ক্যাটেগরিঃ প্রকৃতি-পরিবেশ

 

সুন্দরবন একটি গতিশীল ও সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্যের আধার। প্রায় প্রতি বছর বাংলাদেশে একটা উল্লেখযোগ্য ও আলোচিত বিষয় থাকে পৃথিবীর সপ্তাশ্চর্য র্নিবাচনে সুন্দরবনকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করা। সুন্দরবন পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে বড় একক ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল। এটি বঙ্গোপসাগরের উপকূল ঘিরে অবস্থিত। এর একটা বড় অংশ বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল এবং কিছু অংশ ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কয়েকটি অঞ্চল নিয়ে গঠিত। বাংলাদেশের খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, পটুয়াখালী ও বরগুনার জেলার অংশ বিশেষ নিয়ে সুন্দরবন অবস্থিত। বাংলাদেশে সুন্দরবনের পরিমাণ ৬০-৬৫% এবং অবশিষ্ট অংশ ভারতে মধ্যে পড়েছে। সুন্দরবনের ১০,০০০ বর্গকিলোমিটার এলাকার মধ্যে ৬০১৭ বর্গকিলোমিটার বাংলাদেশে অবস্থিত। এ বনে বৃক্ষ প্রজাতির মধ্যে সুন্দরী, গেওয়া, গরান, কেওড়া, গোলপাতা, বাইন ইত্যাদি প্রধান। তাছাড়া এখানে রয়েছে বিশ্ব খ্যাত বাংলার ঐতিহ্যবাহী প্রাণী রয়েল বেঙ্গল টাইগার ও বিভিন্ন প্রজাতির পাখি, সরীসৃপ, বানর ও চিত্রা হরিণসহ নানা বন্যপ্রাণি। সুন্দরবনের মধ্যে দিয়ে প্রায় ৪০০ এর মত নদ-নদী, খাল ও বিল প্রবাহিত হয়েছে যা বনের মধ্যে জালের মত ছড়িয়ে রয়েছে। এ সব নদ-নদী বা খাল-বিল গুলো সুন্দরবনকে অসংখ্য ক্ষুদ্র ও বৃহৎ অংশে বিভক্ত করেছে। এ বনের পূর্বদিকে বালেশ্বর নদী, পশ্চিম দিকে রায়মঙ্গল নদী বয়ে গেছে। এ বনে বিভিন্ন রকম গাছের মধ্যে সুন্দরী গাছ বেশি থাকায় কালের বিবর্তনে এর নামকরণ হয়েছে সুন্দরবন। যদিও এ সম্পর্কে বিভিন্ন জনের ভিন্ন মত রয়েছে। সুন্দরবনের একক প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যের জন্য ১৯৯৭ সালে টঘঊঝঈঙ কর্তৃক সুন্দরবনকে ৫২২ তম “ডড়ৎষফ ঐবৎৎরঃধমব ঝরঃব” হিসেবে ঘোষনা করা হয়। সুন্দরবনের আকর্ষণীয় প্রাণী হল রয়েল বেঙ্গল টাইগার যা বর্তমানে পৃথিবী বিখ্যাত। বিগত বছরের বাঘশুমারী অনুযায়ী এ বনে বাঘের সংখ্যা মোট ৪৪০ টি। এ সংখ্যা বর্তমানে স্বাভাবিক থাকলেও অদূর ভবিষ্যতে তা হুমকির সম্মুখীন হবে।

