ক্যাটেগরিঃ স্বাস্থ্য

 

আবারো ঢামেক হাসপাতালের চিকিৎসকগণ সাংবাদিকদের ঘেরাও করে কুকুরের মতো পিটিয়েছে। ইন্টার্নী চিকিৎসকগণ মেডিকেল প্রতিবেদক ও একাধিক টিভি চ্যানেলের রিপোর্টারদের আটক করে কিল ঘুষি, লাথিমারাসহ লাঠি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেছেন।

ঢামেক হাসপাতাল সুত্র জানায়, চলতি বছরের ২৭ এপ্রিল আরিফুল হক চৌধুরী ঝিনাইদহে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হন। তাকে প্রথমে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ২৯ জুন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আনা হয়। তাকে হাসপাতালে সার্জারি বিভাগের ২১৪ নম্বর ওয়ার্ডের ৯ নম্বর বেডে সার্জারি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. শহীদ হোসেনের অধীনে ভর্তি করা হয়। গত ২০ জুলাই আরিফুলের ইন্টার্নি এক মহিলা চিকিৎসকের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়। এ ঘটনাটি অধ্যাপক শহীদ হোসেন শুনে ক্ষিপ্ত হয়ে রোগী আরিফুলকে বলেন, ‘তুই কি করিস’। কথন তিনি ঠিকাদারি করেন বলে পরিচয় দেন।এরপর অধ্যাপক শহীদ হোসেন তাকে বলেন ঠিকাদাররা সবাই চোর। এক পর্যায়ে ডাক্তার রোগী আরিফুলের দুই গালে চর-থাপ্পরসহ মারধর করেন। এসময় ঘটনাস্থলে রোগীর স্ত্রী বন্যা চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। তিনি বিষয়টি সাংবাদিকদের জানানোর পর বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকা ও একাধিক টিভি চ্যানেলে খবরটি প্রচারিত হয়। এতে চিকিৎসকদের মান সম্মানের উপর হানি আর ছানি পড়ে। ফলে শনিবার ওই ওয়ার্ডের ডাক্তার এবং ইন্টার্নি চিকিৎসকরা বিক্ষোভ মিছিল করেন এবং ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোস্তাফিজুর রহমানের কাছে স্মারক লিপি দেন।

সুত্র জানায়, উক্ত স্মারকলিপিতে বলা হয়, আইন প্রণয়নের মাধ্যমে সাংবাদিকদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা দাবি জানানো হয়। অন্যথায় চিকিৎসকরা হাসপাতালের কর্মবিরতির ঘোষণা করার কথা জানিয়েছেন।

রোববার সকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে চিকিৎসকদের সমস্যা সমাধানের উদ্দেশ্যে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সভা কে এক আলোচনা সভার আয়োজন করেন ডাক্তাররা। সভা শেষে সকাল ৯টায় ইন্টার্নি এবং বহিরাগত সন্ত্রাসীরা ব্যানার নিয়ে মিছিল সহকারে সাংবাদিকদের ওপর হামলা করে। তারা জরুরি বিভাগের সামনে রাখা সংবাদপত্রের গাড়ি ল্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ ও ভাংচুর করে। একপর্যায়ে একুশে টেলিভিশনের সাংবাদিক মুজাহিদ হাসানকে ঘেরাও করে আটকের পর তাকে পিটিয়ে তার হাত-পা ভেঙে দেয়। তাকে উদ্ধার করতে গিয়ে আরো ৭/ ৮ জন সাংবাদিক হামলার শিকার হন। এসময় সাংবাদিকদের দেখলেই উত্তেজিত হয়ে তাদেরকে আটকের পর মারধর করা হয়। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ উর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাগণ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

ভুক্তভোগীরা জানান, হাসপাতালের চিকিৎসকগণ সাংবাদিকদের তৎপরতার কারণে ওষুধ চুরি, রোগি বাইরে নেওয়া, বাহির থেকে ওষুধ কিনে আনা, স্যালাইন চুরিসহ বিভিন্ন অনিয়ম বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে চিকিৎসকরা সাংবাদিকদের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে ছিল। আর এজন্যই রোববার পূর্ব পরিকল্পিতভাবে সাংবাদিকদের উপর হামলা চালিয়েছে।

###