ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

জামায়াতকে বা ধর্মীয় রাজনীতি নিষিদ্ধ করার জন্য আমরা ঠিক এখন যা করছি সেটি ৪০ বছর আগেই করার দরকার ছিল বলে আমি মনে করি। তারপরেও শুরু হয়েছে এইটাই আশার কথা এবং আমরা যারা প্রতিদিন রাতজেগে শাহবাগ পাহারা দিচ্ছি আমাদেরও একমাত্র চাওয়া যে এখনই সময় তাদেরকে চিরতরে কালের গর্ভে বিলীন করে দেওয়ার।

আমি ৪০ বছর আগের কথা বলছি এই জন্যে যে আজকে জাময়াত নিজেদেরকে অর্থনৈতিকভাবে এবং সাংগঠনিকভাবে এমন এক যায়গায় নিয়ে গিয়েছে যে শুধুমাত্র আইন করে বা জোর করেই তাদেরকে চিরতরে শেষ করে দেওয়া যাবে না। বড়জোর তাদেরকে ব্যকফুটে ঠেলে দেওয়া যাবে কিছু সময়ের জন্য। ৪০ বছর আগেই মানে স্বাধীনতার ঠিক পরেই যদি আইন করে বা জোর করেই তাদেরকে নিষিদ্ধ করা যেত তাহলে তারা আজ এত বড় বিষফোড়া হয়ে উঠতে পারত না কখন। রাজনৈতিক ব্যর্থতার পরম্পরাই আজ জামায়াত এত দূর এসেছে এবং এমনই ভয়ংকর হয়ে উঠেছে ।
জামায়াতকে চিরতরে শেষ করতে আমাদের আরো কিছু অস্ত্র দরকার ঠিক এই সময়েই। আর তার অন্যতম হল আদর্শ। আদর্শিকভাবে আমরা যদি তাদেরকে হারাতে ব্যর্থ হয় তবে তারা আবারও মাথা চাড়া দিয়ে উঠবেই হয়ত অন্য কোন ফর্মে।

একটা বিষয় আমার মাথায় আসে না; জামায়াত-শিবির যাদের নামে এত এত অভিযোগ,এত খারাপ হওয়ার পরেও কিভাবে তারা তাদের সাংগঠনিক কাঠামো বাড়িয়ে চলেছে দিনের পর দিন? কিভাবে ক্লাসের সেরা ছাত্রটি তাদের হয়ে যায়? কি জাদু টোনা তারা করে যা আমাদের বড় দুই রাজনৈতিক দলের ছাত্রসংগঠন করতে ব্যার্থ? এই দুই ছাত্র সংগঠন কি পারে না ক্লাসের সেরা ছাত্রটি তাদের করে নিতে? কেন পারে না? সম্ভত আমাদের এই দুই ছাত্র সংগঠনের সেই ধরনের চেষ্টাও নেই বা সেই ধরনের শিক্ষাও তাদের নেই। যার সুযোগ নিয়ে ছাত্রশিবির নিজেদের দল ভারি করে চলেছে। এটি যত না শিবির এর সার্থকতা তার চেয়ে বেশি আমাদের ব্যর্থতা। শিবির যদি জাদু-টোনা করে তবে আমরাও করি না কেন? আমরাও কেন শিবির এর আগেই কমলমতি ছাত্রদের কাছে যাচ্ছি না? আমরা কেন ফুলকুড়ির মত কোন কিছু করছি না?

আরেকটি বিষয় হল সামাজিকভাবে তাদেরকে বয়কট করা। তবে তাদের প্রতিষ্ঠানের যে লিষ্ট আমি দেখলাম বিশেষ করে ব্যাংক ও হাসপাতাল ; তাদের সেবা ছাড়া আমরা কতদূর যেতে পারব বা আমাদের কতটুকু সমস্যার মধ্যে পড়তে হবে তা ভাবনার বিষয় বৈকি। জাতীয়করণের মাধ্যমে এই সেবা চালিয়ে নেওয়া কতটুকু সম্ভব? আমাদের সামনে হলমার্কের মত উদাহরণ থাকার পর এ নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে এবং তা স্বাভাবিকও বঠে। তাছাড়া অর্থবিদ্যায় কোন প্রতিষ্ঠান টেকওভার করতে হলে তার ফাইন্যাসিয়াল ভায়াবিলিটিও বিবেচ্য বিষয় যদিও জাতীয় স্বার্থে বিষয়টি একবারেই নগন্য।
আমাদের সামনে কিন্তু আরো উদাহরণ আছে। মুসলীগ বড় একটা সংগঠন হওয়ার পরেও তারা আজ ইতিহাস, ন্যাপভাসানীও নেই, জাসদ মিশে একাকার নৌকাতে। স্বাধীনতার পূর্ববর্তী বা পরবর্তী এমন আরো অনেক সংগঠনের কথা বলা যায়। এর কারণ কি? কিভাবে তারা বিলীন হয়ে গেল? কারণ, আদর্শিকভাবে তারা আওয়ামী লীগের কাছে পরাজিত হয়েছে এবং এ কৃত্বিতের এর একমাত্র দাবিদার এখনকার আওয়ামী লীগ নয়, জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান। কিম্বা হালের হুদা ভায়েরও কোন খোজ নেই। বা ড. কামাল হোসেনও দাঁড়াতে পারছেন না। কেন? কারন আদর্শিকভাবে তারা কাউকে পরাজিত করতে পারছে না বা সামাজিক গ্রহনযোগ্যতায় তারা গৃহিত হতে ব্যর্থ হচ্ছে।

তাই আমার মতে আমাদের আরো কিছু অস্ত্র দরকার এই খুনি হায়েনাদেরকে চিরতরে বিলীন করার জন্যে। শুধুমাত্র আইন করে বা জোর করে কিছুদিনের জন্য শান্তির ঘুম আমরা দিতে চায় না। আমরা চির শান্তিতে এ দেশে বসবাস করতে চায়। তার জন্যে আরো যদি কাউকে বা কোন দলকে বর্জন করতে হয় তাও করতে আমি অন্তত রাজি আছি।

নব্য রাজাকার লুটেরা শ্রেণী নিপাত যাক, জয় হোক মেহনতি মানুষের।