প্রকৃত পক্ষে সুন্দরবন এমন একটি বন, যা সত্যিকার অর্থে দেখতে সুন্দর না হলেও এর প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য দেখে কে না হবে মুগ্ধ। সুন্দরবনে একদিনে ছয় রকমের বেশি পরিবেশ লক্ষ্য করা যায়। খুব ভোরের দিকে একরকম, সকালে আরেক রকম, দুপুরে অন্য রকম, সন্ধ্যায় ও রাতে আরেক রকম এবং জোয়ারের সময় ও ভাটার সময় ভিন্ন ভিন্ন পরিবেশ সৃষ্টি করে। বাংলাদেশের জন্য এটি আশীর্বাদস্বরূপ। বর্তমানে সুন্দরবন নানাভাবে হুমকির মুখে। প্রতিনিয়ত ধ্বংস করা হচ্ছে প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষ ভাবে এর জীববৈচিত্র্য। তাই বনবিদ্যার শিক্ষার্থী হিসেবে আমরা মনে করি সুন্দরবনকে পৃথিবীর সপ্তাশ্চর্য নির্বাচনে ভোট দেওয়ার পক্ষে প্রচারণার পাশাপাশি সুন্দরবনকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য ব্যাপক প্রচারণা চালনো এবং সুব্যবস্থা নেওয়া উচিত। কারণ সুন্দরবনকে পৃথিবীর সপ্তাশ্চর্য নির্বাচনে ভোট দেওয়ার পক্ষে যতটা প্রচারণা চালনো হচ্ছে, ততটা পদক্ষেপ সরকারের পক্ষ থেকে সুন্দরবনকে রক্ষা করতে নেওয়া হচ্ছে না। সুন্দরবন এমন একটি বন, যা সত্যিকার অর্থে দেখতে সুন্দর নাহলেও এর প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য দেখে কে না হবে মুগ্ধ। সুন্দরবনে একদিনে ছয় রকমের বেশি পরিবেশ লক্ষ্য করা যায়। খুব ভোরের দিকে একরকম, সকালে আরেক রকম, দুপুরে অন্য রকম, সন্ধ্যায় ও রাতে আরেক রকম এবং জোয়ারের সময় ও ভাটার সময় ভিন্ন পরিবেশ সৃষ্টি করে। বাংলাদেশের জন্য এটি আশির্বাদ স্বরুপ। কিন্তু এ সুন্দরবনের দিকে সতর্ক দৃষ্টি না রাখলে ভবিষ্যতে তা আমাদের জন্য অভিশাপের কারণ হয়ে দাড়াবে। এ ব্যাপারে উর্ধ্বতন মহলের সুদৃষ্টি কামনা করছি।

কিন্তু বর্তমানে পরিতাপের বিষয় হলো যে, সুন্দরবনের জাতীয় সম্পদ আজ ধ্বংস হচ্ছে কতিপয় অসাধু, অবিবেচক এবং চতুষ্পদ জন্তুর ন্যায় বিবেকহীন মানুষের যোগসাজশে। যে বনের সাথে একটি দেশের একটি জাতির অস্তিত্বের সম্পর্ক রয়েছে তা চোখের সামনে ধ্বংস হতে দেওয়া যায় না। বর্তমানে বিভিন্ন পত্রিকার দিকে নজর দিলে দেখা যায়, প্রতিনিয়ত এ বন থেকে বিভিন্ন রকম গাছ কেটে পাচার করা হচ্ছে। এছাড়াও এ বনের বিভিন্ন রকম সম্পদ নষ্ট করা হচ্ছে। এর মধ্যে হরিণ শিকার, বাঘ হত্যা, এমনকি কীটনাশক দিয়ে মাছ নিধন করা হচ্ছে অবাধে। কিন্তু এ ব্যাপারে সরকার, সরকারের পরিবেশ ও বন মন্ত্রনালয়, সরকারের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বনকর্মকর্তারা সবসময় উদাসীন মনোভাব পোষণ করেন। কিন্তু এ ভাবে আর কত দিন চলতে পারে? আমাদের দেশে লক্ষ্য করা যায় যেখানে যাকে নিয়োগ দেওয়া দরকার সেখানে তা করা হয় না। বর্তমানে এ রকম অবস্থা হয়ে দাড়িয়েছে যে, একজন গাড়োয়ানকে (যে গরুর গাড়ি চালায়) নিয়োগ দেওয়া হয়েছে পাইলট হিসেবে তথা বিমান চালনার কাজে। সুতরাং একজন স্বাভাবিক বুদ্ধি বিবেক সম্পন্ন মানুষ সহজে অনুধাবন করতে পারবেন, গাড়োয়ান সেই বিমান কিভাবে চালাবেন। এর ফলে অচিরেই বিমানটি যে কোন জায়গায় আঘাত হেনে ধ্বংস হয়ে যাবে। দেশের উন্নতি করতে চাইলে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি গত মনমানসিকতা, বিজ্ঞানের পৃষ্ঠপোষকতা ও দূরদর্শিতার প্রয়োজন। সুতরাং এটা বলতে পারি না যে, দেশের কোন একদিকের উন্নতি ঘটলে সমগ্র উন্নতি হয়েছে।
বাংলাদেশ একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রবণ দেশ। কয়েক বছর আগে বড় বড় ঘূর্ণিঝড় যেমন সিডর, আইলা বাংলাদেশের ওপর প্রচন্ড গতিতে আঘাত হেনেছিল। যার ক্ষয়ক্ষতি এখনো পর্যন্ত বাংলাদেশ কাটিয়ে উঠতে পারেনি। বিশেষ করে সাতক্ষিরা জেলার সুন্দরবন সংলগ্ন কয়েকটি উপজেলার বসবাসকারী মানুষ ভয়ঙ্কর সিডর ও আইলার কথা আজও ভোলেনি। এসব ঘূর্ণিঝড় ঘন্টায় ২৮০ কি.মি এর বেশি বেগে উপকূলে আঘাত হেনেছিল এবং তা সুন্দরবন সংলগ্ন অংশে এসে হালকা হয়ে পড়ে। যা সুন্দরবনের ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে। সুতরাং এ দেশের উন্নয়নের জন্য প্রাকৃতিক তথা পরিবেশের উন্নয়ন ঘটাতে হবে। সুন্দরবন বাংলাদেশের কালের সাক্ষী হয়ে নিরবে উপকার করে যাচ্ছে। ফলে সুন্দরবনের কারণে ঘূর্ণিঝড়ের প্রচন্ড আঘাত থেকে অনেকটা রক্ষা পেয়েছিল লোকালয়। তাছাড়া এ বন থেকে বাংলাদেশ সরকারের প্রায় ৪৫% রাজস্ব আয় আসে। এ বনের সাথে সুন্দরবন সংলগ্ন প্রায় ২০ লক্ষ লোকের জীবন ও জীবিকা নিবিড় ভাবে সম্পর্কযুক্ত। সুন্দরবনের এতো ভূমিকা থাকা সত্ত্বেও প্রত্যেক সরকার এ বনের ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে সব সময় উদাসীন থাকে।

