ক্যাটেগরিঃ নাগরিক সমস্যা

ঈদ মানেই আনান্দ। ঈদ মানেই খুশি। যারা কর্মজীবী মানুষ তাদের আনন্দটার একটু ভিন্নমাত্রা আছে। অনেকদিন পর আপন, অতি কাছের মানুষদের সাথে দেখা হওয়ার আনন্দটা ঈদ আনন্দকে আরো বাড়িয়ে দেয়। ব্যস্ত জীবনে অনেকের সাথেই বাস্তবিকভাবেই অনেকদিন পর দেখা হওয়ার সুযোগ। জীবনের অনেক স্মৃতি শেয়ার করার আশায় মানুষগুলো একত্রিত হয়। এই মোবাইলের যুগেও সরাসরি স্বাক্ষাতের আনন্দ অসাধারন। তাই বাড়ি ফেরার জন্য যে কোন পন্থাই আমরা অবলম্বন করি। আমরা ভেবেও দেখি না আমরা আমাদের জীবনকে কত বড় ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দেয়। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় ঝুকি যেটা আমরা নেই তা হল অতিরিক্ত যাত্রী হয়ে নৌপরিবহনে উঠা। আরেকটি হল ট্রেনির ছাদে উঠা। ঈদের আগে দফায় দফায় মিটিং করে কর্তাব্যক্তিরা কঠোর কর্মসূচি নেয় এইবার কোন ভাবেই এ্যালাউ করা হবে না। কিন্তু যখন হাজার হাজার ঘরমুখো মানুষ জড়ো হয় এবং জীবনের তোয়াক্কা না করে বাড়ি ফিরতে বদ্ধপরিকর হয় তখন মিটিংয়ের সব নির্দেশনাই দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি বা সংস্থা ভুলে যেতে বাধ্য হয় ।

প্রিয়জনের সাথে এক ঘন্টা সময় বেশি কাটানোর জন্য আমাদের কি চেষ্টা! যেভাবেই হোক বাড়ি আজ যেতেই হবে। আজ থেকেই ঘরমুখো মানুষ ঘরে ফেরার যাত্রা শুরু করেছে। এবার যারা বা যাদের নিকটজন ট্রেনে ভ্রমন করছেন তাদেরকে বিশেষভাবে অনুরোধ করছি আপনি বা আপনার নিকটজনের কেউ যেন ট্রেনের ছাদে ভ্রমন না করেন। গত এক মাসেই 30 টির বেশি মানুষকে ট্রেনের ছাদ থেকে ফেলে দিয়ে হত্যা করেছে ছিনতাইকারীরা। তাছাড়া এবার সবচেয়ে ভয়ের বিষয় হল বনানীতে যে ওভার ব্রিজটা হচ্ছে তার গার্ডারটা এত নিচে যে একটু অসাবধান হলেই মাথায় বাড়ি খেয়ে নিচে পড়ে যাবে। মৃত্যু অবধারিত।

আর এখন বর্ষা কাল । মৌসুমী বায়ৃর প্রভাবে নদনদী সাগর উত্তাল। বিপদ সংকেত চলছে। সুতরাং নৌযানে অতিরিক্ত যাত্রি হয়ে উঠার আগে আপনার প্রিয়জনের কথা একটু ভাববেন। আপনার পরের নৌযানটি হয়ত খালি যাচ্ছে। একটু খোঁজ নিয়ে আপনার যাত্রা শুরু করুন।

যারা ঈদ করতে ঢাকার বাইরে যাচ্ছেন তাদের শুভকামনা এবং নিরাপদ ঘরে ফেরার প্রার্থনা করছি। ঈদ মোবারক। নিরাপদ আর আনন্দময় হোক আপনার ঈদ।