ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

কুমিলা জেলার চান্দিনা থানার চাদসার গ্রামের আব্দুস সাত্তারের মেয়ে মাহিনুর আক্তার (১৯) কে গনধর্ষণের পর মুখে বিষ ঢেলে হত্যা করা হয়েছে। নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, মাহিনুর হত্যাকান্ডের ঘটনা ধামাচাপা দিতে পুলিশ ও স্থানীয় প্রভাবশালীরা মরিয়া হয়ে উঠেছে। নিহতের পরিবার থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা রেকর্ড না করে নানা ধরনের হুমকী দিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং টাকা দাবি করছেন। পরে আদালতে মামলা দায়ের করা হলেও পুলিশ আসামীদের ধরতে আগ্রহ দেখাচ্ছে না। এমনকি মামনা তদন্ত রিপোর্ট পর্যন্ত বদলের চেষ্টা করা হচ্ছে।

গতকাল রোববার দুপুরে সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশন (ক্র্যাব) কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নিহত মাহিনুর আক্তারের পরিবার লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ করেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নিহতের বড়বোন জোসনা বেগম। এসময় তার মা হনুফা বেগম ও ভগ্নিপতি মিলন উপস্থিত ছিলেন। জোসনা বেগম বলেন, তার বোনের ২০১০ সালে পাশের গ্রামে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের ২ মাস পরেই তার স্বামী সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান। এরপর স্বামীর বাড়ি থেকে মাহিনুর আমাদের বাড়িতে চলে আসলে প্রতিবেশী দিদার হোসেন মাহিনুরের প্রতি অশালিন অঙ্গভঙ্গি ও প্রেম নিবেদন করতে থাকে। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। জানাজানি হলে মাহিনুরের পরিবার এতে বাঁধা দিলে সন্ত্রাসী দিদার ও তার সহযোগিরা প্তি হয়ে ভয়ভীতি দেখাতে থাকে। গত ২৩ এপ্রিল রাতে মাহিনুরকে দিদার তার বাড়িতে থাকার কথা বলে ডেকে নেয়। পরে দিদার ও তার সহযোগী সাহজাহান, ভাই ইব্রাহিম,শরিফসহ ৪/৫ সহযোগি সেখানে মাহিনুরকে জোরপূর্বক পালাক্রমে ধর্ষণ করে। এতে তার অবস্থা খারাপ হলে দিদারের মা ফাতেমা বেগম মাহিনুরের অবস্থা খারাপ বলে তার পরিবারকে খবর দেয়। পরে মাহিনুরের মা, বাবা ও বোন দিদারের বাড়িতে গিয়ে তার রক্তাত্ব ও মুখে পাউডার জাতীয় বিষ দেওয়া অবস্থায় উদ্ধার করেন।

জোসনা বলেন, তখন মাহিনুর তাদের জানায় দিদার ও তার সহযোগিরা তাকে পালাক্রমে ধর্ষণের পর মুখে বিষ ঢেলে দিয়েছে। পরে তাকে বড়–য়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে সেখানে অবস্থার অবনতি ঘটে। রাতেই তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক মাহিনুরকে মৃত ঘোষণা করেন।

তিনি আরো বলেন, কুমিল্লা জেনারেল হাসপাতাল থেকে মাহিনুরের লাশ নিয়ে সন্ত্রাসী দিদারের বাড়িতে,গেলে দিদারসহ তার বাড়ির লোকজন পালিয়ে যায়। পরে চান্দিনা থানায় ধর্ষণ ও হত্যা মামলা দায়ের করতে গেলে পুলিশ মামলা না নিয়ে সাদা কাগজে জোসনার সার নিয়ে মাহিনুরের লাশ মর্গে পাঠায়। পুলিশ মাহিনুর হত্যা মামলার পরিবর্তে অপমৃত্যুর মামলা রেকর্ড করেন। পরে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়। কিন্তু পুলিশ আসামিদের গ্রেফতার করছে না। আসামিদের গ্রেফতারের নামে ওসি ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নিহতের স্বজনদের কাছে টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

এ ব্যাপারে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে চান্দিনা থানার ওসি গোলাম মুর্শেদ বলেন, সুরতহাল রিপোর্টে গণধর্ষনের কথা উল্লেখ রয়েছে। ময়না তদন্ত রিপোর্ট হাতে পেলে সবকিছু পরিস্কার হয়ে যাবে। তিনি ঘটনা ধামাচাপা চেষ্টা ও টাকা নেয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।##