবে যাতে করে সে তার ঋণ ও ব্যবসায়কে ম্যানেজ করতে পারে।তাকে অর্থ বিদ্যায় বা ব্যবস্থাপনায় ডিগ্রি নিতে হবে না। এটি ঋণ দাতারা ট্রেনিং এর মাধ্যমে উন্নয়ন করতে পারে। আবার কারো কারো জন্মগতভাবেই এটি গড়ে উঠে। নিদান পক্ষে তার লাভ লোকসান হিসাব করার ক্ষমতা থাকতে হবে। গাধা মার্কা লোক দিয়ে গতর খাটা ছাড়া কিছু হয় না।

দুই-বিনিয়োগ সুযোগ
ঋণের বিনিয়োগ সুযোগ থাকতে হবে তা না হলে তা কোন কাজেই আসবে না। প্রশ্ন হল এই সুযোগ কে করে দিবে? এটি সরকার করবে। এটি ঋণ দাতারা ট্রেনিং এর মাধ্যমে করবে। এটি ঋণ গ্রহীতা নিজে খুজে বের করবে। সরকারী বেসরকারী পর্যায়ে সুযোগ সৃষ্টি হবে ।শুধু তাই নয় প্রস্তুতকৃত পণ্যের বাজার ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে হবে।

তিন-উদ্যোগী মনমানসিকতা
আমার ইমিডিয়েট ছোট ভাইকে আমি একটি ব্যবসা করে দিয়েছি। আমি যে পর্যন্ত তাকে দিয়েছি সে সেখানেই পড়ে আছে। তার কোন গরজ নেই ব্যবসা বৃদ্ধি করার। সকালে যায় দোকান খুলে বসে আর রাতে বাসায় আসে। তার দোকানে কি নাই বা আরো কি যোগ করা যেতে পারে এ ব্যাপারে তার কোন মাথা ব্যথ্যা নাই। তার ব্যবসা যা দিয়েছিলাম দিন দিন তা কমে এসেছে। কথাটি এই জন্য বললাম যে উদ্যোগী মন মানসিকতা বা আরো কিছু করার মন মানসিকতা না থাকলে কিস্তি ঋণের দোষ দিয়ে কোন লাভ নেই। তবে ঋণ দাতা প্রতিষ্ঠান এ ব্যাপারে ট্রেনিং দিতে পারে বা আমাদের যুব উন্নয়ন ও এ ব্যাপারে কাজ করে। সেখান থেকে ট্রেনিং নিয়ে ঋণ গ্রহীতারা কিছু করতে পারে।

চার-বিনিয়োগ আয়
বিনিয়োগ সুযোগের কথা বলেছি।এখন বলছি সেই বিনিয়োগ থেকে অবশ্যই এমন একটি মুনাফা আসতে হবে তা যেন কিস্তি ঋণের সুদ+আসল এক কথায় কিস্তি পরিশোধযোগ্য হয়। তা না হলে সবই বিফলে যাবে।

পাঁচ- অকৃষিতে ঋণ
আমি আমার এলাকার একজনকেও পাইনি যে কৃষিতে ঋণ লাগিয়ে ভাল করতে পেরেছে। তবে আমি আনেক ঋণ গ্রহীতার কথা জানি যারা নিজেদের ভাগ্য সত্যিই বদলে ফেলেছে। তারা কেউই কৃষিতে বিনিয়োগ করেনি। তাদের কেউ রিকসাভ্যান কিনে এখন বেশ কটির মালিক। ছোট ব্যবসায়ী থেকে এখন বাজারের বেশ বড় একটা দোকানের মালিক। ছোট ফড়িয়া (যে পণ্য কেনে আর অন্যের কাছে হোলসেল করে) থেকে এখন বড় ব্যবসায়ী। এটি আপনি একটু খোঁজ করে দেখেন আমি যা বললাম তার কোন ব্যতিক্রম হবে না।আমি কিস্তি ঋণ অ কৃষিতে লাগানোর পক্ষে। কৃষি খাত থেকে কিস্তি ঋণের কিস্তি পরিশোধ করা সম্ভব না এটি আমি আগেই বলেছি।

মোটামুটি এই পাচটি বিষয় নিশ্চিত করতে পারলে কিস্তি ঋণ দিয়ে যে কোন দেশেই কিছু করা যেতে পারে। তবে এর বাইরেও আরো বিষয় থাকতে পারে। যে কেউ চাইলে এর সাথে আরো কিছু যোগ করতে পারেন। তাতে আমরা আরো কিছু তথ্য পেতে পারি। ঋণ দাতাদেরকে এই বিষয় মাথায় রেখেই ঋণ প্রদান করা উচিত। তবে তারা তা করেন না। ঋণ যেখানেই যাক তারা কিস্তি পেলেই হল আর না হলে ঘরের টিন বা থালাবাসন, ছাগলভেড়া তো আছেই। ঋণ নিয়ে কে কি করছে তার মনিটরিংটা করার কথা থাকলেও তা করা হয় না। আশা করি ব্লগের সম্মানিত অর্থনীতিবিদগন এ বিষয়ে তাদের মতামত পেশ করবেন। ধন্যবাদ কষ্ট করে পড়ার জন্য।

Five Factors of micro-credit. By Bindubisorgo