ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

গত কয়েকদিন একটি গ্যাং এর অস্তিত্ব আমার কাছে ধরা পড়েছে (আমি আবার একটু বে-খেয়ালি এবং টিউব লাইট টাইপের) আর তা হল বহুল আলোচিত সমালোচিত সিপি গ্যাং। অন লাইনের কিছু ইউসারকে জানি গালাগালি করতে সিদ্ধহস্ত। বলা যায় গালাগালিটাকে তারা শৈল্পিক পর্যায়ে নিয়ে গেছেন। যাদের অন লাইনে ইয়াহু বা ফ্লাশ চ্যাটের মত সাইটে যাওয়ার অভিজ্ঞতা আছে তারা জানেন।অনেক সাধনার পর, চর্চার পর কেউ কেউ এমন সুন্দর ভাষায় গুছিয়ে গালি দিতে পারেন। সবাই পারে না। আপনি চেষ্টা করে দেখতে পারেন। ব্যক্তি থেকে যে গালি দেওয়ার একটা সংগঠন হতে পারে এবং তা বেশ শক্ত-পোক্তও হতে পারে তা আমার মাথায় আসেনি।

গালি দিলেই যে তার বা তাদের মাথায় ক্রিয়েটিভ কিছু নেই বা থাকে না বা থাকতে পারে না তা বোধ হয় সব সময় ঠিক নয়। তবে হ্যা গালি দেওয়াটা যখন যু্ক্তিহীন পর্ায়ে চলে যায় তখন তাদের ক্রিয়েটিভিটি নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে। তার পরেও ”ছাই উড়ায়া” দেখার মত দেখতে তো আর দোষ নেই।

প্রথমে দেখলাম কিছু ব্লগার এবং অনলাইন এক্টিভিস্ট প্রমান করার চেষ্টা করলেন এই গ্যাং এর প্রতিষ্ঠাতাদের ব্যাকগ্রাউন্ড জামাত বা এই রকম। তারা কবে কোথায় কি করতেন, সৌদি ছিলেন না মক্কায় ছিলেন বা কোন বংশের ইত্যাদি ইত্যাদি। এটাই কাজ না হওয়ায় আওয়ামীলীগের সাথে বেধেদিলেন কিছু প্রমাণসহ এবং সিপি গ্যাং আওয়ামীলীগ রিপ্রেজেন্ট করে এটাও কেউ কেউ বললেন। বংশ বা দলীয় পরিচয় যাই হোক তারা গালিবাজ বলে সবাই মত দিলেন (তারা নিজেরাও গালিবাজ বলে নিজেদের পরিচয় দেয়, ধন্যবাদ তাদের অন্তত তারা আমার মত হিপোক্রাট না) এবং তাদের সরকারী অনুদান প্রাপ্তির বিষয়ে প্রচন্ড আপত্তি উঠল্। যারা এই আপত্তি তুলল তাদের মধ্যে অধিকাংশই কোন না কোন ভাবে এই সিপি গ্যাং এর সাথে পূর্ পরিচিত। হয় তারা লজ্জায় অপমানে বের হয়ে এসেছেন অথবা বের করে দেওয়া হয়েছে। আজকে শুনলাম অনুদান বাতিল করা হয়েছে এবং একজন সিপি গ্যাং এর সদস্যকেও পুলিশ আটোক করেছে।

আহ! জীবন সত্যিই দাবার বোর্ডের মত। উল্টাইতে একটা চালই যথেষ্ট। কি দাপটই না ছিল এই গ্যাং এর। বেচারারা যদি আগেই কিছু উচ্ছিস্ট ভোগবাদিদের সাথে নিত তা হলে হয়ত এই পরিনতি হত না বা তাদের রাজত্ব আরো বিস্তার লাভ করত, ভরে উঠতে পারত তাদের কোষাগার।

জয় হোক ক্রিয়েটিভিটির জয় হোক মানবতার