ক্যাটেগরিঃ নাগরিক সমস্যা

অন্য অনেকের মত আমার মনেও প্রশ্ন জাগে টিকেট বিক্রির এক ঘন্টার মধ্যে কিভাবে টিকেট শেষ হয়ে যায়। ঘন্টার পর ঘন্টা দাড়িয়ে থেকে টিকেট না পেলে কষ্টের আর সীমা থাকে না। অপেক্ষার প্রাপ্তি যোগ হলে কষ্ট দূর হয়ে যায়। আমি এ বিষয়ে একটু খোঁজ খবর নিয়ে যা জেনেছি তাই আপনাদের সাথে শেয়ার করে নিচ্ছি।

বর্তমানে ঢাকা থেকে প্রতিদিন 26 টি ইন্টারসিটি ট্রেন দেশের বিভিন্ন রুটে যাতায়াত করে। সব ট্রেনের টিকেট নিয়ে বলা সম্ভব নয়। আমি ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটের ট্রেনের টিকেট সর্ম্পকে খোঁজ নিয়েছি। আপনারা জানেন যে অনলাইন ব্যাংকিং এর মত ট্রেনের টিকেট (রেলস্টেশন) ও অনলাইন। অর্থ্যাৎ একটি ট্রেনের টিকেট দেশের অনলাইন স্টেশনের যে কোন কাউন্টার থেকে কাটা যায়। তবে বর্তমানে সব স্টেশন অনলাইন নয়। ঢাকা, বিমানবন্দর, রাজশাহী, সিলেট এবং চট্টগ্রাম স্টেশন থেকে অনলাইন টিকেট কাটার সুযোগ আছে। এবং বিপদজনক বিষয় হল একটি স্টেশনের সব ক’টা কাউন্টার থেকেই একযোগে টিকেট কাটা যায়। টিকেট ওপেন হওয়ার 10 মিনিটের মধ্যে সব টিকেট বিক্রি করে দেওয়া যায়। এ কারনে মূল স্টেশন প্রায় টিকেট পায় না। এখন এই সুযোগটি স্ট্রাটেজিক্যালি বন্ধ করে রাখা হয়েছে যাতে মূল স্টেশনে টিকেটের কমতি না হয়। আরেকটি কারণ হল টিকেট কালোবাজারি বন্ধ বা কমানো। দশ দিন আগে টিকেট কেটে যেখানে বা যে স্টেশনে ডিমান্ড বেশি সেই স্টেশনে টিকেট পাঠানো সম্ভব। ফলে দেখা যেত রাজশাহী বা চট্টগ্রাম স্টেশনের কাটা টিকেট ঢাকা স্টেশনে বিক্রি হচ্ছে। তাই এই সুযোগটি বন্ধ করে রাখা হয়েছে বা কন্ট্রোল করা হচ্ছে।

এবার আসুন টিকেটের হিসাব নিকাশ করি। মোট টিকেটের মধ্যে ২৫% টিকেট মোবাইল (মো্বাইলে টিকেট পেতে আপনার জিপি বা বাংলালিংক মোবাইল থেকে প্রথমে Reg লিখে 1200 পাঠাতে হবে এবং আপনাকে একটা পিন কোড দিবে। আপনার নামে একটি এ্যাকাউন্ট হবে যা আপনার মোবাইল নম্বর এর সাথে অতিরিক্ত 7 যোগ করে করা হবে। এরপর আপনি *131# এ গিয়ে টিকেট কিনতে পারবেন। মোবিক্যাশ এর মাধ্যমে টাকা জমা করতে হবে) বা অনলাইনে যায় (www.railway.gov.bd)। অনলাইনে টিকেট পেতে হলে আপনার ভিসা বা মাস্টারকার্ড অথবা ব্র্যাক ব্যাংকে হিসাব থাকতে হবে। এর পর ৫% রেল কর্মকর্তাদের ডিউটি কোটা থাকে। এর পর ইমার্জেন্সি কোটা নামে আরেকটি কোটা থাকে। এর মধ্যে মুক্তিযোদ্ধা. প্রতিবন্ধী, বিচারপতি, মন্ত্রি, এমপি অর্ন্তভুক্ত। এর পার্সেন্টেজ কত তা উল্লেখ নেই। তবে এই টিকেট গুলো অবিক্রিত থাকলে যাত্রার 16/12 ঘন্টা পূর্বে উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। এসকল কোটা বাদ দেওয়ার পর কাউন্টারে আমাদের জন্য খুব অল্পই টিকেট থাকার কথা।

ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটের সুবর্ণ ট্রেনে মোট আসন সংখ্যা 899। এর মধ্যে ঢাকা স্টেশন 724 টি এবং বিমান বন্দর স্টেশন 175 টি টিকেট বিক্রি করে। মোবাইল কোটায় ঢাকা থেকে যায় 181 টি এবং ইমার্জেন্সি কোটায় যায় 68 টি। মাত্র 425 টি টিকেট উন্মুক্ত হয় সবার জন্য। ঢাকা স্টেশনে মেয়েদের একটি কাউন্টার সহ দুইটি কাউন্টার থেকে টিকেট দেওয়া হয় । একজনকে সর্বোচ্চ ৪ টি টিকেট দেওয়া হয়। একটি টিকেট বের করতে সময় লাগে সর্বোচ্চ এক মিনিট। তাহলে আমরা যারা লাইনে দাড়িয়ে টিকেট কিনতে চায় তাদের মধ্যে সর্বো্চ্চ 141 জন (গড়ে 3টি টিকেট প্রতি ব্যক্তি) টিকেট পেতে পারি। দুইটি কাউন্টারে যদি টিকেট দেয় তাহলে 70 মিনিট টিকেট থাকার কথা। এ ছাড়া অনলাইনে চট্টগ্রাম থেকেও কিছু টিকেট বিক্রি হয়। আর বুকিং ক্লার্কদের পরিচিত লোক যদি অনুরোধ করে বা রেল কর্মচারী বা কর্তার কেউ অনুরোধ করলে আরো কিছু টিকেট কোটাভুক্ত হয়। সুতরাং দেখা যাচ্ছে আমাদের মত সাধারন জনগনের জন্য মাত্র 30 মিনিট কাউন্টারে টিকেট থাকে। এর মধ্যে যে টিকেট পায় সে ভাগ্যবান। আর যে পায় না সে বাসে করে যায়।