ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

আজ ক্যাম্পাসে ইফতার করার উদ্দেশে বাসা থেকে বের হলাম।অনেক বছরের মায়া অনেক বছেরও ভুলতে পারি না। শিশু পার্কের সামনে জ্যাম থাকায় বাস থেমে গেল। বেশ কিছুক্ষন অপেক্ষা করার পর বাস থেকে নেমে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ভিতর দিয়ে একটু শর্টকাট মারার ইচ্ছা হল। যথারীতি নেমে পড়লাম। শিখা চিরন্তন এর পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় যা দেখলাম তা ভাষায় প্রকাশ করার সামর্থ আমার নেই। দেশে সরকার বা পুলিশ কেউ আছে বলে মনে হল না। কি নেই এখানে। গাজা থেকে শুরু করে ইয়াবা , সিরিঞ্জ সবই আছে। দেখে মনে হল এই যায়গাটা সরকার মনে হয় মাদকসেবিদের জন্য ওপেন করে দিয়েছে। যার ইচ্ছা এখানে এসে মাদকসেবন করবে কেউ কিছু বলবে না। কিছু লোককে দেখে মনে হল তারা যেন মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা করছে। তাদের জীবনের সব হিসেব নিকেষ শেষ। কিছুই আর চাওয়ার নেই। একজনকে বললাম ভাই এভাবে শেষ হয়ে যাওয়ার কোন মানে হয়? সে উত্তরে বলল- আমি তো শুধু আমার জীবনটাই শেষ করছি। আপনাদের নেতারা যে পুরো দেশটাই শেষ করে দিচ্ছে? আমি বললাম আপনার মত এক্ এক করে তো অনেক জীবনই শেষ হয়ে যাচ্ছে। যারা এই দেশের জন্য অনেক কিছুই করতে পারে। আর নেতারা যদি এমন কিছু করেই থাকে তবে আপনারা তার প্রতিবাদ করতে পারেন। ‘কে কার জন্য কি করে ভাই। আপনি আপনার কাজে যান আমাদেরকে আমাদের কাজ করতে দেন”। আমি আর কিছুই বললাম না।

সরকারের কি কিছুই করার নেই? আমাদের আ্‌আইনশৃংখলা বাহিনীর ও কি কিছু করার নেই। আমাদের সমাজ বিজ্ঞানীরাও কি কিছু করতে পারেন না? যদি নাই পারে তাহলে ঐ লোকগুলোকে আমরা সত্যিই মরে যেতে দিয়েছি।

অপরাধ বিদ্যায় একটি থিওরি আছে। তা হল কোন একটি স্থানকে যদি আমরা খারাপ ব্যবহারকারীদের জন্য ছেড়ে দেই তা হলে সেখানে ভাল ব্যবহারকারীরা আস্তে আস্তে Eliminate হয়ে যায়। এখানে বিষয়টি তাই হতে চলেছে। শিখা চিরন্তন একটা দর্শনীয় স্থান। এখনই যদি মাদকসেবিদেরেকে তাড়ানো না যায় তাহলে সাধারন দর্শনার্থীরা Eliminate হয়ে যাবে। সরকারের এখনই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। মাদক সমস্যাকে একটি সামাজিক সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করে ফৌজদারী ব্যবস্থার পাশা পাশি সামাজিক পদেক্ষপও নেওয়া জরুরি। এ ক্ষেত্রে আমাদের সমাজবিজ্ঞানীগন অনেক ভূমিকা পালন করতে পারে। আমাদের ভাই ভাতিজার বিষয়েও আমাদের খেয়াল রাখা উচিত।
আসুন আমরা ওদেরেক মরে যেতে না দিয়ে বাচিয়ে তোলার চেষ্টা করি।