ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

একবার আমাদের এক ক্রিড়াবিদ এক হোটেলের তোয়ালে নিজের মনে করে নিয়ে এসেছিলেন। তার নাম আমার মনে নেই। এমনটি প্রায়ই হয়ে থাকে । কোন হোটেলে রাত কাটানোর পর তোয়ালেটা, সাবানটা (তা 6 টাকা দামের লাক্স হলেও), শ্যাম্পুটা এমনকি টিস্যু রোলটাও নিজের মনে করে নিয়ে আসে অনেকেই। পরে যখন ধরা পড়ে তার মুখে চুনকালী পড়ার সাথে সাথে আমাদের মুখেও তা পড়ে।

আবার অনেক সরকারী কর্মকর্তার কথা শুনি বদলী হলে বা রিটায়ার্ড করলে তার অফিসের নতুন পুরাতন প্রায় সব জিনিসই নিজের মনে করে বাসায় নিয়ে যান। ভাবখানা এমন যে সেগুলো তার বেতনের টাকায় কেনা তিনি দয়া করে অফিসের কাজে ব্যবহার করতে দিয়েছিলেন। পরের জন এসেই শুরু করেন বকাবাদ্য যা অনেক সময়ই জনসম্মুখে প্রকাশযোগ্য নয়। অফিসের জুনিয়র গন ভাবেন যাক এতদিনে মনের মত স্যার পাওয়া গেল। কিন্তু স্যারের ফেয়ারওয়েল এর আগেই নতুন ক্রয়কৃত সব স্যারের বাসায় পৌছে দিতে হয়। কিছু ব্যতিক্রমী অফিসার অবশ্যই আছেন যাদের নিয়ে প্রকাশ্যে গর্ব করলেও অপ্রকাশ্যে আনফিট তকমা জোটে।

এতকিছু্র পরেও যখন আমাদের মহামান্য আইন প্রণেতারা সরকারীভাবে সরবরাহকৃত দ্রবাদি আত্নসাৎ করেন তখন আর বলার কিছুই থাকে না। তোয়ালে বা সাবান শ্যাম্পু তো ছার সরকারী কর্তার এসি, টিভি, ল্যাপটপও কিছু না। আমাদের কি দুর্ভাগ্য আমরা ভোট দিয়ে কিছু চোর নির্বাচন করি ।

সরকারীভাবে সরবরাহকৃত জনগনের টাকায় কেনা এইসব সম্পদ আত্নসাৎ করা কি দুর্নীতির মধ্যে পড়ে না? মনে হয় না কারণ তারাই তো সরকার।
(খবর: কালের কণ্ঠ তাং-14/01/2013 শেষের পাতা)