ক্যাটেগরিঃ অর্থনীতি-বাণিজ্য

 

আমি একটু অতি মাত্রার আশাবাদি লোক। দুর্নীতিতে ডুবে যাচ্ছে চারিদিক তারপরও আশা করি একদিন আমাদের নাম ঐ লিস্টের শেষের দিকেই থাকবে। আশুলিয়া আমার অন্যতম আশার এক বিচরণক্ষেত্র। আমি আশা করি একদিন সব ঠিক হয়ে যাবে আর আমরা পিঁপড়ার সারির মত কন্টেইনারে ভর্তি পণ্য পাঠাবো । বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম ভিত এই সেক্টরটি। হাজার হাজার হা-ভাতের ভাতের সংস্থান করেছ এই আশুলিয়া।

গত কয়েক বছর ধরেই আশুলিয়া অশান্ত। দেশের এই সেক্টরটি বাঁচানোর জন্য (নাকি মালিকপক্ষের স্বার্থ রক্ষার জন্য) দেশ শিল্প পুলিশ নামে আরেকটি ইউনিট চালু করল। তারপরও মালিক শ্রমিকের চিরকালের দ্বন্দ্ব চলছেই। সারা মাস কাজ করে সেই পারিশ্রমিকের জন্য আরেক দফা যুদ্ধ করতে হয়। বড়ই জঘন্য এই যুদ্ধ। অন্য সময় যাই হোক ঈদের সময় শ্রমিকরা আশায় থাকে বেতনটা যথাসময়ে পাওয়ার। অথচ গত কয়েকদিন ধরেই যুদ্ধ চলছে আশুলিয়ায়। সে যুদ্ধের বিস্তৃতি টেকনাফ তেঁতুলিয়া পর্যন্ত। “কম বেতনে মানবেতর জীবন আর কারখানা কর্তৃপক্ষের কড়াকড়িতে জমে ওঠা ক্ষোভ থেকেই এ অস্থিরতার শুরু। মুল্যস্ফীতি আর স্বল্প বেতনের যাঁতাকলে পিষ্ট হতে হতে দীর্ঘদিন ধরে যে ক্ষোভ শ্রমিকদের মধ্যে দানা বেঁধেছিল, এই আন্দোলন ছিল তারই বহিঃপ্রকাশ।” [1]

জনশ্রুতি এটি একটি বিদেশি ষড়যন্ত্র। আমাদের ইনটেলিজেন্স রিপোর্ট কিছুই বলে না। আমাদের আরো গভীর ভাবে বিষয়টি নিয়ে ভাবা উচিত। শ্রমিক সংগঠন তাদের মূল ভূমিকা নিতে ব্যার্থ হয়েছে। শান্ত পরিবেশকে অশান্ত করে তুলতে তাদের এক ঘন্টাও লাগে না। তাদের গঠনমূলক কার্যক্রম একেবারেই অনুপস্থিত। মালিক সংগঠন তাদের মুনাফার হার কষতে ব্যস্ত। শ্রমিক আজকে খেয়ে এসেছে কি না এ বিষয়ে তাদের কোন দায় নেয়। অথচ বেতন হয়না আজ দুমাস কি তারও বেশি।

এই কর্মসৃজন খাতটি শেষ হলে কার লাভ আর কার ক্ষতি তা কেউ ভেবে দেখে না মনে হয়। এই যে বিশাল জনশক্তি এইখানে ব্যস্ত এদের যদি কাজ না থাকে তা হলে প্রথমেই যাদের কাজ বেড়ে যাবে তারা হল আমাদের পুলিশ বাহিনী। এই বেকার লোকজন প্রথমেই ক্রাইমের সাথে যুক্ত হবে। এর একটা আলামত ও পাওয়া গেছে পুলিশ রিপোর্টে। দেশের অর্থনীতিতে বিশাল এক ধাকা লাগবে। যে ঢেউ সামলানোর মত ব্যবস্থা আমাদের সত্যিই নেই।দেশের কর্তা ব্যক্তিদের মাথা ব্যাথা আছে কিন্তু তা মারাত্মক বলে মনে হয় না। আদেশ দিয়ে বসে থাকলেই হয় না, আদেশ কতটুকু বাস্তবায়ন হল বা হচ্ছে তা মনিটরিং করাটা বেশি জরুরি।

