ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

যেভাবেই হোক আমাদের সমাজে কিছু ধর্ষক তৈরী হয়ে গেছে যারা ধর্ষণের ঘটনা ঘটাচ্ছে – প্রথমেই এটি স্বীকার করে নেয়া ভাল।

এখানে ধর্ষণের ঘটনায় যেসব পুরুষ চরিত্র অপকর্মটি করে তাদের অধিকাংশকেই আমার আদর্শ ধর্ষক বলে মনে হয় না,যদিও আক্ষরিক অর্থেই ধর্ষণের ঘটনাটি ঘটে থাকে।

চমৎকার আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতিসহ এমন একটি দেশ যেখানে অপরাধীর শাস্তি শতভাগ নিশ্চিত করা হয় সেই রকম একটি দেশে ধর্ষণের শাস্তি “ফাঁসি” জেনেও যখন কেউ ধর্ষণ করতে এগিয়ে যায় তখন তাকে আদর্শ ধর্ষক বলা যায়।
দুঃখজনক কারণে আমাদের দেশে এর উল্টোটি ঘটতে দেখা যায়।এখানে কেউ ধর্ষণের শততম পর্ব মঞ্চায়ন করার পর সেটি ফলাও করে প্রচার করে আবার কাউকে ক্ষমতার কেন্দ্রে ঘুরাঘুরি করতে দেখা যায়,যার ফলোআপ আসে পত্রিকার পাতায় কয়েক কলামের ধর্ষণের সংবাদ হয়ে।ফলে ধর্ষকের কাছে ব্যাপারটি অনেকটা অ্যাডভেঞ্চারের মতই থেকে যায়।

আমাদের দেশে ধর্ষণের অপরাধে ফাঁসিতে ঝুলানো হয় না,কিন্তু এসিড নিক্ষেপের জন্য মৃত্যুদণ্ডের বিধান আছে।

আশির দশকে “আইন আদালত” নামে অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি অনুষ্ঠান হত যার উপস্থাপক ছিলেন এডভোকেট রেজাউর রহমান।ওই সময়ে এসিড নিক্ষেপের ঘটনা বাড়তে বাড়তে ক্রমশ আশংকাজনক পর্যায়ে চলে যায়,একজন সন্ত্রাসীর নিকট এসিড নিক্ষেপের ঘটনা তখন হয়ে দাঁড়ায় শ্রেফ “ডালভাত”

জনগনের প্রবল প্রতিবাদের মুখে তখনকার সরকার এসিড নিক্ষেপের ঘটনায় মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে আইন পাশ করতে বাধ্য হয়,পরবর্তীতে এসিড নিক্ষেপের ঘটনা শেয়ার বাজারের সূচকের মতই নিচের দিকে নামতে থাকে যার পেছনে ঐ “আইন আদালত” অনুষ্ঠানের ভূমিকা অনস্বীকার্য।

আমাদের দেশে ধর্ষণের ঘটনাও এখন হয়ে গেছে “ডালভাত”
ঘরে আগুন লাগলে আগুন কি,কিভাবে ছড়ায় এসব গবেষণার চাইতে আগুনে পানি ঢালা যেমন জরুরি ঠিক তেমনি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে আইন পাশ করা এখন সময়ের দাবী।

আইন প্রণয়ন করে কয়েকটা ধর্ষকের ফাঁসির রায় দ্রুততম সময়ে কার্যকর করা হোক তারপর দেখি কয়টা আদর্শ ধর্ষক ফাঁসির দড়ি হাতে নিয়ে ধর্ষণ করতে এগিয়ে যায়।