এ বনের উপকারিতাঃ
১. সুন্দরবন একটা একক ম্যানগ্রোভ বা উপকূলীয় বনাঞ্চল যা উপকূলীয় সবুজ বেষ্টনীর ন্যায় বাংলাদেশের উপকূলকে রক্ষা করে।
২. অত্যাধিক জোয়ার বা জলোচ্ছ্বাসের হাত থেকে উপকূলের জনপদকে রক্ষা করে।
৩. জমির লবণাক্তা রোধে এ বনের বিশাল ভূমিকা রয়েছে।
৪. নদী ও সাগরের মিলনস্থলে “ডেলটা ফরমেশনে” এর মাধ্যমে স্থলভাগের পরিমাণ বৃদ্ধি করছে।
৫. পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ও দূষণ রোধে ভূমিকা রাখছে।
৬. সূর্যের অতি বেগুনী রশ্মি, কার্বনডাই অক্সাইড শোষনের বিশাল আধার হিসেবে কাজ করছে।
৭. বিভিন্ন শিল্প-কারখানার কাঁচামালের উৎস, সরকারের রাজস্ব আয়ের উৎস ও স্থানীয় লোকজনের আয়ের উৎস হিসেবে অবদান রাখছে।
৮. বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে কাজ করছে।
৯. পর্যটন শিল্পের ভাণ্ডার হিসেবেও এ বন বিশেষ ভাবে বিবেচিত হতে পারে।

অত্যাধুনিক ভাবে পর্যটন খাতকে বিকশিত করতে পারলে এ বন থেকে য়ে রাজস্ব আয় করা সম্ভব তা বাংলাদেশ সরকারের ঘোষিত বাজেটের অর্ধেকেরও বেশি হবে বলে আমরা মনে করি। যা দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়নের পাশাপাশি মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ঘটাতে পারবে।