আমার মনে হয় একটি সলিসিটর গ্রুপ তৈরি করা যায়। যারা বিভিন্ন ইউনিট ভিত্তিক থাকবে। তাদের একটা মুল ইউনিট খাকবে। অধিকাংশ সমস্যা এলাকা ভিত্তিক ইউনিট সমাধান করবে। আর সমস্যা বড় হলে প্রধান কার্যালয় বা মূল ইউনিট সমাধান করবে। এলাকা ভিত্তিক ইউনিটে ঐ এলাকার প্রতিটি কারখানা থেকে একজন করে শ্রমিক প্রতিনিধি, একজন করে অফিসার প্রতিনিধি, একজন মালিক প্রতিনিধি ,একজন পুলিশ প্রতিনিধি, একজন ম্যাজিস্ট্রেট বা ডিসি প্রতিনিধি নিয়ে গঠিত হবে। মূল ইউনিট তৈরি হবে উপমন্ত্রী শিল্প, উপমন্ত্রী শ্রম, ডিজি ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ, চেয়ারম্যান অফ ওনার্স অ্যসোসিয়েশন, শ্রমিক সংগঠনের প্রধান, বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধি নিয়ে। দলমত ও ব্যক্তি সর্ম্পকের উর্ধ্বে উঠে দেশের অর্থনীতির ভালমন্দ বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

কোন এলাকার কোন কারখানায় কারো কোন অভিযোগ থাকলে তা তারা লিখিত আকারে ঐ (এলাকা ভিত্তিক) ইউনিটকে জানবে। অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেট ও ঐ কারখানার একজন শ্রমিক প্রতিনিধি বা অফিসার অভিযোগ তদন্ত করে দেখবে। এবং তারা তা সমাধানের জন্য ঐ কারখানার মালিককে অনুরোধ করবে। যদি মালিক তা না করে তা হলে মূল ইউনিটকে জানানো হবে । তারপরও যদি না হয় তবে তার লোন, লাইন্সেস বাতিল করে দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। আর মালিক পক্ষের অভিযোগ যদি প্রমাণ হয় তবে ঐ কারখানার শ্রমিক/অফিসার প্রতিনিধিকে সমাধানের জন্য বলতে হবে। যদি সে ব্যার্থ হয় তবে যারা বা যে সমস্যা করছে তাকে এ্যারেস্ট করতে হবে । এ ক্ষেত্রে অন্যান্য কারখানার প্রতিনিধি তাদের কারখানার শ্রমিকদেরকে বিষয়টি অবহিত করবে এবং কেন কোন অপরাধে এ্যারেস্ট করা হয়েছে তা ব্যাখ্যা করবে।

তবে কোন অবস্থাতেই কাজ বা কারখানা বন্ধ বা ভাংচুর করা যাবে না। বেতন না পেলে সলিসিটরগন বেতন প্রদানের জন্য গ্যারান্টর হিসেবে থাকবেন। মূল ইউনিট প্রয়োজনে কারখানার সম্পতি বিক্রি করে বেতন পরিশোধ করবে এবং এই ক্ষমতা তাদের দিতে হবে। ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ এ ব্যাপারে এখনও বড় দায়িত্ব পালন করতে পারে। তাদেরকে দায়িত্ব সম্পর্ককে আরো সচেতন হতে হবে। গোয়েন্দা কার্যক্রম জোরদার করে অগ্রিম তথ্য সংগ্রহ পূর্বক তার সম্ভাব্য হুমকি মোকাবেলার জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। এতে অনেক সমস্যারই শুরুতেই সমাধান করে ফেলা যাবে।

আসুন আমরা সবাই এই সোনার ডিমপাড়া সেক্টরটি ভালভাবে চালানোর আরো পথ বা উপায় খুঁজে বের করি।