ক্যাটেগরিঃ স্বাধিকার চেতনা

 

ভাষণটি তিনি দিয়েছিলেন ৭ই মার্চ ১৯৭১ সনে।
ভদ্রলোকটির ভাষন দেয়ার মতন একটা গলা ছিল বটে !
এটি যেমন সত্য তার চাইতেও বড় সত্য সম্ভবত যাদের উদ্দেশ্যে তিনি ভাষণটি দিয়েছিলেন তাদের প্রভাবিত হবার মতন আবেগ ছিল যা ঐ ভাষনে প্রচণ্ডভাবে সাড়া দিয়েছিল,আর ঐ ব্যক্তিটি হলেন আমাদের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান।

তবে সবাই তো আর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব নন আর তাই সব নেতাই আম জনতাকে সমানভাবে প্রভাবিত করার ক্ষমতা রাখেন না,সেজন্যই হয়ত এদেশ স্বাধীন করতে যেখানে নয় মাস সময় লেগেছিল সেখানে এক সামরিক স্বৈরাচারকে হটিয়ে দিতে আমাদের নয় বছর সময় লেগেছে !

আমাদের এই আবেগের বিষয়টি বর্তমান আওয়ামী নেতৃত্ব নতুনভাবে টের পায় গত নির্বাচনের সময় যুদ্ধাপরাধীর ইস্যুটি নির্বাচনী মেনিফেস্টোতে যুক্ত করে আশাতীত সাফল্য লাভের মধ্য দিয়ে আর তখনই তারা এটিকে কাজে লাগানোর ধান্দা শুরু করে দেয়। যার ফলশ্রুতিতে যুদ্ধাপরাধীর বিচারে দীর্ঘসূত্রতার সমান্তরালে একের পর এক আর্থিক কেলেঙ্কারির ঘটনা সমূহ ছড়িয়ে পরতে শুরু করে বলে ধারণা করা হয়।

কুইক রেন্টাল পাওয়ার থেকে শুরু করে শেয়ার বাজার,সোনালী ব্যাংক,রেলওয়ে,ডেসটিনি,ইউনিপেটুইউ সহ অনান্য আর্থিক কেলেঙ্কারির ঘটনার মাসুল গুনতে হয়েছে আমজনতাকে আর এর বেনিফিসিয়ারিদের হয় সরকারের কাছাকাছি থাকতে দেখা গেছে নয়ত লুট কৃত টাকার শেষ গন্তব্যস্থল রয়ে গেছে লোক চক্ষুর অন্তরালে।
এসব ঘটনার যখনই প্রতিবাদ হয়েছে তখনই আমজনতাকে শুনতে হয়েছে যে তারা যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচানোর ষড়যন্ত্র করছে, অথচ এই জনতাই যুদ্ধাপরাধীর বিচার চেয়ে সরকারকে ক্ষমতায় বসিয়েছিল !

বাচ্চু রাজাকারের ফাঁসির রায় হয়েছে – শুনতে বেশ ভালই লাগে সবাই মিষ্টি বিতরণ করছে,আর আমরা ভুলে বসে আছি এর জন্য আমাদের কি মুল্য দিতে হয়েছে,কারণ একটাই …..আমরা আবেগপ্রবণ জাতি।

এখন বলা হচ্ছে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া,এটি চলতে থাকবে।

ভাল কথা, বিচার ধারাবাহিকভাবে চলবে আপত্তি নাই কিন্তু বিচারের নামে আমজনতাকে যেন ধারাবাহিকভাবে বাঁশ দেয়া না হয়।

বিচারের রায় কার্যকর করার সাথে আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে বিজয়ী করার শর্তটি যেন জুড়ে না দেয়া হয়।

গোলাম আযমসহ মতিউর রহমান নিজামী,আবদুল কাদের মোল্লা,দেলোয়ার হোসেন সাইদির রায় হওয়ার পর এই সরকারের মেয়াদ কালেই যেন তা কার্যকর করা হয়।