সুন্দরবন ধ্বংসের কারণসমূহঃ
এ বন ধ্বংসের অনেক কারণ রয়েছে। এর মধ্যে প্রধান কারণ হলো মানব সৃষ্ট কারণ। নির্বিচারে গাছ কাটার ফলে এবন আজ মারাত্বক হুমকির মুখে। প্রাকৃতিক কারণ ছাড়াও আরো কিছু কারণ রয়েছে-
১. বনদস্যুদের অপতৎপরতা
২. অসাধু বনকর্মকর্তা ও স্থানীয় কিছু লোভী ব্যক্তি
৩. সরকারের উদাসীন মনোভাব
৪. প্রয়োজনীয় দক্ষ লোকবল নিয়োগ না দেওয়া।
৫. বনে অগ্নি সংযোগ
৬. বাঘ হত্যা ও হরিণ শিকার করা

আরো উল্লেখযোগ্য বিষয় হচ্ছে বিষ দিয়ে মাছ নিধন করা। আমরা জানি সুন্দরবন একটি জটিল “ইকোসিস্টেম” তথা বাস্তু তন্ত্রের মাধ্যমে গতিশীল। এর যে কোন একটি উপাদানের ক্ষতি কিংবা ধ্বংস সাধন করার অর্থ হচ্ছে সমস্ত “ইকোসিস্টেমের” ক্ষতি সাধন করা। বিষ দিয়ে মাছ নিধনের ফলে অনেক জলজ প্রাণী যেমন সরীসৃপ, কাকড়া জাতীয় প্রাণী (আর্থপ্রোডা) ও বিভিন্ন ধরনের জলজ কীটপতঙ্গ মারা যাচ্ছে এবং বিনষ্ট হচ্ছে এদের আবাস্থল। অন্যদিকে জলজ প্রাণীর উপর নির্ভরশীল বিভিন্ন প্রজাতির পাখি খাদ্যের অভাবে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। আবার কীটনাশকযুক্ত নদীর পানি জোয়ারের কারণে বনের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে। যার ফলে ঘাস, লতা-পাতা, ফলমূল না জন্মানোর কারণে তৃণভোজী প্রাণী হরিণের স্বাভাবিক প্রজনন ক্ষমতা নষ্ট হচ্ছে। স্বাভাবিক সংখ্যার হরিণ না থাকলে হরিণের উপর নির্ভরশীল বাঘের সংখ্যা কমে যাবে। এ থেকে বোঝা যাচ্ছে যে জীববৈচিত্র্যের কি পরিমাণ ক্ষতি সাধিত হচ্ছে। কীটনাশক দিয়ে মাছ নিধন হয়েছে বেশির ভাগ সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের মৃগমারী খাল নামক স্থানে (পত্রিকার তথ্যমতে)। এ সকল কীটনাশকের মধ্যে রয়েছে ফেনথিয়ন, সাইফারমেক্্িরন, পাইরিথোয়েড ইত্যাদি। বাজারে এসকল কীটনাশকের ট্রেড মার্কযুক্ত হিসেবে পাওয়া যায় লেবাসিড, রিপকড, ডায়োজিনল, সুমিথিয়ন ও মেরাথিয়ন। অল্প সময়ে অল্প খরচে অল্প পরিশ্রমে অধিকলাভবান হওয়ার জন্য এসব অবৈধ মৎস শিকারীরা এই বিপদজনক পন্থা অবলম্বন করে। এভাবে চলতে থাকলে সুন্দরবনের সমগ্র জীববৈচিত্র্য মারাত্বক হুমকির পড়বে এটা নিশ্চিত করে বলা যায়। তাই যে কোন মূল্যে সরকারকে অবশ্যই এ ধরনের বিপদজনক ও অবৈধ কর্মকান্ড বন্ধের জন্য সুদৃঢ় পদক্ষেপ নিতে হবে।
বর্তমানে সুন্দরবনে ১৫টি সক্রিয় বনদুস্য বাহিনী রয়েছে। যারা সুন্দরবনের ধ্বংসের জন্য প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে জড়িত। এ বনদূস্যদের কঠোর হস্তে দমন করতে হবে। সুন্দরবনের আরেকটি মুল্যবান সম্পদ হল রয়েল বেঙ্গল টাইগার যা বর্তমানে পৃথিবী বিখ্যাত। বিগত বছরের বাঘশুমারী অনুযায়ী বাঘের সংখ্যা ৪৪০ টি। এ সংখ্যা বর্তমানে স্বাভাবিক থাকলেও অদূর ভবিষ্যতে তা হুমকির সম্মুখীন হবে। যে কোন প্রকার বন্যপ্রাণী হত্যা কিংবা শিকার বন্ধ করতে হবে। প্রয়োজনে বন্যপ্রাণী আইন সংস্কার করতে হবে।

