ক্যাটেগরিঃ ব্যক্তিত্ব, হুমায়ূন আহমেদ স্মরণে

 

নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ মৃত্যুর রহস্য আস্তে আস্তে প্রকাশ হতে যাচ্ছে। এই সাহিত্যিকের ভক্তদের মাঝে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করতে ছিল, যে তাকে পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছে!। অবশ্য নিউওয়ার্কসহ দেশী বিদেশী বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় তাকে খুন করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনও প্রকাশ করা হয়েছে।

আর সেই প্রতিবেদনের আলোকে হুমায়ূন আহমেদকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগে চট্টগ্রামের সিএমএম আদালতে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় তার স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন ও অন্যপ্রকাশের সত্ত্বাধিকারী মাজহারুল ইসলামকে আসামি করা হয়েছে।

কথা সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের ভক্ত নজরুল ইসলাম নামে এক আইনজীবী বুধবার সকালে চট্টগ্রামের মুখ্য মহানগর হাকিম নিজামুল হকের আদালতে এ মামলাটি দায়ের করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পুলিশের অপরাধ তদন্ত (সিআইডি) বিভাগের চট্টগ্রাম অঞ্চলের সহকারী সুপারকে বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

বাদী নজরুল ইসলামের আইনজীবী কামরুল ইসলাম সাজ্জাদ বর্তা সংস্থা ‘বার্তা-২৪’ডটকম-কে জানিয়েছেন, হুমায়ূন আহমেদের অর্থ আত্মসাতের উদ্দেশ্যে তার স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন ও অন্যপ্রকাশের সত্ত্বাধিকারী মাজহারুল ইসলাম পরিকল্পিতভাবে পরস্পরের যোগসাজশে হত্যার হত্যা করেছেন বলে বাদি অভিযোগ করেছেন।

গত ১৯ জুলাই নিউইয়র্কে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ক্যান্সারে আক্রান্ত হুমায়ূন আহমেদ অস্ত্রোপচার-পরবর্তী জীবাণু সংক্রমণে (ইনফেকশন) মারা যান। সেখানে জানাজা শেষে গত ২৩ জুলাই সকাল ০৮ টা ৫৫ মিনিটে তার মরদেহ ঢাকায় আনা হয়। শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে মরদেহ সরাসরি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নিয়ে যাওয়া হয় হলে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদন ও জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে নামাজে জানাজা শেষে তার লাশ বারডেম হাসপাতালে হিমঘরে রাখা হয়। গত ২৩ জুলাই রাতভর পরিবারের সদস্যদের মধ্যে চলে হুমায়ূন আহমেদের দাফন নিয়ে একের পর এক বৈঠক। হুমায়ূনের মা আয়েশা ফয়েজ ও তিন সন্তান নোভা, শীলা ও নুহাশ তাকে ঢাকায় দাফন করার কথা বললেও তাতে বাধ সাধেন হুমায়ূনের স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন। তার বাবা সরকার দলের প্রভাবশালী ব্যক্তি ও মা সংসদ সদস্য। তারা দু’জনই প্রভাব খাটাতে থাকেন মেয়ের পক্ষে শুধু তাই হুমায়ূন আহমেদের লাশ দাফন নিয়ে শাওনের বাবা আদালতে যাওয়ার কথা বলেন। কিন্তু মায়ের আদর্শের কারণে হুমায়ূন আহমেদের সন্তানেরা পরাজয় বরণ করেন। ফলে শেষ পর্যন্ত শাওনের ইচ্ছারই জয় হয়। শাওনের ইচ্ছায় ২৪ জুলাই তাকে দাফন করা হয় গাজীপুরের নুহাশ পল্লীতে।

অপর দিকে ‘হুমায়ূন আহমেদের মৃত্যুর পর থেকেই নিউইয়র্কে ও পরে দেশে তার মৃত্যু নিয়ে নানা ধরনের বিতর্ক সৃষ্টি হতে থাকে। অনেকেরই অভিযোগ পারিবারিক অবহেলায় মৃত্যু হয়েছে হুমায়ূন আহমেদের। তারই জের ধরে বুধবার চট্টগ্রামের আদালতে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে বলে বাদী আইনজীবী নজরুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানিয়েছেন। ###

সূত্র: বার্তা-২৪ ডটকম ও বাংলা নিউজ