ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

গোপীবাগের পীরসহ সিক্স মার্ডার: ৬ মাসেও কেউ গ্রেফতার হয়নি

আব্দুল লতিফ রানা : চাঞ্চল্যকর রাজধানীর গোপীবাগে ৬ খুনের ছয় মাসেও কোনো রহস্য উদ্ঘাটন করতে পারেনি গোয়েন্দা পুলিশ। মামলাটি এখন ফাইল বন্দি অবস্থায় রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন মামলার বাদি।

এ খুনের সঙ্গে জড়িতরা উগ্রপন্থী ধর্মীয় কোনো সংগঠনের সদস্য হতে এমন তথ্য গোয়েন্দারা জানান, পরও পুলিশ দীর্ঘ ৬ মাসেও কোনো আসামিকে গ্রেফতার করতে পারেনি।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনার (পূর্ব) জাহাঙ্গীর হোসেন মাতবর শনিবার বলেন, চাঞ্চল্যকর মামলাটির ব্যাপারে তেমন কোনো অগ্রগতির তথ্য নেই।

তবে ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহ করা হচ্ছে। তাদেরকে গ্রেফতারের আমরা গ্রেফতারের চেষ্টা করছি। আর হত্যার ঘটনায় কোনো ক্লু পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে তদন্ত কাজের তেমন কোন অগ্রগতি হচ্ছে না।

গত ২০১৪ সালের ২১ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় রাজধানীর গোপীবাগের রামকৃষ্ণ মিশন রোডের ৬৪/৬ নম্বর বাসার দোতলায় কথিত পীর ও ইমাম মাহদীর সেনাপতি পরিচয়দানকারী লুৎফর রহমান ফারুক ও তার ছেলে মনির হোসেনসহ ৬ জনকে জবাই করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।

খুন হওয়া অন্য চারজন হলেন লুৎফরের মুরিদ সাইদুর রহমান (৩০), মজিবর রহমান (৩২) ও রাসেল আহমেদ (৩০) এবং ওই বাসার তত্ত্বাবধায়ক মঞ্জুর আলম ওরফে মঞ্জু।

হতাকা-ের ঘটনার দিন ওই বাসায় তার ছোট ছেলে আব্দুল্লাহ আল ফারুক উপস্থিত না থাকায় তিনি প্রাণে রক্ষা পান। ঘটনার পরেরদিন অজ্ঞাত ১০-১২ জনকে আসামি করে ওয়ারী থানায় তিনি হত্যা মামলা দায়ের করেন। বর্তমানে মামলাটি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (পূর্ব বিভাগ) তদন্ত করছে।

সুত্র জানায়, কথিত পীর ইসলাম ধর্মের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বিভিন্ন মতবাদ প্রচার নিয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দাদের সাথে বিতর্কে জড়িয়ে পড়তেন। এতে একটি ধর্মীয় উগ্রপন্থী কোন সংগঠনের সদস্যরা ক্ষুব্ধ হয়ে তাকেসহ তার মুরিদদের জবাই করে হত্যা করে।

আর হত্যাকা-ের আগে নগরীর সুত্রাপুরসহ বিভিন্ন এলাকার লোকজন তার উপর চড়াও হয়। এতে তিনি কয়েক থানায় সাধারণ জিডিও করেছেন।

এছাড়া, তার মতবাদের বিরোধ নিয়ে একাধিকবার তাকে সুত্রাপুর থানা ও গোয়েন্দা পুলিশ আটক করে। ওই সব মামলার ঘটনার সাথে তাকেসহ ৬ খুনের ঘটনাটির সম্পর্ক রয়েছে বলে অনেকেই মনে করছেন।

মামলার বাদী আব্দুল্লাহ আল ফারুক জানান, ৬ খুনের মামলার পরে অসংখ্যবার পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। পুলশের কাছে আমরা সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের নাম পরিচয় দিয়েছি। কিন্তু পুলিশ সামান্যতম তৎপরতা দেখাচ্ছে না।
তিনি আরো বলেন, পুলিশের আসামিদের গ্রেফতার করার ইচ্ছা নেই। সন্দেহভাজন যাদের নাম-পরিচয় দেওয়া হয়েছে, তাদের গ্রেফতার করলে মূল আসামিদেন গ্রেফতার করতে পারতো।

গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনার জাহাঙ্গীর হোসেন মাতব্বর আরো জানান, ৬ খুনের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে কয়েকজনকে সন্দেহভাজন হিসিবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাদেরকে গ্রেফতারের চেষ্টা করা হচ্ছে। তাদেরকে গ্রেফতার করা হলেও হত্যাকা-ের প্রকৃত কারণ ও প্রকৃত খুনিদের সনাক্তপূর্বক গ্রেফতার করা হবে।####