সুন্দরবনকে রক্ষায় নিন্মোক্ত পদক্ষেপ গুলো নেওয়া যেতে পারে-
১. সুন্দরবনকে যথাযত ভাবে পর্যবেক্ষন ও সংরক্ষণ করতে হবে।
২. জীববৈচিত্র্য রক্ষার জন্য “বন্যপ্রাণি সংরক্ষণ” আইন প্রনয়ন কিংবা সংস্কার করতে হবে।
৩. বন্যপ্রাণির প্রাচুর্যের ভিত্তিতে বনের ভিতর অভয়াশ্রম করতে হবে।
৪. সুন্দরবন সংলগ্ন স্থানীয় লোকজনের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে।
৫. বন সংলগ্ন অঞ্চলে (ঊীঢ়ড়ৎঃ চৎড়পবংংরহম তড়হবং) ঊচত প্রতিষ্ঠা করতে হবে যার ফলে বহুলোকের কর্মসংস্থান হবে।
৬. সম্প্রতি প্রস্তাবিত তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ করতে হবে।
৭. গনসচেতনতা ও শিক্ষার প্রসার করতে হবে।
৮. খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে এ বনের উন্নয়নের জন্য অত্যাধুনিক ও যুগোপযোগী বিশ্বমানের গবেষনাগার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
৯. খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেস্ট্রি এন্ড উড টেকনোলজি এবং এনভায়রনমেন্ট সায়েন্স ডিসিপ্লিনকে সুন্দরবন ব্যবস্থাপনার জন্য আধুনিকায়ন করতে হবে।
১০. লোকালয়ে বাঘ যাতে হত্যা করা না হয়, সে জন্য সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকায় পর্যাপ্ত অফিস স্থাপন করতে হবে। যাতে ট্রাংকুইলারের (যা দিয়ে দূর থেকে বাঘ অজ্ঞান করা যায়) ব্যবস্থা থাকতে হবে।
১১. অবাধে বনের মধ্যে ঢুকে গাছ কাটা বন্ধ করতে হবে। এজন্য ফরেস্ট ডিপার্টমেন্টে দক্ষ জনবল নিয়োগ দিতে হবে।
১২. সুন্দরবনকে সঠিকভাবে পর্যবেক্ষণের জন্য বিভিন্ন ব্লকে বা স্টেশনে ভাগ করতে হবে। এ জন্য ওয়াচ টাওয়ার নির্নয় করা যেতে পারে।
১৩. পর্যটন খাতকে আধুনিকায়ন করতে হবে এবং পর্যটকদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে হবে।
১৪. বনের সঠিক ব্যবস্থাপনার জন্য দক্ষ, কর্মট, সৃজনশীল, দূরদৃষ্টি সম্পন্ন, আধুনিক ও উন্নত মন মানসিকতা সম্পন্ন তরুণ বনকর্মকর্তা নিয়োগ দিতে হবে।
১৫. অতিলোভী, অসাধু ও দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের অচিরেই চাকরি থেকে বহিঃস্কার করতে হবে।

অবশেষে সকলের উদ্দেশ্যে একটি প্রশ্ন রাখতে চাই, যদি সুন্দরবনের অস্তিত্ব সঠিকভাবে না টিকিয়ে রাখতে পারি তাহলে আমরা ভোট দিবো কাকে? তাই আসুন আমরা সকল বিতর্কের উর্ধে থেকে সুন্দরবনকে শুধু ভোট দিয়ে নয়, আমাদের অস্তিত্ব প্রকাশ করার জন্য এ বনকে রক্ষা ও সংরক্ষণ করি।

***
লেখাটি প্রকাশিত হয়েছে: http://hello-today.com